ঈদে মিলাদুন্নবীর চেতনা ধারণেই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব: সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:৪৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ঈদে মিলাদুন্নবীর চেতনা ধারণেই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব: সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ৯, ২০২২ ১:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, অক্টোবর ৯, ২০২২ ১:৫৮ অপরাহ্ণ

 

ঈদে মিলাদুন্নবীর চেতনা ও তাৎপর্য ধারণ, লালনের মধ্য দিয়েই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম হযরত শাহ সূফী সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানীর (মা.জি.আ.)। ঈদে মিলাদুন্নবীর (দ.) শোভাযাত্রা ও শান্তি মহাসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রবিবার (৯ অক্টোবর) সকালে আহমদ আল-হাসানীর নেতৃত্বে লাখো নবীপ্রেমী জনতার উচ্ছ্বাসমুখর অংশগ্রহণে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাজধানীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে জশনে জুলুস (ধর্মীয় শোভাযাত্রা) বের হয়েছে। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, মৎস ভবন, দোয়েল চত্বর হয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে মিলিত হয়।

সভায় তিনি বলেন, মহানবীর (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমন জগৎবাসীর জন্য আল্লাহ পাকের বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ। প্রিয়নবীর (দ.) শুভাগমন না হলে সৃষ্টি জগৎ অস্তিত্বই লাভ করতো না। রাসূল (দ.) দুনিয়ায় শুভাগমনের মূল উদ্দেশ্যই হলো একটি শান্তি ও সহাবস্থানপূর্ণ মানবিক বিশ্ব সমাজ গড়ে তোলা।

তিনি আরো বলেন, আজ সিরিয়া, ফিলিস্তিন, মিয়ানমারসহ তাবত দুনিয়া যুদ্ধ সংঘাত ও রক্তপাতে জর্জরিত। শক্তিধর দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে অস্ত্রের ভাষায় কথা বলছে। নিষেধাজ্ঞা পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ খাদ্য জ্বালানি সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত।

এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে মহানবীর (দ.) আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। মদিনার সনদের আলোকে কিভাবে সমতাভিত্তিক, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক আধুনিক কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন করা যায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে রাসূলই আমাদেরকে দেখিয়েছেন। প্রিয়নবী (দ.) ছিলেন পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র নায়ক।

শোভাযাত্রার অগ্রভাগেই একটি ব্যানার দেখা যায়। দৃষ্টিনন্দন সেই ব্যানারে বড় বড় হরফে লেখা ছিল ‘ইয়া নবী ছালামু আলাইকা’, ‘ইয়া রাসূল ছালামু আলাইকা’। আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভান্ডারীয়ার ব্যবস্থাপনায় জশনে জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা কলেমা খচিত পতাকা, প্লেকার্ড, ফেস্টুন ছাড়াও, বহন করে বাংলাদেশের বিশাল জাতীয় পতাকা।

এ সময় তারা নারায়ে তাকবির, নারায়ে রেসালতের স্লোগানে স্লোগানে রাজধানীর রাজপথ মুখরিত করে তোলে। দেশ বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে জুলুসে আসা সূফিবাদী জনতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে মিলিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী।

পীরজাদা মুফতী মাওলানা বাকী বিল্লাহ আল আযহারী, মুফতী মাওলানা এইচএম মাকসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ১৪ দলীয় সমন্বয়ক ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, অ্যাড. নূরুল আমিন রুহুল।

আরও উপস্থিত ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহজাদা সাইয়্যিদ মেহবুব-এ-মইনুদ্দীন আল-হাসানী, কার্যকরী সভাপতি শাহজাদা সাইয়্যিদ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল-হাসানী, আমেরিকার আন্তর্জাতিক ইসলামিক স্কলার ড. শেখ আহমদ তিজানি বিন ওমর, মরক্কোর মো. লাকদার দারফুফি, তুরস্কের সাইয়্যিদি মোহাম্মদ ইএল হোসাইনী, অধ্যাপক ড. রফিকুল আলম প্রমুখ।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ