ঈদুল ফিত‌রের ৯ থে‌কে ১০ দিন বা‌কি থাক‌তেই জমে উঠেছে ফুটপাতের মা‌র্কেট - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৮:২১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঈদুল ফিত‌রের ৯ থে‌কে ১০ দিন বা‌কি থাক‌তেই জমে উঠেছে ফুটপাতের মা‌র্কেট

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ১, ২০২৪ ২:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, এপ্রিল ১, ২০২৪ ২:০৪ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ঈ‌দের কেনা কাটায় ধ‌নি‌দের জন‌্য বড় বড় শ‌পিংমল থাক‌লেও গ‌রিব‌দের জন‌্য ফুটপা‌তের মা‌র্কেট। তুলনামূলক অল্প দামে পছন্দের পোশাক, গয়না, জুতা, স্যান্ডেল, অন্য প্রসাধনীসহ পছন্দের পণ্য পাওয়া যায় ব‌লে গ‌রিবদের জন‌্য এই ফুটপা‌তের মা‌র্কেটই এক মাত্র ভরসা। তাই তারা এখন ভিড় করছেন ফুটপাত ও খোলা জায়গায় বসানো অস্থায়ী দোকানগুলোতে। যার কার‌ণে ঈদুল ফিত‌রের ৯ থে‌কে ১০ দিন বা‌কি থাক‌তেই জ‌মে উ‌ঠে‌ছে রাজধানীর ফুটপা‌তের মা‌র্কেট গু‌লো।

র‌বিবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তান, শ‌নিরআখড়া জিয়া সরণ‌ি রো‌ড়ে ও জুরাইনে মূলত নিম্ন আয়ের লোকজনকে কেন্দ্র করে এ এলাকায় রাস্তার পাশে ফুটপাতে প্রচুর দোকান খোলা হয়েছে।

সরজমি‌নে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অস্থায়ী দোকানগুলোতে কেউ চৌকি পেতে, কেউ কাঠের টেবিল বা ভ্যানের ওপর, কেউ হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে, আবার কেউ চাদর বিছিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাকের সঙ্গে প্রসাধনী সামগ্রী সাজিয়ে রেখেছেন। সে সব দোকান থে‌কে দাম ধ‌রে ক‌রে বাচ্চা বা নি‌জে‌দের জন‌্য জামা কাপুর কিন‌ছেন ক্রেতারা। কম বাজেটের মধ্যে ক্রেতাদের পছন্দ হয় এমন বাহারি নকশা ও রঙের সব পোশাকের সংগ্রহ রয়েছে ফুটপাতের দোকানেও। তাই ক্রেতাদের কোনো না কোনো জিনিস পছন্দ হচ্ছে আর কিনেও নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈ‌দের আরও বেশ কিছু দিন বা‌কি আ‌ছে। আমরা রমজা‌নের প্রথম দি‌কেই নতুন নতুন জামা এ‌নে‌ছি। আমা‌দের এখান থে‌কে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি অনেক নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত লোকজনও কেনাকাটা ক‌রে।

মেয়েদের পোশাক, শিশুদের পোশাক, প্রসাধনী, পুরুষদের পোশাক যেমন- জিনস ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, ট্রাউজার, জুতা, বেল্ট, ক্যাপ, লুঙ্গি, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রদর্শন করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা। অ‌নেক দোকানী আবার জো‌রে জো‌রে দাম ব‌লে ক্রেতা‌দের আকৃষ্ট কর‌ছে।

গু‌লিস্থা‌নের সুমন না‌মের এক দোকানী গে‌ঞ্জি ১০০ টাকা ব‌লে জো‌রে জো‌রে দাম হাকা‌চ্ছেন তি‌নি ব‌লেন, ঈদ‌কে সাম‌নে রে‌খে ক্রেতা বে‌ড়ে‌ছে। জো‌রে জো‌রে দাম বল‌লে ক্রেতা বেশী পাওয়া যায় কিনা জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন, দাম ব‌লে দি‌য়ে ক্রেতাদের আর দাম বল‌তে হয় না তারা এ‌সে টাকা দি‌য়ে নি‌য়ে যায়। আবার একটু দু‌রে মানুষ শুন‌তে পা‌রে দাম ঠিক ম‌নে হ‌লে এ‌সে পছন্দ ক‌রে কি‌নে নি‌য়ে যায় এ‌তে বিক্রি বেশী হয়।

সেই দোকান থে‌কে একশত টাকা ক‌রে দু‌টি গোল গোলা গে‌ঞ্জি কিন‌লেন মামুন তি‌নি ব‌লেন, আ‌গে বা‌গে কেনা কাটা করতা‌ছি গ্রা‌মের বা‌ড়ি চ‌লে যা‌বো ব‌লে। দাম কেমন জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন মা‌র্কেট গু‌লো‌তে যাওয়া যায় না তবে এবার গু‌লিস্তা‌নের ফুটপা‌তেও দাম অ‌নেক বেশী বাড়ি‌য়ে‌ছে। গত বছর যেটা তিনশত টাকা দি‌য়ে কি‌নেছি এবছর সেটার দাম ৫০০ টাকা হ‌য়ে‌ছে ত‌বে গোল গোলার গে‌ঞ্জি বা টি শার্ট এর দাম বা‌ড়ে‌নি।

সেখানকার বেশিরভাগ ক্রেতারা বলেছেন, তারা ফুটপাতের স্টলে কেনাকাটা করছেন। কারণ শপিংমলে জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি।

হাসান না‌মের একজন বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রতিটা জিনিসের দাম একটু বেশি। তারপরও মার্কেটের তুলনায় এখানে জিনিসের দাম অনেক কম।

ফুটপাতে দোকান সাজিয়ে বসা মস‌লেম উ‌দ্দিন জানান, কিছুদিন আগে বেচা-বিক্রি অ‌নেক কম ছি‌লে ত‌বে ১০/১২ রমজান থে‌কে বেচা বি‌ক্রি বেশ বেড়েছে। বা‌কি দিন গু‌লো আরও বেশী বেচা বি‌ক্রি হ‌বে।

ত‌বে ভিন্ন কথা বল‌লেন শ‌নিরআখড়ার ফুটপা‌তের প‌্যান্ট বি‌ক্রিতা ত‌মিজ উদ্দিন। তি‌নি বলেন, শ‌নিরআখড়া এই মা‌র্কেট গু‌লো‌তে ম‌হিলা‌দের জি‌নিস বেশী বি‌ক্রি হয় ছে‌লে‌দের জি‌নিস কমই বি‌ক্রি হয়। তাহ‌লে মে‌য়ে‌দের জি‌নিস বা‌দে ছে‌লে‌দের জি‌নি‌সের দোকান দি‌লেন কেন জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন, ছে‌লে‌দের দোকান কম ভাবলাম দোকান দি‌লে ভা‌লো চল‌বে। ত‌বে যা বি‌ক্রি হ‌চ্ছে আলহামদু‌লিল্লাহ ।

বিভিন্ন ফুটপাত ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে শিশুদের জন্য ডেনিম (জিন্স) প্যান্ট ১০০ থেকে ২৫০ টাকা, অন্য প্যান্ট ৩০ থেকে ৬০, বড়‌দের প্যান্ট ৪০০ থে‌কে ১ হাজার বিক্রি করা হচ্ছে। শিশুদের ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, ওয়ান পিস ১৫০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

মেয়েদের থ্রি-পিস ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, টপস ও ওয়ান পিস ২৫০ থেকে ৩৫০, পার্টি ড্রেস ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০, স্যান্ডেল ও জুতা ১৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ