চাঁদপুর ২-বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে সক্রিয় ইসলামী দল - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চাঁদপুর ২-বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মাঠে সক্রিয় ইসলামী দল

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৫ ১:০০ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৫ ১:০০ পূর্বাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গত এক বছর চাঁদপুর জেলার সবগুলো নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিযোগিতামূলক প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এমএ শুক্কুর পাটোয়ারী ছাড়া অনেকেই থাকেন নির্বাচনী এলাকার বাইরে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে তাদের আগমন ঘটে নিজ এলাকায়। সমপ্রতি নির্বাচনী তফসিলের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার পর নেতাদের আগমন বেড়েছে নির্বাচনী এলাকায়। সামাজিক ও রাজনৈতিক সভা এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এসব নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আসনে ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। এবারও তিনি দলের থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন জনপ্রিয় নেতা মো. আবদুস শুক্কুর পাটোয়ারী। ব্যক্তিগত সদাচরণ, সদালাপ, জনসেবা, জনকল্যাণ, নীতি- নৈতিকতা, সততা, ত্যাগ, মেধা-মননশীলতা ও নেতৃত্ব গুণের কারণে তাকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান সব নির্বাচনেই বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এমএ শুক্কুর পাটোয়ারী। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বার বার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় রেকর্ডও আছে তার। এবার মতলববাসী স্বপ্ন বুনছেন তাকে জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধি করে পাঠানোর। তিনি নিজেও সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বিগত কয়েকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করায় তিনিও সেসব নির্বাচন বর্জন করেন।

ছাত্রজীবন থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম ও প্রতিটি নির্বাচনে তিনি দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি রাজপথে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরপর আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেয়ায় বহু রাজনৈতিক মামলা, হামলা ও কারাবরণের শিকার হন। সর্বশেষ গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

বিশেষ গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি’র প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে শুক্কুর পাটোয়ারী তার অনুসারী নেতাকর্মী-সমর্থকসহ রাজনীতির মাঠে থেকে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকার বাইরে চাঁদপুর জেলা, কুমিল্লায় বিভাগীয় ও ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীসহ অংশগ্রহণ করেন তিনি। রোড মার্চ, বৃহৎ জনসমাবেশসহ দলীয় কর্মসূচিতে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সরব উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীদের দলের দুঃসময়ে উজ্জীবিত রেখেছে। বিগত প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

এমএ শুক্কুর পাটোয়ারী বলেন, আমি ১৯৭৯ সাল থেকে অদ্যাবধি বিএনপি ঘোষিত সকল কর্মসূচি নিজের জীবন-যৌবনের সোনালি দিনগুলো বিসর্জন দিয়ে নিজের এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় থেকেছি। ১৭ বছর জনপ্রতিনিধি থাকাকালীন কোনো দুর্নীতি আমাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি এবং কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আমি আল্লাহ্‌র রহমতে কখনো পরাজিত হইনি। বৃহত্তর পরিসরে জনসেবা ও জনকল্যাণের লক্ষ্যে আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। আমার এলাকার জনগণও সেই প্রত্যাশা করছে। আশা করি জাতীয় সংসদে একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে একজন আদর্শ জনপ্রতিনিধি কেমন হতে পারে আমি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারবো ইনশাআল্লাহ্‌।

পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী নুরুল হুদার ছেলে তানভীর হুদাও রয়েছেন মাঠ পর্যায়ের প্রচারণায়। বিএনপি থেকে এই তিনজন ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন- ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি ডা. সরকার মাহমুদ আহমেদ শামীম ও বাংলাদেশ কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু। এছাড়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত একামাত্র প্রার্থী হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মুবিন এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমেদ সাকী। এছাড়া এনসিপি ও অন্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে প্রচারণায় আসেনি।

বিএনপি নেতা ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, শুধুমাত্র নির্বাচনকেন্দ্রিক না, আমি দলের জন্মলগ্ন থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। বর্তমানে দলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি। আমার স্বপ্ন নির্বাচিত হলে মতলবের সঙ্গে জেলা ও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবো।

জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক তানভীর হুদা বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে নির্বাচন। শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় নয়, সব সময় আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করার চেষ্টা করছি। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় তার কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু বলেন, আমি আগে এই আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য দল থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হয় তার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে।

জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আব্দুল মবিন বলেন, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় আমি নিয়মিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। তাদেরকে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার ডাকে এগিয়ে আসার আহ্বান করছি। আমার বিশ্বাস ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভোটাররা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তাদের সমর্থন দেবেন।

ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মুফতি মানসুর আহমেদ সাকি বলেন, এই মনোনয়ন আমার জন্য সম্মানই নয়, বরং জনগণের সেবা করার এক বিশাল আমানত। নির্বাচনে আমি শুধু একটি প্রতীক নয়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়ে দাঁড়াতে চাই। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে এই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল এবং সর্বশেষ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এসব নেতার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তারা এখন পলাতক রয়েছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ