গণতন্ত্রের লড়াই বিজয় অবধি থামবে না - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:২১, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণতন্ত্রের লড়াই বিজয় অবধি থামবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২৩ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ১০, ২০২৩ ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

 

শিমুল বিশ্বাস

যুদ্ধ ও সংগ্রামের বড় শক্তি হলো জনসমর্থন এবং নেতৃত্বের দৃঢ় মনোবল। ভোট ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেও লিপ্ত রয়েছে। চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিপক্ষ বিবেকহীন, অমানবিক, হিং¯্র ও চতুর। মানুষের জীবন ও দেশ ধ্বংস করে হলেও ওরা ক্ষমতা দখলে রাখতে চায়। আমরা চাই মুক্তি। গণতন্ত্রের মুক্তি। মানুষের মুক্তি। বাংলাদেশের মুক্তি। ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে জনমত বিএনপির পক্ষে থাকা সত্ত্বেও ওদের প্রভুদের অপকৌশলের কারণে আমরা বিজয় অর্জন করতে পারিনি। আওয়ামী লীগের প্রভুরা মনে করেছিল ১০-১৫ বছর বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে পারলে বিএনপি দুর্বল হতে হতে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।

কিন্তু শত প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে ওদের ধারণা ভ্রান্ত প্রমাণ করে বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ। দেশরক্ষা এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বিএনপি বীরদর্পে মুক্তির লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি দুর্বল না হয়ে এখন আরো বেশি শক্তিশালী ও জনপ্রিয়। ২০২৩ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রভুর দেশের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে লোভ, টোপ ও সর্বাত্মক চাপ দিয়েও বিএনপিকে ভাঙতে পারেনি। আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী দেউলিয়া রাজনীতি, বিদেশে টাকা পাচার, লুটপাট ও আদর্শহীন ভোগবাদী রাজনীতির কারণে দেশ এখন এক মহা অর্থনৈতিক দুর্যোগে হাবুডুবু খাচ্ছে। এরপর আওয়ামী লীগ ২০২৪’এ জোরপূর্বক একতরফা পাতানো নির্বাচন করতে যেয়ে সমস্যা এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াই আন্তর্জাতিক সঙ্কটের রূপ পেতে যাচ্ছে। যার পরিণতি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ হবে।

র‌্যাব এবং পুলিশের কর্মকর্তাদের উপর মার্কিন স্যাংশনের পরে এসেছে মার্কিন ভিসা পলিসি। যা এস্টাবলিশমেন্টের শতভাগ বিপক্ষে গেছে। শোনা যাচ্ছে অর্থনৈতিক অবরোধের কথা। আলাপ হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শ্রমনীতির ভিক্টিম হতে পারে গার্মেন্ট সেক্টর। শেখ হাসিনার ক্ষমতার লোভ দেশকে মহাসঙ্কটে ফেলেছে। এই মহাসঙ্কট থেকে বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে শেখ হাসিনা। এ দিকে হাসিনার শ্রমিক স্বার্থবিরোধী নীতির কারণে শুরু হয়েছে মারাত্মক শ্রমিক অসন্তোষ। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। তারপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা। দেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক অস্থিরতা এখন প্রকট রূপ নিয়েছে। এই মহা তুফানে বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষদের শক্ত হাতে হাল ধরে মাঝি মাল্লা নিয়ে পাড়ি দিতে হবে তরী। আমাদের আর ভয়ের কিছু নেই। লক্ষ্য ও আদর্শগতভাবে বিএনপি এখন নিঃসন্দেহে সঠিক পথে আছে। দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি হরতাল অবরোধ কর্মসূচি এখন সাধারণ মানুষ বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং মুক্তির লড়াই বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। ন্যায়ের লড়াইয়ে আমরা জিতব এবং অবশ্যই জিতবো। আমাদের সেকেন্ড কোনো চয়েস নেই।

দেশের চৌষট্টিটি রাজনৈতিক দল ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের পাতানো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপির দাবি এবং ৬৪টি রাজনৈতিক দলের প্রধান দাবি একই। হাসিনার পদত্যাগ। এবার হাসিনাকে বিদায় নিতে হবেই। প্রতিদিন আমাদের মুক্তিকামী মানুষের কাফেলা বড় হচ্ছে। মুক্তি এবং বিজয় ছাড়া আমাদের থেমে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানের গণতন্ত্রকামী নিরস্ত্র মানুষের ওপর পাক হানাদারদের বর্বরোচিত সশস্ত্র হামলা যেমন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল, তেমনি ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের দাবিতে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের ওপর আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন বাহিনীর বর্বরোচিত সশস্ত্র হামলার পর দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এখন শুধু হিম্মত, সাহস, দৃঢ় মনোবল নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকতে হবে। কার্ল মার্ক্স বলেছিলেন, শৃঙ্খল ব্যতীত সর্বহারাদের হারানোর কিছু নেই। জয় করার জন্য আছে সারা পৃথিবী। তেমনি গণতন্ত্রকামী বাংলাদেশের মানুষের হারানোর কিছু নেই, সামনে বিজয়ের মঞ্চ অপেক্ষা করছে ইনশাআল্লাহ।

লেখক : বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ