কারগারে ঈদ কাটবে বিএনপির অজস্র নেতাকর্মীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৪ ৪:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৪ ৪:০৭ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
দীর্ঘ ১৭ বছরের অধিক সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা দল বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর পরিবারে ঈদ আনন্দ নেই। সরকারের সাজানো মিথ্যা মামলায় জর্জরিত বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় সরকল নেতাকর্মী। কারও কারও বিরুদ্ধে ৪শ থেকে ৫শ মামলাও রয়েছে। একদিকে মামলার চাপ আরেকদিকে ব্যবসা বাণিজ্যসহ সব হারিয়ে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এছাড়াও এখনও যারা কারবান্দি রয়েছেন এমন নেতাকর্মীর সংখ্যাও কম নয়।
কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে এবারও ঈদ করতে হচ্ছে দলটির অজস্র নেতাকর্মীকে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক মামলায় বন্দি বেশিরভাগ। তাদের অনেকে আছেন বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে বন্দি। আবার সরকারের সাজানো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত মামলায় জামিনের আশায় আত্মসমর্পণ করে কারারুদ্ধ হন অনেকে। কেউ কেউ বিভিন্ন মামলায় আগাম জামিন শেষে হাজিরা দিতে গিয়ে গেছেন কারাগারে। এমনকি সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বছরের পর বছর ধরে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রয়েছেন অনেকেই। কবে তাদের মুক্তি মিলবে–তা কেউ জানেন না। পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ আবার কবে ভাগাভাগি করতে পারবেন, তাও বলতে পারেন না তারা। এ পরিস্থিতিতে ম্লান হয়ে গেছে তাদের স্বজনের ঈদ আনন্দও।
বিএনপি সূত্র জানায়, গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর রাজপথে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি শুরু করে দলটি। আর এ কর্মসূচি ঘিরে সারাদেশে চলে গণহারে গ্রেফতার অভিযান। বিএনপির দাবি–ওই সময় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরি, শামসুজ্জামান দুদুসহ প্রায় ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে কারাগারে বন্দি করা হয়।
৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বেশির ভাগের জামিনে মুক্তিও মিলেছে। তবে এখনও শতাধিক নেতাকর্মী রয়ে গেছেন কারাগারে। এসব নেতাকর্মী ছাড়াও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একদিকে যেমন সরকারবিরোধী আন্দোলনে সারাদেশ উত্তাল হয়ে পড়ে, তেমনি শুরু হয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুরোনো মামলার সাজার রায়। প্রায় একশ মামলায় দেড় হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে সাজা দেন আদালত। এর মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও রয়েছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, অন্দোলন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সাজাপ্রাপ্ত নেতাকর্মীর একটি অংশ আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেছেন। আবার আন্দোলনকালীন বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর পুরোনো মামলায় ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ায় তারাও গেছেন হাজিরা দিতে। এসব নেতাকর্মীর বেশির ভাগকেই পাঠানো হয়েছে কারাগারে।
জানা গেছে, সরকারের সাজানো মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নেতাকর্মীর মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল হৃদয়, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এ খোকন, উত্তরা থানার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনসহ অনেকে আত্মসমর্পণ করেন।
এ ছাড়া বিগত দিনের মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে গেছেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা বিএনপির সদস্য মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, জেলা যুবদল সভাপতি এম তমাল আহমেদ, জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিউর রহমান সাগর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পিসহ ৫১ জন, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, চিরিরবন্দর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী নয়ন, সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনসহ অনেকে।
এ ছাড়া বছরের পর বছর ধরে কারাগারে আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অব্দুস সালাম পিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, নির্বাহী সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর, ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন অপু।
এসব নেতার বাইরে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা জামাল হোসেনসহ অনেকে।
জনতার আওয়াজ/আ আ