চতুর্থবারের মতো সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি হলেন রতন শেখ - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১:২৭, বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চতুর্থবারের মতো সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি হলেন রতন শেখ

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
বুধবার সকালে সিলেটের ডিআইজি কার্যালয় থেকে সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসির পুরস্কার গ্রহণ করছেন রতন শেখ (মাঝে)। ছবি: খবরের কাগজ
চতুর্থবারের মতো সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।

সোমবার (১০ জুন) ওসি রতন শেখ বিভাগ শ্রেষ্ঠ ওসির পুরস্কার ও সনদপত্র গ্রহণ করেন। সকালে ডিআইজি সিলেট রেঞ্জের কার্যালয় মাসিক ক্রাইম কনফারেন্সে সিলেট বিভাগের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার হাতে তুলে দেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো জিল্লুর রহমান।

ওসির একটি ঘটনা হলো, তিনটি ছাগলছানা নিয়ে এক বৃদ্ধা নারী থানায় এসেছিলেন। জানালেন, মা ছাগলটি চুরি হয়ে গেছে। ওসি বৃদ্ধার কথা ও তিনটি ছাগলছানা নিয়ে অমানবিক ঘটনাটির ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন। মুহূর্তেই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে মা ছাগলটি চুরির কাহিনি বের হলো। পাশাপাশি মন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। মা ছাগলটি চোর চুরি করে কসাইখানায় বিক্রি করে দিয়েছিল। আর কসাই সেটি জবাইও করেছেন। এ অবস্থায় ফেসবুক লাইভে আসেন মন্ত্রীও। তার নির্দেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মা-হারা তিনটি ছাগলছানার দায়িত্ব নেয়। ওসি পরবর্তীতে আরেকটি লাইভ দিয়ে ছাগলছানার আপডেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবহিত করেন।

কেবল এ ঘটনা নয়, সামাজিকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে সুফল পাওয়ার প্রায় সব ঘটনা এভাবে ফেসবুকে উপস্থাপন করে প্রতিকার পাওয়া এই পুলিশ ইন্সপেক্টরের নাম রতন শেখ। তিনি বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি। পুলিশি সেবায় ‘ফেসবুক ফার্স্ট’ বিবেচনায় তাকে সিলেট বিভাগের সেরা ওসি ঘোষণা করে পুরস্কৃত করেছে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি দপ্তর।

সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ওসি রতন শেখ খবরের কাগজকে জানান, ‘এটা আমার ভালো কাজের স্বীকৃতি। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সিলেট বিভাগের ওসিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলাম। সিলেট জেলায় থাকাকালীন দুইবার, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় যোগদান পর দুইবার।’

জানা গেছে, ওসি রতন শেখ টুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। তার কর্মস্থল ছিল সিলেটের জাফলং। এরপর সিলেটের বাইরে থানার ওসি হিসেবে এক দফা দায়িত্ব পালন শেষে ফের সিলেট ফেরেন। সেই ফেরাটা ছিল সিলেটের প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর লুটপাট ঠেকানোর জন্য। তাকে সাদাপাথর এলাকার থানা কোম্পানীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিযুক্ত করা হয়। ওই সময় থেকে তিনি ফেসবুকে সব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন শুরু করেন। সাদাপাথর এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরলে কোম্পানীগঞ্জে থেকে তাকে বদলি করা হয় সুনামগঞ্জ সদর থানায়। সেখানে কর্মরত আছেন প্রায় দুই বছর। টুরিস্ট পুলিশ থেকে থানা পুলিশে পদায়নের পর চারবার তিনি শ্রেষ্ঠ ওসির পুরস্কার পান। এর আগে একবার ‘পিপিএম’ পদকেও ভূষিত হয়েছেন।

ফেসবুকে ‘সুনামগঞ্জ সদর থানা’ নামে একটি পেজ রয়েছে। তথ্য আদান-প্রদান, পুলিশি সেবা ও জানতে চাওয়ার বিষয়ে এ পেজটি ব্যবহার করেন ওসি রতন শেখ। সেখানে ঢুকে দেখা গেছে প্রায় ৬৩ হাজার প্লাস ফলোয়ার রয়েছেন। মানবিক, অমানবিক ও নিখোঁজ বা অন্য যে কোনো বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করা কিংবা পুলিশি পদক্ষেপ এবং ভূমিকার বিষয়ে তাৎক্ষণিক অবহিত করা হয়।

ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করার ঘণ্টাখানেকের মাথায় স্কুলছাত্রকে ফিরে পাওয়ার আরেকটি ভিডিও পেজে পাওয়া যায়। স্কুলছাত্রের অভিভাবক বলেছেন, ওসিকে জানানোর পর তিনি স্কুলছাত্রের ছবি দিয়ে একটি বার্তা দেন। এক ঘণ্টার মধ্যে একটি রেস্তরাঁয় সন্ধান মেলে স্কুলছাত্রর। এ ঘটনার পর ওসি রতন শেখ ওই স্কুলছাত্রটির সঙ্গে উদ্দীপনামূলক কথাও বলতে দেখা গেছে।

স্কুলছাত্রটি বাবার সঙ্গে রাগ করে একটি রেস্তোরাঁ কর্মীর চাকরি নিয়েছিল। তাকে ফিরে পাওয়ার পর ওসি স্কুলছাত্রের বাবাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে স্কুলছাত্রকে বলেন, ‘বাবা তুমি সেখানে কাজ করলে বড় হয়ে একজন রেস্তোরাঁ কর্মী হতে পারতে। আর পড়াশোনা করলে এ রকম রেস্তোরাঁর মালিক হতে পারবে। তুমিই বলো মালিক হবে না কর্মী হবে? ওসির এ প্রশ্নে স্কুলছাত্র মাথা নেড়ে মালিক হওয়ার কথা জানায়। অর্থাৎ পড়াশোনা করবে বলে জানায়।

সর্বশেষ বুধবার বিকেল পাঁচটায় পেজটিতে দেখা গেছে একটি মর্মান্তিক ঘটনা। একটি স্ট্যাটাসে লেখা, ‘হৃদয় নাড়িয়ে দেওয়া ট্রাজেডি, ঘটনা! সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী ১ রোল নম্বরের তুলি নামের মেয়েটি বোনে বোনে মোবাইলফোন ব্যবহার করা নিয়ে পিতার শাসনের ফলে মনের কষ্টে আত্মহত্যা করেছে মর্মে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সময় দেখা যায় যে, রুমে মেয়েটি গলায় দড়ি দিয়েছে, গলায় দড়ি দেওয়ার আগে সে তার সমস্ত সার্টিফিকেট, মেডেল, ক্রেস্ট ছিন্ন ভিন্ন করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলার পর আত্মহত্যা করে।’ ফেসবুকে এ তথ্যের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কিছু ছবিও দেওয়া। এরপর যে পরামর্শ দেওয়া হয়, তা সবার জন্য বিশেষ সতর্ক বার্তা। বলা হয়, ‘সন্তানদের শাসন করার ক্ষেত্রে একটু সতর্ক হবো আমরা’।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ