উদ্দেশ্য হাসিলে পুলিশ দিয়ে ক্রসফায়ারের ভয়, বিচার দাবি পরিবারের
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৩ ৫:২৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, আগস্ট ২৭, ২০২৩ ৫:২৭ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
অসৎ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে ঘায়েল করার জন্য অস্ত্র মামলার মত গুরুতর মিথ্যা মামলার আসামী করা হয়। এরপর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলা জেলার লালমোহন থানায় করা এক মামলায়। শামীম বকসি নামের ওই আসামীর পরিবার এই অভিযোগ তুলেন। সেই সঙ্গে নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে ঘটনার তদন্তসহ প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছে শামীমের পরিবার।
রবিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন শামীম বকসির বোন মোসাম্মৎ শাহীনা আক্তার। তাদের বাড়ি ভোলা জেলার লালমোহনের কালমা বালুচর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডে।
শাহীনা আক্তার বলেন, আমার ভাই শামীম বকসি ঢাকাতে মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার করে আমাদের সংসারের ভরনপোষণ করতেন। আমার ভাইকে মিথ্যে অভিযোগে অস্ত্র মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, গত ঈদুল আজহা উদযাপনের উদ্দেশ্যে আমার ভাই লালমোহনের বাড়িতে আসে। বাড়ি আসার দুদিন পর ৩০ জুন বিকেলে স্থানীয় সাংসদের ভাতিজা নয়ন পঞ্চায়েত ফোন দিয়ে আমার ভাইকে বাড়ির পাশের রাস্তায় ডেকে নেয়। ওখানে যাওয়ার পর বর্তমান সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের ভাই জাকির পঞ্চায়েত এবং ভাতিজা নয়ন পঞ্চায়েতসহ আরো কয়েকজন সন্ত্রাসী আমার ভাইকে ব্যাপক মারধর করে। এরপর পুলিশ এনে একটি বগিদা এবং একটি চাকু ওর কাছে দিয়ে বলে ওকে তল্লাশি করেন। বগিদা এবং চাকু দেখিয়ে ওকে স্থানীয় লালমোহন থানায় নিয়ে যায় এবং পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করে।
তিনি আরো বলেন, আমার ভাই অসুস্থ হয়ে গেলে স্থানীয় লালমোহন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়ে আবার অস্ত্র উদ্ধারের নাটক করে তাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আমাদের সামনে একটা পিস্তল দিয়ে বলে, এটা তোর বাসায় পাওয়া গিয়েছে। পরে থানায় নিয়ে আবারও ব্যাপক নির্যাতন করে। দফায় দফায় রাতভর বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও পুলিশ ওর উপর নির্যাতন করে।
শাহীনা বলেন, গত ১ জুলাই শামীমকে কোর্টে চালান দেওয়ার জন্য ভোলা সদরে নেওয়ার পথে বাংলা বাজারে থানার ওসিসহ পুলিশের গাড়ি থামিয়ে ঘটনার মাষ্টার মাইন্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ক্রসফায়ার দেওয়ারের নির্দেশ দেন এবং কোর্টে একটি শিখানো বক্তব্য দিতে বলে, নয়তো ক্রসফায়ার দিবে বলে জানায় শামীমকে। পরে তাকে দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট এর সামনে লালমোহন তজুমদ্দিনের কিছু গন্যমান্য ব্যক্তিকে জড়িয়ে শিখানো মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করায়।
তিনি বলেন, বংশানুক্রমে আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সমগ্র ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যে বানোয়াট এবং রাজনৈতিক অসৎ স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে ঘায়েল করার জন্য আমার ভাইকে অস্ত্র মামলার মত একটি গুরুতর মিথ্যা মামলার আসামী করা হয়। অথচ তার নামে আজ পর্যন্ত কোন থানায় একটি জিডিও নেই। আমরা এই ঘটনার নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত চাই।
বিচারের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পুলিশের এই ধরনের নগ্নতার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি। একইসঙ্গে মিথ্যা মামলা ঘটনার সঙ্গে যারা শামীমকে জড়িয়েছে এবং মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের
আওতায় এনে প্রহসনমূলক মামলা থেকে আমার ভাইকে অব্যহতি দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
জনতার আওয়াজ/আ আ