কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে আসা নারীর পাশে সরকার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ২:৫৫, শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে আসা নারীর পাশে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬ ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর উদ্যোগে কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে আসা এক নারী কর্মী দেশে ফিরছেন। পাশাপাশি মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ইরাকে থাকা ৭ বাংলাদেশি কর্মী তাদের পাসপোর্ট ফিরে পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

এতে জানানো হয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর তৎপরতায় কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে আসা ৩৪ বছর বয়সি বাংলাদেশি নারীর দেশে ফেরার ব্যবস্থা হয়েছে। ব্যাংকক দূতাবাসের সহযোগিতায় ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উদ্ধার হওয়া নারী দেশে ফেরত আসবেন।

২০২৫ সালের আগস্টে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ওই নারী কম্বোডিয়া গমন করেন। কম্পিউটারের কাজ ও উচ্চ বেতন দেওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কম্বোডিয়া গমনের পর পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাকে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি করা হয়। সেখানে তাকে দিয়ে নানা ধরনের আর্থিক জালিয়াতি, মোবাইল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো কাজ করানো হয়। সেখান থেকে একাধিকবার চেষ্টা করেও তিনি পালাতে ব্যর্থ হন।

অবশেষে ২০২৬ সালের ২০ মে দালালদের চোখ ফাঁকি দিয়ে স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে আসেন। অজানা জায়গায় আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ করে দেশে ফিরতে তার সহযোগিতা চান।

কল পেয়ে মন্ত্রী বাংলাদেশের ব্যাংকক দূতাবাসে নিয়োজিত শ্রম কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই নারীকে সহযোগিতার নির্দেশ দেন। দূতাবাস থেকে তরুণীর সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করে তার অবস্থান নিশ্চিত হন কর্মকর্তারা। পরবর্তী সময়ে কম্বোডিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির সহায়তায় নমপেন শহর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে কম্বোডিয়া সরকারের সহযোগিতায় ট্রাভেল পাস ইস্যুর মাধ্যমে ওই নারীকে বাংলাদেশ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে ব্যাংকক দূতাবাস থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে, বুধবার (২০ মে) ইরাক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আরিফুল হক চৌধুরী ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্তে গিয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তারা কোম্পানির নিকট সাত প্রবাসী বাংলাদেশির পাসপোর্ট জব্দ থাকার প্রমাণ পান।

দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় আজ (বৃহস্পতিবার) সাতজন প্রবাসী তাদের পাসপোর্ট ফিরে পান। পাসপোর্ট পেয়ে প্রবাসীরা জানান, তারা ইরাকে কাজ করতে চান এবং তাদের কাজের ব্যবস্থা তারা নিজেরা করেছেন।

শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ করে অন্য দুই বাংলাদেশি ইরাক প্রবাসীর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ইরাক দূতাবাসকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

অভিযোগে বলা হয়, রিজু মিয়া ও আইলান মিয়া নামক দুই বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ইরাকে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়েন। দালালরা তাদের আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করছে এবং তাদের ঠিক মতো খাবার সরবরাহ করছে না।

অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাগদাদের আরাসাত নামক আবাসিক এলাকায় ভাড়া নেওয়া বিল্ডিংয়ে দুই বাংলাদেশিকে খুঁজে পান। তবে তাদেরকে শারীরিক নির্যাতন করা বা অভুক্ত রাখার কোনো প্রমাণ কর্মকর্তারা পাননি। দুজনকে দূতাবাসের সহায়তায় রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ৭ মে ইরাক থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ফেরত পাঠানো হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ