‘গুপ্ত রাজনীতি’ চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে: ছাত্র জমিয়ত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:১৮, বুধবার, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

‘গুপ্ত রাজনীতি’ চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে: ছাত্র জমিয়ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
শিক্ষাঙ্গনে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চিরতরে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় মধুর ক্যান্টিন-এ আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে সংগঠনটির সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ ধরনের সহিংসতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানায়, “ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়।” পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতিকে তারা ‘নোংরা প্রতিযোগিতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয়।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার যে ঐক্যবদ্ধ শক্তি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল, বর্তমানে সেই শক্তি বিভক্ত হয়ে সংঘাতের দিকে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

‘গুপ্ত রাজনীতি’ প্রসঙ্গে সংগঠনটি অভিযোগ করে, কিছু রাজনৈতিক সংগঠন এখনো গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির পরিপন্থী। তাদের ভাষ্য, “ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে গোপন রাজনীতির অর্থ হচ্ছে অগণতান্ত্রিক পরিকল্পনা বা ‘হিডেন এজেন্ডা’ লালন করা।”

তারা আরও উল্লেখ করে, গোপন রাজনীতি ক্যাম্পাসে হঠাৎ উত্তেজনা তৈরি করে এবং শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এ ধরনের কার্যক্রমকে তারা ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান করার দাবি জানায়।

ছাত্র রাজনীতি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবির সমালোচনা করে সংগঠনটি জানায়, তারা ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয়; বরং ‘লেজুড়বৃত্তিক ও সন্ত্রাসী রাজনীতি’ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব বৈধ ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কোনো রাজনৈতিক দলের ‘টর্চার সেল’ হতে পারে না; বরং এটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়া উচিত। হলে সিট বাণিজ্য ও তথাকথিত ‘বড় ভাই সংস্কৃতি’ বন্ধ করে প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলে, কোনো শিক্ষার্থীকে তার রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে চাপের মুখে পড়তে দেওয়া যাবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সচেতন বলয় গড়ে তোলার কথাও তুলে ধরা হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো—
১. ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়িত সকল পক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
২. গুপ্ত ও গোপন ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং সব রাজনৈতিক কার্যক্রম উন্মুক্ত ও দৃশ্যমান করতে হবে।
৩. প্রতিটি হলের গেস্টরুম ও গণরুম প্রথার অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক আবাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং ক্যাম্পাসকে কোনো একক সংগঠনের পেশিশক্তির আধিপত্যে যেতে দেওয়া যাবে না।
৪. সংঘাতমুক্ত ও ইনসাফপূর্ণ শিক্ষাঙ্গন গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এবং পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সহসভাপতি নুর হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক সাদ বিন জাকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক বায়জিদ আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনআমুল হাসান নাইম, প্রচার সম্পাদক আহমাদ আল গাজি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তকি, নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহসভাপতি কামরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলার আহ্বায়ক আহমাদ, মিনহাজুল ইসলাম, নাহিদ আজাদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ