এই রক্তস্রোত ও বাচ্চাদের কান্না কখনো বৃথা যেতে পারে না, বিজয় আমাদের হবেই
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, এপ্রিল ১২, ২০২৩ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, এপ্রিল ১২, ২০২৩ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা আলমগীর বলেন, আমার মনে হয় যে সারাদেশে কমপক্ষে সাতশোর উপরে আছেন যারা গুম হয়ে গেছেন, সহাস্রাধিক গণতান্ত্রিক কর্মী আছেন যারা খুন হয়ে গেছেন। বিগত চৌদ্দ বছর ধরে এই একটা ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। এখানে কিছুক্ষণ আগে বলেছেন, ১০ /১১ বছরের সন্তানেরা তাদের পিতাকে, ভাইকে দেখতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, এই রক্তস্রোত ও বাচ্চাদের কান্না, এটা কখনো বৃথা যেতে পারে না। বিজয় আমাদের হবেই্, আমরা অবশ্যই নির্যাতকারীদের, ফ্যাসিবাদী সরকারকে সরিয়ে আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।
বুধবার, এপ্রিল ১২, ২০২৩, দুপুরে, গুলশানস্থ বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ‘গণতন্ত্র পুনরদ্ধারের আন্দোলনে শহিদ, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিবর্গের’ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার তুলে দেয়ার সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের মানুষ তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ্ভাবে গুম-খুন হয়ে, নির্যাতিত হয়ে আর মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে না। মানুষ জেগে উঠতে শুরু করেছে। আপনারা জানেন, আরো ১৭জন যুক্ত হয়েছে তারা প্রকাশ্যে আন্দোলন করতে গিয়ে রাজপথে প্রাণ দিয়েছেন।
মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তারা জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং এই অত্যাচার-নির্যাতন-গুম-খুন করেই তাদেরকে ক্ষমতায় টিকে থাকতে হচ্ছে। আজকে সমগ্র দেশ বলতে কি একটা বদ্ধভূমিতে পরিণত হয়েছে। আপনি খবরের কাগজ খুললেই দেখবেন হত্যা-খুন-গুম চলছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে একেবারে নির্মূল করে দেয়ার জন্য, নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য এ গুম, এই গুম কথাটা আগে বাংলাদেশের মানুষ জানতো না। এটা ল্যাটিন আমেরিকায় আমরা শুনেছি যে, এনফোর্স ডিজএপিয়ারেন্স, তুলে নিয়ে গিয়ে নাই হয়ে যাওয়া-এটা বাংলাদেশে নতুন করে আওয়ামী লীগ ইন্ট্রিডিউজ করেছে। যদিও আমাদের মনে আছে, স্বাধীনতার পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিলো তখনও এরকম গুমের অনেক ঘটনা ঘটেছিল, প্রকাশ্যে ঘটেছে, এভাবে সাদা পোষাকে গোয়েন্দারা তুলে নিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের গঠনটাই এরকম। একদিকে সন্ত্রাস আরেকদিকে দুর্নীতি। এই দুটার মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকে।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। গুম হওয়া পরিবারের এই ছোট্ট মেয়ের কান্না সেই কান্নাকে সঙ্গে নিয়ে সেটাকে ক্রোধে পরিণত করে আমাদেরকে অবশ্যই এই ভয়াবহ দানবকে সরিয়ে ফেলতে হবে। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে একটা মুক্ত স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে। যেখানে এই ধরনের গুমের ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, যেখানে মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে স্বাধীনভাবে থাকতে পারবে।
এসময় আবেগ আপ্লুত হয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, আসুন এই বেদনা বিধুর একটি এই অনুষ্ঠান থেকে আমরা শপথ নেই ভবিষ্যতে আমাদের কোনো মেয়েকে কাঁদতে না হয় যে, সে তার বাবাকে দেখতে পাচ্ছে না ১০ বছর ধরে, এই কথা যেন তার বলতে না হয় যে, আমার স্বামীকে পাইনি-এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে আামাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণের কল্যাণমূলক একটা রাষ্ট্র আমাদের নির্মাণ করতে হবে যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিবছর এভাবে চেষ্টা করি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তাদেরকে এই কথাটা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যে, আমরা তাদের ভুলি যায়নি, আমরা তাদের সঙ্গে আছি। যদিও এখানে উপহারের ব্যাপারটা একেবারেই গৌণ।
এসময় গুম হওয়া বাবার অসহায় শিশু কন্যা সাফা বলেন, আমি বাবাকে কোনোদিন দেখিনি, আন্টিকে কতবার বলেছি, আমার বাবাকে ফিরিয়ে দিন! কিন্তু আমার বাবাকে আজও ফিরিয়ে দেয়নি।
বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান, গুম হওয়া ছাত্রদলের মাহমুদুর রহমান বাপ্পীর বোন ঝুমুর ও সোহেলের মেয়ে সাদিকা সরকার সাফা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য শাম্মী আখতার প্রমূখ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গুম হওয়া ছাত্র দলের নুরুল আলম নুরু, নুরুজ্জামান জনি, মাহমুদুর রহমান বাপ্পী, পারভেজ রেজা, তরিকুল ইসলাম তারা, মো. সোহেল, মফিজুল ইসলাম রাশেদ, জাকির হোসেন, জাকির হোসেন মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কাওসার, জাসাসের আমিরুল ইসলাম মিন্টুর পরিবারের সদস্যদের কাছে তারেকের ঈদ উপহার তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।
উল্লেখ্য, বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবার সারাদেশে গুম-খুন-নির্যাতিত হওয়া এক হাজার পরিবারের কাছে তারেক রহমানের ঈদ উপহার পৌঁছানো হবে যা আজ থেকে শুরু হলো। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির তাইফুল ইসলাম টিপু, যুব দলের মামুন হাসান, কামরুজ্জামান দুলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানি।
জনতার আওয়াজ/আ আ