কুইক রেন্টাল ও বিদেশি চড়াদামের বিদ্যুতের দায় পড়ছে গ্রাহকের ওপর
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫ ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫ ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
দেশে কুইক রেন্টাল ও বিদেশিদের কাছ থেকে চড়াদামে বিদ্যুৎ কিনে সরকার টাকা অপচয় করছে, যার দায় সম্পূর্ণ গ্রাহকের ওপর পড়ছে। এসব চুক্তি বাতিল করে দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সোলার পদ্ধতিতে উৎপাদন করে বিদ্যুতের দাম কমানোসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহক ও সেচ পাম্প মালিক সমিতি।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। সভায় বিদ্যুৎ মিটারের ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিলসহ ৫ দফা দাবি জানানো হয়।
সমিতির সভাপতি আনাউর রহমান বলেন, আমরা বর্তমানে ১ কিলোওয়াটে ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা দিয়ে থাকি। তাছাড়া প্রিপ্রেইড মিটারের ক্ষেত্রে
১৬৬ টাকা করে দিতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চার্জের হিসাব আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভাগে নেই।
তিনি বলেন, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিল প্রদানের ক্ষেত্রে ০ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের মূল্য এক হতে হবে এবং স্লাপ পদ্ধতির বিল বাতিল করতে হবে। দেশে কুইক রেন্টাল ও বিদেশিদের কাছ থেকে চড়াদামে বিদ্যুৎ ক্রয় করে সরকার টাকা অপচয় করছে, যার দায় সম্পূর্ণ গ্রাহকের ওপর পড়ছে। এসব চুক্তি বাতিল করে দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সোলার পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে।
সমিতির সভাপতি বলেন, গাইবান্ধা জেলায় ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকার বেশী বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ করা হলে সে সময় বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক তদন্ত করা হয়। পরবর্তীতে ওই বিল সমন্বয় করার কথা থাকলেও তা আজও করা হয়নি। অতিরিক্ত বিল সমন্বয় না করে প্রায় ১০০টির মতো মামলা দিয়ে গ্রাহক হয়রানি করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমি বিদ্যুৎ খাতের চুরি ও দুর্নীতি রোধ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট একটি কমিশন তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি। তাছাড়া বিদ্যুৎ খাতে যে-সব মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে পর্যালোচনা গ্রহণ করা দরকার। যদি কমিশন গঠনে বিলম্ব হয়, তাহলে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে একটি গণশুনানি আয়োজন করতে হবে। তাছাড়া গ্রাহকের উপর যেভাবে প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারলেও দুর্নীতি কিন্তু বন্ধ হয়নি। যে সরকারকে আমরা প্রতিনিয়ত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি, এই সমর্থনকে তারা দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমানে সামাজিক নৈরাজ্য খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে। আর এই নৈরাজ্যকে যদি দমানো না যায় তাহলে তা রাজনৈতিক নৈরাজ্যে পরিণত হবে। নির্বাচন যদি কোনো কারণে বিলম্বিত হয়, তাহলে বাংলাদেশ গভীর বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে।
তাদের দাবিগুলো হলো- প্রিপেইড মিটার সংযোগ বন্ধ করতে হবে; ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিল করতে হবে; স্লাপ পদ্ধতির নিল বাতিল করে ০-২০০ ইউনিট পর্যন্ত ফ্লাট পদ্ধতিতে বিল নিতে হবে; কুইক রেন্টালসহ বিদেশ থেকে বেশী দামে বিদ্যুৎ ক্রয় বন্ধ করতে হবে; পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে অধিক মনোযোগী হতে হবে।
জনতার আওয়াজ/আ আ