গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে বন্ধের সিদ্ধান্ত হঠকারী ছিল না : সিইসি - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৮:০২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে বন্ধের সিদ্ধান্ত হঠকারী ছিল না : সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২২ ৫:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২২ ৫:০৮ অপরাহ্ণ

 

গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে বন্ধের সিদ্ধান্ত হঠকারী ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেছেন, দেখে শুনেই ভোট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধ নিয়ে ইসির পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও অন্য কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন।

অনিয়মের অভিযোগে সংসদীয় আসনের পুরো ভোট বন্ধ করে দিয়ে আলোচনায় আসে নির্বাচন কমিশন। গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন বন্ধ করা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে নানা বক্তব্য আসছে, কেন এতবড় সিদ্ধান্ত নিতে হলো তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, গাইবান্ধার নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই। ইসি একা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ভোট বন্ধের সিদ্ধান্ত হঠকারী ছিল না। দেখে শুনে বুঝে গাইবান্ধার উপনির্বাচন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সার্কিট হাউজে উপস্থিত থেকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য দেন। সেই সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থানীয় প্রধান, সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে আমি নিজে ও কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি যাতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা সম্ভব হয়।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর যতগুলো নির্বাচন করেছি সবগুলো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলাম যাতে ইভিএমের বিষয়ে যে গোপন ভোটকক্ষে অবৈধ লোক প্রবেশ করে বা অবস্থান করে ভোটারকে ব্যালট ইউনিটে ভোট প্রদানের সুযোগ না দিয়ে অবৈধ প্রবেশকারী তার আঙ্গুল দিয়ে ভোট দিয়ে দেন সে সংক্রান্ত যে অভিযোগ আমরা পেয়েছি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুধী সমাজের সঙ্গে সংলাপ চলাকালে তা বন্ধ করার জন্য। ‘উল্লেখিত সব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিসিটিভি স্থাপনের ফলে এই অপরাধ একেবারেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল। তারই আলোকে এবং গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনের গুরুত্বের কারণে এখানেও ইভিএমে ভোট গ্রহণ ও প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটি ভোটকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

সিইসি বলেন, ‘গতকাল সকাল আটটায় যথারীতি ভোট শুরু হয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, আগারগাঁও-এ স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে আমিসহ অন্যান্য কমিশনারগণ, দায়িত্ব পালনকারী সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ও কারিগরি সহায়তাকারী ব্যক্তি, মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা তিনটি কেন্দ্রে দেখতে পাই ভোট কক্ষে প্রার্থীর পুরুষ এজেন্টগণ একই রকম গেঞ্জি বুকে ও পিঠে প্রার্থীর মার্কা ইত্যাদি প্রিন্ট করা, পরে আছেন এবং মহিলা এজেন্টরা একই রকম শাড়িপড়া যা আচরণ বিধিমালার ১০ (ঙ) ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। এই সকল এজেন্টরা ছাড়াও আরও অনেক অবৈধ লোকজন ভোটকক্ষে অবস্থান করে ভোটারদের ভোট দিতে প্রভাবিত করছেন। ভোটাদের কন্ট্রোল ইউনিটে আঙ্গুলের ছাপ দেয়ার পরপরই এজেন্টরা গোপন ভোটকক্ষে প্রবেশ করে ভোটারকে ভোট দানের সুযোগ না দিয়ে নিজেই ভোট দিয়ে দিচ্ছেন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ একই কাজ করছেন। তখন কমিশন থেকে ফোন দিয়ে প্রিসাইডিং অফিসারদের ভোটকক্ষের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু ভোট কক্ষের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ তাদের গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। তখন ওই তিনটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

‘এরপর একে একে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ৫০টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের অবস্থা একই রকম দেখা যায়। ইতোমধ্যে রিটার্নিং অফিসার একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেন। আমি এবং বেগম রাশেদা সুলতানা রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলি। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয় নাই। অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতেও সিসিটিভি দেখার সময় পেলে দেখা যেত যে ও কেন্দ্রগুলোতেও একই অবস্থা তাই কমিশন মনে করে যে এই ধরনের একটি আইন বহির্ভূত ভোগ প্রদান/গ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুপুর আড়াইটায় গাইবান্ধা- ৫ আসনের উপনির্বাচন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।’-বলেন হাবিবুল আউয়াল।

অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, অনিয়ম তদন্ত করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরে গাইবান্ধা-৫ আসনের পরবর্তী নির্বাচন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ