চলতি সপ্তাহে বিএনপি’র এক দফা আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, জুলাই ৯, ২০২৩ ১২:২৩ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, জুলাই ১০, ২০২৩ ১:০২ অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক
আগামী বুধবার সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলে বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আলাদা আলাদা সমাবেশ থেকে যুগপৎ কর্মসূচি ঘোষণা করবে বিএনপিসহ সমমনা বিরোধী দলগুলো। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে।
২০১৩-২০১৪ সালের পর এবারই তাদের সমন্বিতভাবে মাঠে নামতে দেখা যাচ্ছে। প্রথমে তারা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের আল্টিমেটাম দিবে সরকারকে। না মানলে সরকার পতনের হুমকি দিবে তারা।
দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে তারা। দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকেও সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। আজ (রবিবার) বিকেলে সমাবেশ সফলে যৌথ সভাও করবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি। আগামীকাল (সোমবার) গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শিগগিরই আমরা এক দফা আন্দোলন শুরু করব। অর্থাৎ বিএনপি দশ দফা ও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দফাগুলো মিলিয়ে এক দফা করা হয়েছে। অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং বর্তমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন কমিশনের অধীনে নির্বাচন। এখন এসব দাবি নিয়ে একটা জায়গায় আমরা এসেছি। সেটা মূলতই এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগের দাবি।’
তিনি আরও বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের মতো কোনো কর্মসূচিতে সচেতনভাবে আমরা যাচ্ছি না। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন হচ্ছে, আগামী দিনেও তাই হবে। তবে এবারের আন্দোলনের ধরন হবে ভিন্ন। জনগণের সম্পৃক্ততাও থাকবে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। সরকার যাতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় রাজপথের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গতিও সেভাবে তরান্বিত হবে।’
জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আওয়ামী নাৎসিরা জনগণের যে শক্তিকে উপেক্ষা করেছে সেই শক্তি সমাজের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শক্তি। জনগণ এখন শৃঙ্খল ভেঙ্গে মুক্ত হওয়ার জন্য জেগে উঠেছে। তারা এই অবৈধ সরকারের পতন চায়। পরমাণুর অন্তর্নিহীত গোপন বিপুল শক্তির ন্যায় জনগণের শক্তি বিষ্ফোরিত হয়ে বর্তমান নিপীড়ক জুলুমশাহীর পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে। গনতন্ত্রের বন্ধনহীন জয়যাত্রার সার্থক করবে জনগণের শক্তি।’
বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চ সূত্র জানায়, যুগপৎ কর্মসূচিতে আন্দোলনের সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হবে। কর্মসূচির মধ্যে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পদযাত্রা, লংমার্চ ও রোর্ডমার্চ এবং সব শেষে ঢাকামুখী ‘চল চল ঢাকা চল’ কর্মসূচি থাকবে। নির্বাচন কমিশন, সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচির চিন্তাও দলের মধ্যে রয়েছে।
এক দফার চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। এছাড়া গত শুক্রবার বিকেলে ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করেন দলটির শীর্ষ নেতারা। আগামী কয়েকদিনে গণতন্ত্র মঞ্চ, এলডিপিসহ সমমনা দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ লিয়াজোঁ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
সূত্র জানায়, সমমনাদের পাশাপাশি অনির্ধারিতভাবে আরও কয়েকটি দলের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ব্রেকিংনিউজকে জানান, বিএনপি এক দফার আন্দোলন ঘোষণার জন্য প্রস্তুত। বারবার সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই এক দফা ঘোষণা হবে। এজন্য সিরিজ বৈঠক চলছে।
সূত্রমতে, বিএনপি ছাড়াও এক দফা আন্দোলনে একমত হয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চে থাকা ৬ দল-জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এলডিপি, গণফোরাম (একাংশ), পিপলস পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি। ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটে থাকা-জাতীয় পার্টি (জাফর), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় দল, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট (মাওলানা আবদুর রকীব), জাগপা (তাসমিয়া প্রধান), বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জাগপা (লুৎফর), ডেমোক্রেটিক লীগ, পিপলস লীগ, বাংলাদেশ ন্যাপ (শাওন), বিকল্প ধারা বাংলাদেশ (নুরুল আমিন বেপারী), সাম্যবাদী দল (নূরুল ইসলাম), গণদল, ন্যাপ ভাসানী (আজহারুল ইসলাম) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি পার্টি। গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (মার্কবাদী-লেলিনবাদী) ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি নেতারা জানান, আপাতত এসব দল এক দফা আন্দোলনে থাকছে। পরে আরও বেশ কয়েকটি দল যুক্ত হতে পারে।
জনতার আওয়াজ/আ আ