চট্টগ্রামে প্রার্থীদের গণসংযোগে উৎসবের আমেজ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:২৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে প্রার্থীদের গণসংযোগে উৎসবের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ৪:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জানুয়ারি ২৩, ২০২৬ ৪:২৩ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-১১ আসনের বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ গতকাল নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন। ছবি: মোহাম্মদ হানিফ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। প্রতীক বরাদ্দের পর পরই চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। প্রতীক হাতে পাওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও পুরোদমে নির্বাচনি প্রচার শুরু হয়। জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের এদিন উৎসবমুখর পরিবেশে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেন। হেভিওয়েট প্রার্থীরা এদিন সকাল থেকেই আনুষ্ঠানিক গণসংযোগে নামেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে গণসংযোগ শুরু করেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর কদমতলী বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন কদমতলী মোড় থেকে তার নির্বাচনি গণসংযোগ শুরু হয়। এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়। ফিতা কেটে তিনি নির্বাচনি কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।

পরে তিনি ২৯ নম্বর ওয়ার্ড কদমতলী থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী, সাধারণ জনগণ ও নারীরা গণসংযোগে অংশ নেন। তখন তিনি বলেন, ‘‘রাস্তায় জনগণের ঢল নেমেছে। ধানের শীষের জোয়ার শুরু হয়েছে। মানুষের এর জন্য অপেক্ষা করেছে। ‘সবচেয়ে জনপ্রিয় দল’ হিসেবে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন মানুষ বিএনপির ত্যাগের প্রতিদান দিচ্ছে। ১৬-১৭ বছর বিএনপির নেতা-কর্মীরা গুম-খুন-জেলে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।’’

এদিকে চট্টগ্রাম ১০ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমান হজরত গরিব উল্ল্যাহ শাহ মাজার জিয়ারত করে প্রচার শুরু করেন। গতকাল সকাল থেকে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় গণসংযোগে নামেন। প্রচারের অংশ হিসেবে সাঈদ আল নোমান ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘জনগণের ভোট ও ভালোবাসা নিয়েই আমি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। আজ একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমরা সাধারণ মানুষের মতো প্রচার চালাব। কারও কোনো ক্ষতি করে নয়, মানুষের মধ্যে মিশে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করব ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য।’ তিনি গরিব উল্লাহ মাজার, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও চসিকের বাগমানিরাম ওয়ার্ডে গণসংযোগ চালান।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরের আংশিক) আসনে বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি সকাল পৌনে ৮টায় পারিবারিক কবর জিয়ারতের পর কাট্টলীর মাঈনুদ্দিন শাহ (রহ.)-এর মাজারসহ বিভিন্ন স্থানে জিয়ারত শেষে প্রচারে নামেন।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেকের নেতৃত্বে নির্বাচনি প্রচার করা হয়। সাতকানিয়ার ঢেমশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দুপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের অলিগলিতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জনসংযোগ চালানো হয়।

চট্টগ্রাম-১০ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীর সমর্থনে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে। সকাল ১০টায় শুলকবহর আরকান সোসাইটি থেকে প্রচারের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম-১০ আসনের কাঙ্ক্ষিত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ অবহেলিত। সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্ব ছাড়া প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের সমর্থনে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়। গতকাল বাদ আসর আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদের উত্তর গেট থেকে এ প্রচার অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাজনীতি করে। চট্টগ্রাম-৯ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়, ইনশাআল্লাহ এ পরিবর্তনের প্রতীক হবে দাঁড়িপাল্লা।’

চট্টগ্রামে ১৬ সংসদীয় আসনে এবার ১১৩ প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গতকাল সকাল থেকে তারা নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ