ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বারদের অপসারণ বাতিলের দাবি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:১৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বারদের অপসারণ বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০২৪ ১:৪৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০২৪ ১:৪৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বাংলাদেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অপসারণ না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা।

সোমবার (২১ অক্টোবর) বেলা ১১টার পর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে এই মানববন্ধন দেন বক্তারা। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম (বিইউপিএফ) এবং চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সকল সমমনা সংগঠনের ব্যনারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

চেয়ারম্যান আজিজুল বলেন, আজ ইউনিয়ন পরিষদের সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। আপনারা জানেন মানুষ সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। আজ পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ চলছে, নৌবাহিনী বিমান বাহিনীতে নিয়োগ চলছে। তাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিভিন্ন ধরনের সনদপত্র দিতে হয় আমাদের। তারা কিন্তু বর্তমানে এই সেবা পাচ্ছে না। তারা খুব কষ্টে আছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করবো৷ যাতে ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে না দেয়া হয়। আমরা যাতে আগামী তিনটি বছর এই সরকারকে সহযোগিতা করতে পারি। যার ফলে এই সরকার দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

মো. জাকির আলম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে দিলে দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং জনগনের সেবা মুখ থুবড়ে পরবে। এই যৌক্তিকতার আলোকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে আমরা বাংলাদেশ ইউনিয়ন অ্যসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানাতে চাই ইউনিয়ন পরিষদ না ভেঙে আমাদেরকে পূর্ণ মেয়াদে দ্বায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়ার জন্য বর্তমান সরকারের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় বাংলাদেশের যে অশান্তি যে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হবে তার জনরোষ বর্তমান সরকারের উপরে পড়বে।

তিনি বলেন, আমরা বর্তমান সরকারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা চাই বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করতে। আমরা আশা রাখছি ঢাকা থেকে হাজার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার চেয়ারম্যান ঢাকায় এসেছে। তারা বর্তমান সরকার থেকে আশা নিয়ে ফিরে যেতে চায়।

আন্দোলনকারী চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী কাঠামো। স্বাধীনতার পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশের এ প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি সাধারন জনগনের আশা ও ভরসার আশ্রয়স্থল। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সকল জনগণকে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকে। গত ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বৈরাচারী সরকার নিজের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রয়াসে সর্বজন স্বীকৃত একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক দলের প্রতীক দিয়ে নির্বাচন করিয়ে প্রাচীন এ প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করেছেন। বাংলার স্বাধীন চেতা মানুষ স্বৈরাচার সরকারের এই অপকৌশল ও অপশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দূর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে চলতি বছরের ৫ই আগষ্ট স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটায়। স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর ধবংস প্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে সর্বজন নন্দিত অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার আপনার নেতৃত্বে গঠিত হয়। জনপ্রিয় অন্তবর্তিকালীন সরকারের স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা অজ্ঞাত কারনে প্রাচীন এই জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানটি ভেঙ্গে দেওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এ কাঠামো ভেঙ্গে অগণতান্ত্রিক উপায়ে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার যে, রুপ রেখা দাড় করিয়েছেন বাংলার মানুষের আশা ভরসার আশ্রয় স্থলে কুঠারাঘাত করেছেন। এই কাঠামো ভেঙ্গে আমলাতান্ত্রিক উপায়ে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করলে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ আশাহত হবেন। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও চেয়ারম্যান এর স্থলে আমলাতান্ত্রিক ভাবে পরিচালিত হলে তা গ্রহনযোগ্য হবে না।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও চেয়ারম্যানরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। ইউনিয়ন পরিষদ কাঠামো ভেঙ্গে দিলে দেখা যেতে পারে সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা। ৫ই আগষ্ট পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলা ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছিল ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও চেয়ারম্যানরা অর্ন্তবর্তীকালীণ সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিন রাত কঠোর পরিশ্রম করে জনগনের জান মালের নিরাপত্তা দিয়েছেন। তবে যে সকল ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ ছাত্র জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হউক।

কিন্তু এ অবস্থায় সকল ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙ্গে দিলে অর্ন্তবর্তী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে এবং জনমনে অসন্তোষ দেখা দেবে। ফলে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এ সরকার গঠিত হয়েছিল তা অর্জিত হবে না। আমরা আপনার নেতৃত্বে অন্তবর্তী সরকারের সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করতে চাই। আপনার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রমে সর্বসম্মত ভাবে সমর্থন অব্যহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

উপরোক্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ঘুম ব্যতিত সার্বক্ষনিক সেবা প্রদান করে আসতেছি। বিধায় জনগনের দোরগোড়ায় সেবা নিশ্চত করণের লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিধিদের বিলুপ্ত বা অপসারণ না করার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ