এবার উপসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠালো সরকার - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:০৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

এবার উপসচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠালো সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২ ৮:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ২৩, ২০২২ ৮:০১ অপরাহ্ণ

 

ধর্ষণের মামলাকারী কলেজছাত্রীকে ফের ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উপসচিব এ কে এম রেজাউল করিম। এরপর সাময়িক বরখাস্ত হন তিনি। এবার তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

বিভাগীয় মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি হারালেন তিনি। সাময়িক বরখাস্তের আগে উপসচিব পদমর্যাদায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এ কে এম রেজাউল করিম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এ কে এম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয় ও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে থানায় আরেকটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। তিনি বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে থাকায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় ও এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে রুজু করা বিভাগীয় মামলায় অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী জারি করে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির প্রার্থনা করে। পরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে তার দাখিল করা জবাব ও সরাসরি বক্তব্য সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় আনা অভিযোগ তদন্ত করার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় বলেও জানানো হয় প্রজ্ঞাপনে।

এতে জানানো হয়, তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা শেষে বিধি মোতাবেক অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত এবং দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব পর্যালোচনা করে তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সরকারি কর্ম কমিশনও এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে।

এতে আরও জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন প্রস্তাবিত দণ্ডের সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করায় একই বিধিমতে গুরুদণ্ড হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার বিষয়ে রাষ্ট্রপতি সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে বিধি অনুযায়ী গুরুদণ্ড হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়া হলো।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা রেজাউল করিম রতন ২০১৭ সালে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে ওই কলেজের এক ছাত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়। ‘প্রতারণার’ ফাঁদে ফেলে রতন তাকে ধর্ষণ করেন এবং সেই ঘটনার ভিডিও রয়েছে বলে হুমকি দিয়ে এক বছর তাকে ধর্ষণ করে চলেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এ অভিযোগ করে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে রতনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা দায়ের করেন ওই কলেজছাত্রী। এ মামলা করার আগের মাসে রতনের বিরুদ্ধে তাকে মারধরের অভিযোগে একটি মামলা করেছিলেন ওই ছাত্রী।

দুই মামলাতেই ধানমন্ডি থানা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর রতনকে সাময়িক বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ