খুলনা ২-তিন বিএনপি নেতার দৌড়ঝাঁপ চার দলের একক - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৫৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

খুলনা ২-তিন বিএনপি নেতার দৌড়ঝাঁপ চার দলের একক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২০, ২০২৫ ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: সোমবার, অক্টোবর ২০, ২০২৫ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

 

রাশিদুল ইসলাম, খুলনা থেকে
ছবি: প্রতিনিধি
ভিআইপি আসন হিসেবে খ্যাত সদর ও সোনাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-২ আসন। বিএনপি’র ৩ নেতা পৃথক পৃথকভাবে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে। অপরদিকে, জামায়াতসহ ৪ দল একক সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র খুলনার এ আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত। বিএনপি’র সম্ভাব্য তিন প্রার্থী হাইকমান্ডের ঘোষণার প্রত্যাশায় কর্মতৎপরতা ব্যাপক বৃদ্ধি করেছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এ আসনে চারবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। বাকি নির্বাচনে বিএনপি’র প্রাধান্য ছিল বেশি। এ কারণে আসনটিকে বিএনপি’র দুর্গ বলা হয়। দলের নেতাকর্মীদের দাবি, খুলনা-২ আসন বিএনপি’র ঘাঁটি ছিল এবং এখনো আছে। বিএনপি’র দায়িত্বশীল নেতারা জানান, খুলনা-২ আসনকে ভিভিআইপি আসন বলা হয়ে থাকে। কারণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেছিলেন। এ ছাড়া সাবেক স্পিকার রাজ্জাক আলী নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতীয় পার্টি থেকে মিয়া মুসা হোসেন নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ হয়েছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাত ভাই শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বিতর্কিত দুই নির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। তবে গুঞ্জন রয়েছে, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অথবা তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের মধ্য থেকে একজন এবার এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন বিএনপি’র সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা এবং মহানগর ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি বর্তমান নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগর সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শহিদুল ইসলাম ও বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের খুলনা মহানগর সহ-সভাপতি ফয়সাল শেখ সম্ভাব্য প্রার্থী। তবে এনসিপি ও জাতীয় পার্টির কোনো নির্বাচনী তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। চার দশকের বেশি সময় পর ২০২১ সালে খুলনা বিএনপি কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন শেষে তার এমন পরিণতি মানতে পারেননি বিএনপিতে থাকা তার অনুসারীরা। তারা মঞ্জুকে খুলনা-২ আসনের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চেয়ে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দল চাচ্ছে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী।

আন্দোলন সংগ্রামে জেল-জুলুম, নির্যাতনের শিকার এমন মানুষকে মূল্যায়ন করতে। এক্ষেত্রে আমি পরীক্ষিত। দলের পদ-পদবি ব্যবহার করে যারা চাঁদাবাজি, দখল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ইতিমধ্যেই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস কোনো চাঁদাবাজ, লুটেরা বিএনপিতে স্থান পাবে না। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে নির্বাচনে সারা দেশে যে ৩০ জন বিএনপি’র প্রার্থী জয়ী হয়েছিল তার মধ্যে আমি একজন। এ ছাড়া মেয়র নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে আমাকে জোর করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। কোনো অপশক্তির সঙ্গে আপস করিনি। শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে স্বৈরাচারী সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে রাজপথে ছিলাম। জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ছিলেন এডভোকেট শফিকুল আলম মনা। জাতীয়তাবাদী যুবদলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন তিনি রাজপথে বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামের যোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন। জেলা বিএনপি’র সভাপতি পরে এখন হয়েছেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি। আওয়ামী সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নে সাংগঠনিকভাবে দলের হাল ধরেন খুলনার এ শীর্ষ নেতা। মনা বলেন, মহানগর প্রাণকেন্দ্র খুলনা সিটি করপোরেশন ২২ নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলাম। তাই এখান থেকেই নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষণ করছি। সর্বোপরি দল যে সিদ্ধান্ত নেবে- সেটিই আমি মেনে নেবো। খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন।

ছাত্রদল ও যুবদলের মহানগর সভাপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নেতার পদচারণা। তুহিনের অনুসারীরা এ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বলতে গেলে প্রচার প্রচারণায় বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যে শফিকুল আলম তুহিনই সবার শীর্ষে রয়েছে। সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার অধিকাংশ ওয়ার্ড কমিটিতে রয়েছে তুহিনের অনুসারীরা। তুহিন বলেন, আমি ৪৩ বছর ধরে রাজনীতি করি। এ শহরের অলিগলি, রাস্তাঘাটসহ মানুষকে আমি চিনি। এই শহরের সবকিছুর সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক আছে। অন্তত ৮-১০টি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের আমি আজীবন সদস্য। শহরের প্রতিটি ভালো কাজের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে। ছাত্র রাজনীতি করেছি এই শহরে। আন্দোলন সংগ্রাম এবং বহু ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যদিয়ে এখানে আসা। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে ১০৮টি মামলার আসামি আমি। অসংখ্যবার কারাগারে গেছি। এ আসনের ১৬টি ওয়ার্ডের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর শহরের মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য দিন-রাত কাজ করেছি। খুলনার মানুষ আমাদের প্রতি আস্থাশীল। দল পরীক্ষিত ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইনকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। কেসিসি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দু’বারের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর শিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন তিনি। ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে তার বিরুদ্ধে ৩২টি মামলা হয়েছে। ৩ বার জেলে গেছেন। মহানগরীর পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে তার অবস্থান রয়েছে। হেলাল বলেন, নির্বাচনে দুই ধরনের কাজ করতে হয়। নমিনেশন দেয়ার পরে এক ধরনের কাজ। তফসিল ঘোষণা করার পরে এক ধরনের কাজ। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হলো গণসংযোগ করা। ঘোষণার পর প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে আমরা নির্বাচনী গণসংযোগ করছি। মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলা, সাংগঠনিক কার্যক্রম মজবুত করা এবং সংগঠনকে গতিশীল করছি। এজন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় সাংগঠনিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। এবার এ আসন থেকে তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ