চলমান যুগপৎ আন্দোলন দমাতে জোটে ভাঙন ধরানোর শঙ্কা বিএনপির - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৪০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চলমান যুগপৎ আন্দোলন দমাতে জোটে ভাঙন ধরানোর শঙ্কা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৩ ৩:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: রবিবার, এপ্রিল ৯, ২০২৩ ৩:৪০ অপরাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
চলমান যুগপৎ আন্দোলন দমাতে শরিক জোটে আওয়ামী লীগ সরকার ভাঙনের চেষ্টা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিএনপি। তাই ভাঙন রোধে মিত্রদের সরকারি কোনো প্রলোভনে পা না দিতে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনসহ পরবর্তী সময়ে সরকার গঠন করলে যোগ্যতা অনুযায়ী যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছে দলটি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে এমন আশ্বাস দিয়েছে বিএনপি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করেছে বিএনপি। আন্দোলনে সমমনা ৩৮টি দল সম্পৃক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সাত দলের গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলের জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট এবং চার দলের গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য রয়েছে। এর বাইরে জামায়াত ও এলডিপি পৃথকভাবে এবং গণফোরাম (মন্টু) ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি) যৌথভাবে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করছে। গণমিছিলের মধ্য দিয়ে আন্দোলন শুরুর পর গত সাড়ে তিন মাসে দেশব্যাপী গণঅবস্থান, প্রতিবাদ সমাবেশ, পদযাত্রা, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে মিত্ররা। সর্বশেষ গতকাল শনিবার দেশব্যাপী দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।

বিএনপির দাবি, যুগপৎ আন্দোলন ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আন্দোলনে সমর্থন দিচ্ছে। আন্দোলন ক্রমেই বেগবান হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার যুগপৎ আন্দোলন নিয়ে উদ্বিগ্ন ও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাই আন্দোলন দমাতে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে যুগপতের জোটে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করতে পারে সরকার।

শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া বিএনপির ঈদের পরে বড় আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা রয়েছে। দলটির শঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলন দমাতে যুগপতের শরিক দল ও জোটগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রলোভন দেখানো হতে পারে। বিশেষ করে নিবন্ধিত দলগুলোকে নির্বাচনে আনতে এমপি বানানোর প্রস্তাব দিতে পারে সরকার। রাজি না হলে শরিকদের ওপর মামলা, গ্রেপ্তারসহ নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে গতকালের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে নেতারা বলেন, আন্দোলন দমাতে যুগপতের জোটে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করতে পারে সরকার। ইতোমধ্যে হয়তো এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, না হলে সামনে শুরু হবে। এ ব্যাপারে যুগপতের সব শরিককে সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তৎকালীন ২০ দলীয় জোটে ভাঙনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এমপি বানানোসহ সরকারি নানা প্রলোভনে তখন জেবেল রহমান গণির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ এবং খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার নেতৃত্বাধীন এনডিপি ২০ দলীয় জোট ছেড়ে যায়। কিন্তু তারা আজ রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। কিছুই হতে পারেনি, কোথাও তাদের কোনো অবস্থান নেই। তাই আপনারা (সমমনা জোট) সতর্ক থাকবেন। শুধু যুগপতের শরিকদের নয়, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির অনেক নেতাকেও সরকারের পক্ষ থেকে এমন প্রলোভন দেখানো হতে পারে বলে শঙ্কা দলটির।

বৈঠকে সমমনা জোট নেতাদের বিএনপির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি আদায় করেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বিএনপি। তখন অতীতের মতো যোগ্যদের মনোনয়ন প্রদান করা হবে। আর যারা ধানের শীষ পাবেন না, বিএনপি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে যোগ্যতা অনুযায়ী তাদেরও যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

সূত্রমতে, বৈঠকে বিএনপির চলমান আন্দোলন নিয়ে বিদেশিদের অবস্থান কী, তা জোটের একজন নেতা জানতে চান। উত্তরে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বিএনপির সঙ্গেই রয়েছে। অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রশ্নে তারা সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। তবে বিদেশিরা এসে কিছু করে দেবে না, যা করার আমাদেরই করতে হবে।

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রথম থেকেই আমরা অত্যন্ত গণতান্ত্রিক উপায়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আসছি। এ আন্দোলনের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৮টি রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত হয়েছে, আন্দোলন আরও চলবে, আগামী দিনে আরও বেগবান হবে। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়কারী এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, আমরা একমত হয়েছি—শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না এবং আগামীতে আন্দোলনকে কীভাবে আরও বেগবান করা যায়, সে বিষয় নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।

ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে বৈঠকে সমমনা জোটের জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান ও এসএম শাহাদাত, বিকল্পধারা বাংলাদেশের নুরুল আমিন বেপারী, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী ও প্রকৌশলী আব্দুল বারিক, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি মণ্ডল, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ছিলেন। অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ