গণতন্ত্রের প্রত্যাশা পূরণ না হলে সংকট বাড়বে: দুদু - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৪৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণতন্ত্রের প্রত্যাশা পূরণ না হলে সংকট বাড়বে: দুদু

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৫ ৯:৩৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৫ ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

 

নীলফামারী প্রতিনিধি

গণতন্ত্রের প্রত্যাশা পূরণ না হয় তাহলে ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়বে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, এই সংকট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দেশে নির্বাচিত সরকার দরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ভোটের অধিকার। সেই অধিকার যত দ্রুত সম্ভব ফেরত দিতে পারবে।

তিনি বলেন, দেশে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে, মানুষ স্বাভাবিকভাবে জীবন ধারণ করতে পারবে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের স্কাইভিউ রেস্টুরেন্টে নীলফামারী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদু বলেন, এ বিষয়গুলো আমরা আগেও বলেছি এখনও বলছি। ভবিষ্যতে এটা মীমাংসা করা যায়, বিএনপির সে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চায় বলে আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম। রাস্তার আন্দোলনে যেটি আমাদের নেতা বলেছিলেন যে, ফয়সালা হবে কোথায়। এই রাজপথেই ফয়সালা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি সাংগঠনিক সভা। নীলফামারীর বন্ধুদের সাথে মতবিনিময় হচ্ছে। সংগঠনের সার্বিক পরিস্থিতি কি সেটা দেখা, সংগঠনকে তৈরি করা, সংগঠনকে শক্তিশালী করা ও ঐক্যবদ্ধ করা। সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সমস্যাগুলোকে সমাধান করা। আমরা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছি ১৬-১৭ বছর। গণতন্ত্রের পিপাসার প্রত্যাশায়, স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে, ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়ে বাংলাদেশে এখন জঞ্জাল মুক্ত হওয়ার পথে আছে।

এই পরিস্থিতিতে আমরা চাইছি যাতে বাংলাদেশে সঠিক, স্বাভাবিক, গ্রহণযোগ্য ও অংশীদারিত্বমূলক একটি নির্বাচন করে। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ, তার পছন্দের দল এবং প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে এবং এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার তৈরি হবে, যারা দেশ পরিচালনা করবে’, বলেন তিনি।

‘জামায়াত-বিএনপি’ সম্পর্ক নিয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো দিনক্ষণ বেধে দেয়নি। না জামাত, না বামপন্থী, না দক্ষিনপন্থী, না উত্তরপন্থী। সেহেতু জামাত-বিএনপি বিভক্তি করার দরকার নেই। সবাই নির্বাচন চাচ্ছে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার করে। অর্থাৎ সংস্কার আর নির্বাচনের মধ্যে কোন সংঘাত নেই। জামাত-বিএনপির সংঘাত নাই। একটি ভালো নির্বাচনের জন্য যেটুকু সময় দরকার। এর অতিরিক্ত সময়ে যেন না হয়।’

বিগত সরকারের দুর্নীতি নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে এই দেশে। হাজার হাজার মানুষকে গুম খুন নিখোঁজ করা হয়েছে এই দেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাশায়। একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। নব্বইয়ের গণ অভ্যুত্থান হয়েছে। সর্বশেষ ২৪শের গণঅভ্যুত্থান। ছাত্র-জনতার রক্ত দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছে। এখন বাংলাদেশের প্রত্যাশা মানুষের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের। কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ একটু স্বস্তির সঙ্গে বসবাস করতে চায়। শ্রমিক তার অধিকার চায়। সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে জীবন যাপন করতে চায়। সেই জায়গায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তার নেতা জনাব তারেক রহমান সংগঠনকে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য পূর্বের মতোই মানুষের পাশে দাঁড় করাতে চায়। সেই লক্ষ্যেই আজকের এই সভা। এই সভা থেকেই আমরা আগামী দিনের যে কর্মসূচি সেই কর্মসূচি গ্রহণ করব।’

সাংগঠনিক সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) আব্দুল খালেক, অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি আ.খ.ম আলমগীর সরকার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলমসহ প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ