গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার একমাত্র পথ নির্বাচন: মির্জা ফখরুল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:১৭, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার একমাত্র পথ নির্বাচন: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৩, ২০২৫ ১১:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৩, ২০২৫ ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো নির্বাচন এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে যেসব রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে সংগ্রাম করেছি, আমরা নির্বাচনের পরে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা আসলেই এই জাতিকে সত্যিকার অর্থে মূল জায়গাগুলোতে ঐক্যবদ্ধ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।’

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভার আয়োজন করে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্ট্যাডিজ (এফএসডি)।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই জাতি বরাবর গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিয়েছে, লড়েছে, সংগ্রাম করেছে, কিন্তু গণতন্ত্রের চর্চা করার কোনো সুযোগ পায়নি। পাকিস্তান আমল থেকে এখানে বারবার গণতন্ত্র আহত হয়েছে, গণতন্ত্রকে নষ্ট করা হয়েছে, হরণ করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে, একটি গণতান্ত্রিক শক্তিই প্রথম গণতন্ত্র ধ্বংস করে বাকশাল কায়েম করেছিল। একনেকে কখনোই গণতন্ত্রের চর্চা হয়নি। গণতন্ত্রের চর্চা না হওয়ার কারণেই আজ আমাদের অনাস্থা, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

জুলাই যুদ্ধে শহিদদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের একটি সুযোগ করে দিয়েছেন, এবার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য। আসল কথা হলো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান না থাকার কারণেই আজ আমরা দুর্দশায় পড়েছি। আমাদের প্রধান দায়িত্ব হবে, যে যেখানে আছি, যে অবস্থায় আছি, সেখান থেকেই নিজের দায়িত্ব পালন করা অর্থাৎ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যত দ্রুত আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব, ততই আমাদের মঙ্গল হবে। আর এর মধ্য দিয়েই আমরা গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে পারব। আমি হতাশার কিছু দেখি না। আমি মনে করি, সত্যিকার অর্থেই একটা সুবাতাস বাংলাদেশে নতুন একটা ব্যবস্থা তৈরি করবে।

সংস্কারের প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কিছু মতপার্থক্য থাকবেই, সবাই একমত হবেন না। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হতে পারে, কিন্তু এর মধ্যেও দ্বিমত থাকতে পারে। প্রধান কাজ হচ্ছে ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দিয়ে জনগণের পার্লামেন্ট নির্বাচন করা, আর সেই পার্লামেন্টে জনগণের সব অমীমাংসিত ইস্যু আলোচনা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তার প্রতিনিধিত্ব নির্বাচিত করবে। এখান টার্গেট করে চাপিয়ে দেওয়া বিষয়গুলো জনগণের কাছে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে সেটাও তো আমাদের ভাবা দরকার। আমি খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, পিআর পদ্ধতি (সংখ্যানুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব) সাধারণ মানুষ বোঝে না। এটিকে আগে বোধগম্য করার চেষ্টা করতে হবে, মানুষকে বুঝাতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ