গণসংহতি আন্দোলনের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শুক্রবার, নভেম্বর ৪, ২০২২ ১০:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শুক্রবার, নভেম্বর ৪, ২০২২ ১০:১৭ অপরাহ্ণ

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বর্তমান সংবিধান সংস্কার করে একটা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত না হলে দেশ আরও বিপর্যয়ের দিকে যাবে। দেশকে সামগ্রিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য জনগণের রাজনৈতিক শক্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নির্বাচিত করতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগের অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণসংহতি আন্দোলনের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, সরকার ভোটাধিকার হরণ করেছে। দেশের সার্বভৌমত্বকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। লুটপাট করে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাকে প্রায় দেউলিয়া করেছে। টাকা পাচার করে দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। সংবিধানের ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে, এই সংবিধান জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বরং স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সমম্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু, হাসান মারুফ রুমী, তাসলিমা আখ্তার, মনির উদ্দীন পাপ্পু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, দীপক রায়, ইমরাদ জুলকারনাইন ইমন, তরিকুল সুজন, কেন্দ্রীয় সদস্য সৈকত মল্লিক, অঞ্জন দাস, উবা থোয়াই মারমা, অপূর্ব নাথ, এস এম আমজাদ হোসেন, মিজানুর রহমান মোল্লা, আলিফ দেওয়ান, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সদস্য বাবুল হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জুলহাসনাইন বাবু।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার বিরোধী দলের মিছিল-সমাবেশ দেখলেই গদি হারানোর ভয় পায়। সরকার বিরোধী দলগুলোর গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত কর্মসূচিতে পুলিশ এবং দলীয় গুন্ডা লেলিয়ে বাধা দেয়, গুলি করে। সীমাহীন দুর্নীতি ও টাকা পাচার করে দেশের রিজার্ভ পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে নদী পাহাড় বন জলাশয় দখল করে প্রকৃতিবিনাশী প্রকল্প করছে। এমপি-মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারের ঘনিষ্ঠজনরা অপরাধ করলেও তাদের কোনো বিচার হয় না।
তারা বলেন, একদিকে দেশের টাকা নয় ছয় করে বিদুৎকেন্দ্রের মালিকদের পকেটে তুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে ফেলেছে সমগ্র দেশকে। যেহেতু এই সরকার ভোট ডাকাতি করে জোরপূর্বক ক্ষমতায় বসেছে ফলে জনগণের প্রতি তার বিন্দুমাত্র দায়বদ্ধতা নেই। বিদেশিদের হাতে পায়ে ধরে আবারো ক্ষমতায় বসার ধান্দা করছে। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি হবে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে মানুষ প্রতিবাদে জেগে উঠছে। আমরা জবাবদিহিতাহীন এই একচেটিয়া শাসনব্যবস্থা বদলের জন্য লড়াই শুরু করেছি। জনগণের সম্মিলিত জাগরণের মুখে ফ্যাসিবাদের পতন অবশ্যম্ভাবী।
জনতার আওয়াজ/আ আ