গোলাপবাগ গণসমাবেশ চক্রান্তের দোলাচালে অবিচল জনতার বিজয় - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৯:০৩, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

গোলাপবাগ গণসমাবেশ চক্রান্তের দোলাচালে অবিচল জনতার বিজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ১১, ২০২২ ১০:০১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, ডিসেম্বর ১১, ২০২২ ১০:০১ অপরাহ্ণ

 

আমিরুল ইসলাম কাগজী
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
এক।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে, গুলি চালিয়ে, এবং অফিসে বোমা রেখে নাটক মঞ্চস্থ করে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ নয়াপল্টন থেকে গোলাপবাগ মাঠে ঠেলে দিতে সক্ষম হয়েছে। বিগত দশদিন নানা নাটকীয় কাহিনি সৃষ্টি করে তারা বিএনপির গণসমাবেশ বানচাল করার উদ্যোগ নিয়ে দিন শেষে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ৭ই ডিসেম্বর থেকে উস্কানি দিয়ে বিএনপিকে ফাঁদে ফেলানোর অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু ধন্যবাদ দিতে হবে বিএনপির নেতৃত্বকে, তারা সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। গণসমাবেশের জন্য গোলাপবাগ মাঠ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর সঙ্গে সঙ্গে লুফে নিয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন বিএনপি। আর ওবায়দুল কাদের বললেন, গোলাপবাগ মাঠে গিয়ে বিএনপির পরাজয় হয়েই গেছে। আকন্ঠ হাসি দিয়ে বললেন, “আমাদের কর্মীরা বসে থাকবে না। বিএনপিকে ঠেকাতে তারা মাঠে থাকবে প্রস্তুত।”
দুই।
ঢাকার গণসমাবেশ বানচাল করার জন্য ৭ই ডিসেম্বর পুলিশ বিনা উস্কানিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল এবং গুলি চালিয়ে একজনকে হত্যা এবং শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। প্রথম দফায় দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আমানউল্লাহ আমান, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্মমহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে গণসমাবেশ ব্যর্থ করার শেষ অপচেষ্টা করা হয়। তারও আগে ৩ই ডিসেম্বর আমিনবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় যুবদল নেতা সুলতান সালাহ উদ্দীন টুকুকে। ঢাকার গণসমাবেশ বানচাল করার প্রক্রিয়া শুরু হয় সেদিন থেকেই।
তিন।
গণসমাবেশে চোরাগুপ্তা হামলা চালানোর জন্য ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের হেলমেট বাহিনীকে নামিয়ে দেওয়া হয় নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে। দিনভর তারা মহড়া দিয়েছে শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে। মুগদায় একবার হামলাও করেছিলো তারা কিন্তু জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়। গুলিস্তানে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশও করেছে তারা। আবার রাস্তার মোড়ে মোড়ে চেয়ার পেতে বসে পাহার দিতে দেখা গেছে।
চার।
গত ৭ই ডিসেম্বর থেকে নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনের রাস্তার নাইটেঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত হাজার দশেক পুলিশ দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে কোনো লোক চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। বড় করে ব্যানার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা, ‘ক্রাইমসিন’। এই দোহাই দিয়ে আশপাশের অলিগলির মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা বের হতে না পারে। গলির মধ্যে শুক্রবার জুমা নামাজের পর মুসল্লিদের ওপর লাঠিচার্জ করতেও দেখা গেছে।
পাঁচ।
বিএনপি নয়াপল্টনের রাস্তায় মহাসমাবেশ করলে জনদুর্ভোগ হবে বলে তাদের উচ্ছেদ করে গত পাঁচ দিন যাবৎ পুলিশ সেটা দখলে নিয়ে জন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তাতে জনদুর্ভোগ বাড়লো না কমলো সে প্রশ্নের জবাব তাদের দিতে হচ্ছে না। কারণ,বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে ভদ্র-সজ্জন বলে পরিচিত তার সাথে পুলিশ যে আচরণ করেছে তাতে বুঝতে বাকি থাকে না তারা কোন ক্ষমতাবলে বলিয়ান।
এত সবকিছুর উদ্দেশ্য ছিলো বিএনপিকে গণসমাবেশ করতে না দেওয়া। কিন্তু সরকার, আওয়ামীলীগ ও পুলিশের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গণসমাবেশ সফল হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নেতা কর্মীরা বিপুল উৎসাহ নিয়ে একত্রে মিলিত হতে পেরেছে। মতবিনিময় করতে পেরেছে। এর পাশাপাশি বিএনপি তাদের কাঙ্খিত ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করতে পেরেছে। বিএনপির প্রয়োজন ছিলো শান্তিপূর্ণ ভাবে ঢাকার গণসমাবেশ সম্পন্ন করা। শত বাধা উপেক্ষা করে বিএনপি সেই কাজটি করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ঢাকাবাসীকে দেখাতে সক্ষম হয়েছে যে আওয়ামীলীগ এই সমাবেশ পণ্ড করার জন্য কি কি করেছে। সমাবেশ করছে বিএনপি আর মোড়ে মোড়ে পাহারা বসিয়েছে আওয়ামীলীগ দুর্বৃত্তরা। এতে কার কতটুকু লাভ হলো আর কার কতটুকু ক্ষতি হলো সেটা বিচার করতে পারবে জনগণ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ