উন্নয়ন বিএনপি-জামায়াতের চোখে পড়ে না: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ১১, ২০২৩ ২:৪৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, নভেম্বর ১১, ২০২৩ ২:৪৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়ন বিএনপি-জামায়াতের চোখে পড়ে না। আসলে তারা অন্ধ। চোখের চিকিৎসায় আধুনিক চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। মাত্র ১০ টাকায় সেখানে চিকিৎসা নেয়া যায়। তাদের (বিএনপি-জামায়াত) অনুরোধ করবো, সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার জন্য।
শনিবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন দেখতে না পাওয়া তাদের চোখের দোষ না, এটা তাদের মনের অন্ধকার। এদের ব্যাপারে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। তারা ধ্বংস জানে, সৃষ্টি জানে না। তারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারে।
গত ১৫ বছরে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় বাজেট দিয়ে আমাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছি এবং বাস্তবায়নও করেছি। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেছে। আমদানি ব্যয় বেড়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আছে। এজন্য সবাইকে বলবো, যতটুকু জমি আছে সেখানে কিছু না কিছু চাষাবাদ করুন। নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করুন। তাহলে আমরা হতে পারবো স্বনির্ভর।
রেলে সেবার মান বাড়ানো হবে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, রেলে কক্সবাজার আসা যাবে, এটা অনেকের আকাঙ্ক্ষা ছিল। আমরা করে দিয়েছি। যমুনা নদীর ওপর পৃথক রেল সেতু করছি। রেলমন্ত্রীর বাড়ি পঞ্চগড়, সেখান থেকে যেন সরাসরি কক্সবাজার আসতে পারে, সে ব্যবস্থা তো করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন থেকেও যেন ট্রেনে আসা যায় তাও করবো। আমাদের পদ্মার ওপাড়ের লোকেরাও রেলে কক্সবাজার আসতে পারবেন। খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত ব্রডগেজ রেললাইন আবার চালু করছি। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যেন কক্সবাজার আসা-যাওয়া করা যায়, সে ব্যবস্থা করছি। রেলেও ওয়াইফাই কানেকশন দিয়ে দেবো। রেলে সেবার মান বাড়বে।
প্রতিটি সরকারি স্থাপনা যত্নের সঙ্গে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে আমরা যে কাজগুলো করেছি, সবগুলো ব্যবহারে যত্নবান হবেন। আধুনিক রেলস্টেশন করে দিয়েছি। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এসে যেন দেখে যে, বাংলাদেশে উন্নত ও সুন্দর রেলস্টেশন আছে। রেল গাড়িগুলো যেন পরিষ্কার থাকে, যত্রতত্র ময়লা না হয়। নিজেদের সম্পদ মনে করে ব্যবহার করবেন।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। বিএনপি ব্যবসা করতে পছন্দ করতো, আমদানি করতে পছন্দ করতো। আমাদের লক্ষ্য ছিল নিজের পায়ে দাঁড়াবো।
তিনি বলেন, ২০০৯ এ সরকার গঠন করে আমাদের করণীয় কী আমরা স্থির করি। রাস্তাঘাট উন্নয়ন আর মানুষের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেই। খাদ্য উৎপাদনের জন্য আমরা ৯৬ সাল থেকে যে গবেষণা শুরু করেছিলাম, তার সফলও আমরা পেতে শুরু করি। যে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে রেখে গিয়েছিলাম, সেই দেশকে আবার খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করেছিল বিএনপি। আমরা আবার উদ্যোগ নিয়ে এই দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, কারণ আমি ৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। আমাদের ধান; অর্থাৎ খাদ্যশস্য মাত্র ৭৯ মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন হতো না, যা আমরা এক কোটি ৫৯ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করেছিলাম ২০০১ সালের মধ্যে। সেটা আবার কমে যায়।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০২-২০০৩ সালে যদি দেখেন, এক ফোঁটা খাবার বাড়েনি উৎপাদন, কারণ তারা ব্যবসা করতে পছন্দ করতো। আমদানি করতে পছন্দ করতো। আমাদের লক্ষ্য ছিল নিজের পায়ে দাঁড়াবো, মর্যাদার সাথে চলবো, কারও কাছে হাত পাতবো না। আজকে আমরা সেখানে চার কোটির উপর খাদ্য শস্য, দানাদার শস্য উৎপাদন করে থাকি। আমাদের চাহিদার থেকে বেশি আমরা উৎপাদন করি। অন্তত সেটুকু করতে পেরেছি।
জনতার আওয়াজ/আ আ