গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের ফল চুপ্পুর হাতে: ফরহাদ মাহজার - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৩৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের ফল চুপ্পুর হাতে: ফরহাদ মাহজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৪ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৪ ৪:৪৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক

ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে তরুণরা যেহেতু বুদ্ধিজীবীতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে নাই তাই তারা বিজয়ের ফসল তুলে দিয়েছেন ওই চুপ্পুর (রাষ্ট্রপতি) হাতে বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক ফরহাদ মাহজার।

তিনি বলেন, বারুদ কিন্তু জমা ছিল কিন্তু ম্যাচের কাটি জ্বলানোর লোক ছিল না। তরুণরা ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়েছে। ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়ে তরুণরা যেহেতু বুদ্ধিজীবীতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে নাই তাই তারা বিজয়ের ফসল তুলে দিয়েছেন ওই চুপ্পুর (রাষ্ট্রপতি) হাতে। এটা বুঝতে হবে। তরুনরা কাজটা শুরু করেছে, জনগন সাড়া দিয়েছে। আজ এই বিজয়টা চলে গেলো তাদের হাতে যারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে গণঅভ্যুত্থান-২৪: জনআকাংক্ষা ও বাস্তবতা শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। এছাড়াও ফরহাদ মাহজারের লেখা বই গণঅভ্যুত্থান ও গঠন বই পড়ে ৫ আগস্টের মত ঘটনার জন্য তরুণরা দিক নির্দেশনা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন লেখক ও গবেষক ফরহাদ মাহজার।

দ্যা ভয়েস অফ টাইমস এই আলোচনা সভার আয়োজন করেন।

ফরহাদ মাহজার এমন মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস এন্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি) এর ছাত্র রেদোয়ানুর রহমান বক্তব্যের প্রেক্ষিতে। রেদোয়ানুর রহমান কবি ও লেখক আহমেদ ছফার একটি লাইন উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছিল তখন বুদ্ধিজীবিরা তা জানতো না।

এসময় আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক ওলীউল্লাহ নোমান, জামায়াত ইসলামির পল্টন থানার আমীর শাহীন আহমেদ খান, লেখক ও গবেষক সারোয়ার তুষার, সাংবাদিক নেতা শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভয়েস অফ টাইমস এর সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম।

বুদ্ধিজীবীরা সমাজ বদলায়নি বদলেছে তরুণরা এমন একটি বক্তব্য টেনে এনে ফরহাদ মাহজার বলেন, বুদ্ধিজীবীদের কথা শুনলে বাংলাদেশ স্বাধীন হত না এমন একজন তরুণ বলেছেন। একটা কথা মনে রাখতে হবে বুদ্ধিজীবীতা ছাড়া কোন বড় ঘটনা বা বাংলাদেশকে গঠন করতে পারবো না।

তিনি সেই তরুণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সে আর একটা কথা বলেছে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা বাংলাদেশে গণ অভ্যুত্থান হচ্ছে এটা জানতো না। এটা ভুল কথা। ২০২৩ সালে আমাদের একটা বই বের হয়েছিল। আমাদের যৌথ প্রযোজনা। বইটির নাম গণঅভ্যুত্থান ও গঠন। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট এটা প্রকাশ পায়। বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটা অংশ সেই বই দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। সেই বই তারা পড়েছে। সেই বই থেকে তারা দিক নির্দেশনা পেয়েছে।

জানা যায়, রাষ্ট্রচিন্তা প্রকাশনী থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ‘গণঅভ্যুত্থান ও গঠন বাংলাদেশের গণ রাজনৈতিক ধারার বিকাশ প্রসঙ্গে’ প্রকাশিত হয়। বইটি নিয়ে বলা হয়েছে- “এই গ্রন্থটির পেছনে আমার নিজের ক্ষতবিক্ষত হৃদপিণ্ডের অনেক টুকরা জড়িত। বইটি হাতে যখন স্নেহ ভাজন সারোয়ার তুষার তুলে দিলেন, ভেবেছি, একাত্তরে শহিদদের প্রতি কিছু দায় কি শোধ করা গেল? আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি যে বাহাত্তরে আমরা নিজেদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি হিশাবে ‘গঠন’ করতে পারি নি, সেই কাজ আমাদের অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে সেটা স্মরণ করিয়ে দেবার জন্য এই গ্রন্থ’’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরহাদ মাহজার বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোন সম্পর্ক নাই। গণতন্ত্র হল রাষ্ট্রের একটা ধরণ। বাড়িটা হল রাষ্ট্র আর বড়িটা কে নিয়ন্ত্রণ করবে সেটা হচ্ছে নির্বাচন। বাড়ির ঠিক নাই সেখানে কি নির্বাচন করবেন। এইজন্য বারবার বলা হচ্ছে গঠনের কথা।

ফরহাদ মাহজার বলেন, এই সরকারকে এই বিষয়গুলো ঠিক করতে হবে। না হলে মারাত্মক ভুল হবে। তরুণদের বুদ্ধিজীবীদের নেতিবাচক হিসেবে মনে করলে হবে না। এটার চর্চা না থাকলে সেই রাষ্ট্রে হাজার হাতুড়ি পিটিয়ে গণতন্ত্র আনতে পারবেন না।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানকে কখনো পুরানো সংবিধানে ঢোকানো যায় না। আর টার জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে।

উপদেষ্টার সরকার নিয়ে ফরহাদ মাহজার বলেন, জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে গণতন্ত্র। জনগনের অভিপ্রায় বিসর্জন দিয়ে এখন একটা উপদেষ্টা সরকার বানানো হয়েছে। তার ভাষায় এটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রশাসনের সকল স্তরে জনগণের অংশগ্রহণ করতে হবে। কিন্তু এই সরকারের সেটা হচ্ছে না। তারা কিন্তু কাউকে বলে নাই। জনগণের পক্ষে কনক সারোয়ার, পিনাকি কথা বলেছে। কিন্তু এই সরকার কি তাদেরকে কিছু বলেছে। যাদের আন্দোলন ও প্রোপাগাণ্ডার ফলে হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নিয়ে তিনি বলেন, এটা খুব ভালো লক্ষ্ণ নয়। আমরা চেয়েছিলাম পুলিশ সংস্কার করা। তা হয়নি। পুলিশ না আসলে তাদের পলাতক ঘোষণা করা। আগে পুলিশ মাসে লাখ টাকা কামাতো। তারা তো এই দুই চার টাকার জন্য ফিরে আসবে না। আগে থেকেই এটা ভাবা উচিত না। তরুণরা ভেবেছিল বিল্পব ডিনার পার্টি এটা ডিনার পার্টি না।

কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেন, বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, তারা (বিচার বিভাগ) ইকোনমিক ইস্যুতে, প্রসাশনিক এবং আইনের ক্ষেত্রে তারা স্বাধীন। এরশাদ সাহেব আদালতকে একবার ডিসেন্ট্রালাইজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু এটা আদোতে হয়নি, যেটা নিয়ে আমরা আজ পর্যন্ত কাজ করতে পারিনি। আদালতকে জনগণের কাছে থামতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কথাটা বলা সহজ। এক এগারোর সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার কথা বলে নির্বাহী শাসন ব্যবস্থা নিয়ে এসেছিল। মানবিক ও সামাজিক ন্যায় বিচারের কথা আমরা মুখে বলি, কিন্তু কার্যত এর ব্যবস্থা আমরা করতে পারি না। আমরা কারো কথা শুনিনা অন্যের কথায় নাচানাচি করি। এটা কি আমাদের স্বভাব নাকি জ্ঞানের অভাব। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদেরকে বুদ্ধিবিত্তিক ভাবে অনেক সচেতন হতে হবে। এবং সহনশীল ভাবে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

ছাত্ররা একটি নাগরিক কমিটি করেছে কিন্তু প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল সেটাকে সন্দেহের চোখে দেখছে উল্লেখ করে ফরহাদ মাজহার বলেন, কারণ তারা বলছে তোমরা নাগরিক কমিটি কর, কিন্তু এই সরকারের ক্ষমতা নিয়ে আরেকটি কিংস পার্টি হইও না। এখন যেটা দরকার সেটি হল বিপুল বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন। চিন্তার পরিবর্তন এবং সেই পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্র গঠন করা। যে ভিত্তিটা কারো পক্ষে অস্বীকার করা সম্ভব হবে না। এবং সেই ভিত্তি তৈরী হলে কোন দেশের পক্ষে নতুন বাংলাদেশ তৈরি হতে কোন বাধা থাকবে না।

সাংবাদিক ওলীউল্লাহ নোমান বলেন, এই সংবিধান সংস্কার নয়। এই সংবিধান ছুড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে। নতুন সংবিধান করতে হবে। নতুন সংবিধান না হলে আবার একটা ফ্যাসিস্ট সরকার গঠন হবে। আবার সেই একই ধারা চলবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ