চবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন দেয়ালে হামে শিশু মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্কিত বার্তা এবং পুলিশ হত্যার বিচার দাবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাতে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এমনটি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী।
আজ ২৭ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়ি, পুরাতন আইইআর ভবন, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ এবং চবি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারগুলোতে ‘নিষ্পাপ শিশুদের রক্ত ড. ইউনূসের হাতে’, ‘পুলিশ হত্যার বিচার চাই’, ‘ফ্যাসিস্ট নয়, বাংলাদেশের আর্টিস্ট শেখ হাসিনাসহ নানা রাজনৈতিক ও বিতর্কিত স্লোগান লেখা ছিল। এছাড়া হামে শিশু মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন বার্তাও দেওয়া হয়। পোস্টারের নিচে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ’ লেখা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ক্যাম্পাসে এসে দেয়ালে এসব পোস্টার দেখতে পান তারা। পুরাতন কলা ভবনসংলগ্ন ঝুপড়ির এক দোকানি বলেন, সকাল ১০টার দিকে দোকান খুলে তিনি দেয়ালে ছাত্রলীগের পোস্টার দেখতে পান, যার একটি আংশিক ছেঁড়া ছিল। পরে শিক্ষার্থীরা ঝুপড়ির বাকি পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং পোস্টারিং ও গোপন তৎপরতার মাধ্যমে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। যেহেতু সংগঠনটি আইনত নিষিদ্ধ এবং শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে তাদের ক্যাম্পাস থেকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই এ ধরনের কার্যক্রমকে শিক্ষার্থীরা নেতিবাচক হিসেবে নিচ্ছেন। চাকসুর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা না থাকায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আনা হয়েছে। ক্যাম্পাসে এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও যদি কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তবে তা প্রতিরোধ করা হবে। তিনি মনে করেন, প্রশাসন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নিলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।’
শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ অভিযোগ করেন, আগেও ছাত্রলীগের কার্যক্রমের বিষয়ে তারা প্রক্টর অফিসসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রোভিসিকে অবহিত করেছিলেন, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে গোপনে থাকা ছাত্রলীগের সদস্যরা নাশকতার পরিকল্পনা করছে, যার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘পুলিশ সূত্রে তারা পোস্টার লাগানোর তথ্য জানতে পারেন। তবে কারা এ কাজ করেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পোস্টারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে জানান তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’
জনতার আওয়াজ/আ আ