উকিল আব্দুস সাত্তারের রাজনীতিতে কলঙ্কজনক পথযাত্রা - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৩৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

উকিল আব্দুস সাত্তারের রাজনীতিতে কলঙ্কজনক পথযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৩ ৬:১০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জানুয়ারি ৪, ২০২৩ ৬:১০ অপরাহ্ণ

 

বেলাল উদ্দিন সরকার তুহিন

দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের জন্য বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশে সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়াকে সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আদালতে মামলার হাজিরা দিতে গিয়েছিলাম। সেখানে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার প্রসঙ্গটি বারবার উঠে এসেছে।

হঠাৎ তিনি এ কাজটি করেননি। অতি লোভ, ক্ষমতার প্রতি দুর্নিবার আকাঙ্খা, তার ছেলে তুষারের কুমন্ত্রণায় অনৈতিক সুযোগ সুবিধা পাবার আশায় এ কাজটি করেছেন। তা এখন মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ধানের শীষ প্রতীক পাবার কারণে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির ২৫ বছর সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া। কিন্তু সরাইল উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি যুবদল, ছাত্রদলসহ সকল অঙ্গ সংগঠন, সংবাদ সম্মেলন করে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। এরপরেও আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে সরাসরি কোন মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়টি চূড়ান্ত বিশ্লেষণমূলক ধারণা পাওয়া যায় যে অতীব লোভ, ক্ষমতার আকাঙ্খা, তার বখাটে ছেলের অনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে এ ধরনের দল বিরোধী, গঠনতন্ত্র বিরোধী ও বিএনপির মূল বিশ্বাসকে উপেক্ষা করেছে। সর্বোপরি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিএনপির পক্ষে যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, এই গণজাগরণে একজন আঞ্চলিক নেতা হিসাবে আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার এ ধরনের চক্রান্তমূলক গর্হিত এবং সম্পূর্ণ গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী কাজটি আমাদেরকে স্তম্ভিত করেছে।

তিনি বয়োঃবৃদ্ধ, এখন দলের শুভাকাঙ্খী হিসেবে জীবনের শেষ সময়টুকু দলের জন্য অবদান রাখলে সরাইল উপজেলা বিএনপি চিরকাল মনে রাখতেন। শেষ জীবনে তার এই বিশ্বাসঘাতকতা, হটকারী সিদ্ধান্ত, দলের বিরুদ্ধে সরাসরি চলে যাওয়া এবং অনৈতিক লাভ এবং লোভের আশায় সারাজীবনের অর্জিত মানুষের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হলেন। আমাদের জেলা বিএনপিকে কিছুটা হলেও কলঙ্কিত করলেন।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া বিএনপিতে একজন গাদ্দার হিসেবে পরিচিত। দলের দুর্দিনে সরাসরি দেশনেত্রী বেগম খালেদার বিপক্ষে চলে গিয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি বিএনপি সদস্যপদ পাননি; দলীয় অফিসের সামনে তাকে জানাজা দিতে দেওয়া হয়নি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহি বি চৌধুরীর অতিরিক্ত লোভ, দুর্নিবার আকাঙ্খার কারণে রাজনৈতিক অমরত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম শাহ আজিজুর রহমান বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর পূর্বে দলের সদস্যপদ পাবার আকাঙ্খায় হাসপাতালের বিছানায় চিৎকার করতেন।

স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় মরহুম অধ্যাপিকা জাহানারা বেগম জিয়ার সহযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৮৫-৮৬ সালে বিএনপির চেয়ারম্যান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি গঠন করার লক্ষ্যে সারাদেশে বড় বড় সমাবেশ করতেন। গোলাপ শাহ মাজারের সামনে বেগম জিয়া ঐতিহাসিক ভাষণ দিতেন। তখন আমি অধ্যাপিকা জাহানারাকে বেগম জিয়ার পাশে বসা থাকতে দেখতাম। ওই সময় সমাবেশগুলোতে আমার যাবার সুযোগ হয়েছিল।

অধ্যাপিকা জাহানারাকে বেগম জিয়া মন্ত্রী বানালেন। গাড়িতে পতাকা দিলেন। ওই পতাকাসহ অধ্যাপিকা জাহানারা এবং আলমগীর কবীর বিকল্পধারায় যোগদান করলেন। মৃত্যুর আগে তার আকুতি ছিল বিএনপি করার জন্য, এই সুযোগ তাকে দেওয়া হয়নি। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সাথে দেশপ্রেমিক মীর মদন ও মোহন লাল ছিলেন। তারপরও আত্মীয় সেনাবাহিনীর প্রধান মীরজাফর আলী খান ছিলেন।

আমার চোখের দেখা, ওয়ান ইলেভেনের সময় আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, মরহুম সাইফুর রহমান, মেজর হাফিজ উদ্দিনরা বলেছিলেন যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব আছেন। আমরা ১২১ জন এমপি ঐক্যবদ্ধ হয়েছি সংস্কারের পক্ষে, দেশনেত্রীকে সরানোর জন্য। তারা কিন্তু সফল হননি।

আমি ঢাকা শহরে ৩৭ বছর থাকি। বিএনপির অগ্রযাত্রা, দেশ শাসন, তৃণমূলের চমৎকার মেলবন্ধন এবং বেঈমান রাজনীতিবিদদের আসল চরিত্র ও দুঃখের সাথে অবলোকন করছি। এক সময়ে সংবাদ সংস্থার রিপোর্টার হিসেবে বিএনপি বিট করতাম। বহু জাতীয় নেতার ইন্টারভিউ নিয়েছি। লক্ষ্য করেছি, বিএনপিতে বেঈমানদের স্থান নেই। সাময়িক সময়ের জন্য তারা সফল হন। প্রকৃতপক্ষে দলের তৃণমূলের আকাঙ্খা যারা ধ্বংস করতে চায়, তারা পরাজিত হন ঘৃণার আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হন।

বাঞ্ছারামপুরে শহীদ নয়নের লাশ একদিকে রাখেন; অন্যদিকে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার জীবন্ত ব্যক্তিটি তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীর সামনে উপস্থাপন করুন। দেখবেন শহীদ নয়নের লাশ ফুলে ফুলে সুশোভিত হবে। তারটা আর বললাম না। ফিনিক্স পাখি যেমন ছাই থেকে আবার একটি নতুন পাখির জন্ম দেয়। বিএনপিও তেমন একটি দল। কর্মীরা তারেক রহমানের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকেন। জীবন যৌবন বিলিয়ে দিচ্ছেন গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সাংবিধানিক শাসন, ভোটাধিকারের জন্য।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও অন্য অঙ্গ সংগঠনসমূহের তেজদীপ্ত কর্মীরা বিপুল উৎসব উদ্দীপনার মাধ্যমে রাজপথে বহমান। তাদের কর্মের উত্তাল ঢেউয়ের কাছে বেঈমানরা পরাজিত হবেন। ইতিহাস বড় নির্মম, আসল সত্য উন্মোচিত হবে। দেশপ্রেমিক নেতাকর্মীরা সম্মানিত স্থানে অধিষ্ঠিত হবেন, তা স্বাভাবিক।

রাজনীতির অপর নাম আদর্শকে ধারণ করা, এটা ব্রত। মোসাহেব, চাকরিজীবী, পরজীবী কোন ধরনের ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন না। কিন্তু দলীয় আদর্শিক কর্মীরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে দলের আদর্শ বাস্তবায়ন করার জন্য বীরযোদ্ধা। লেখক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ