চুক্তিতে না পৌঁছালে ফের যুদ্ধ, ইরানকে হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ২:৪৫, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চুক্তিতে না পৌঁছালে ফের যুদ্ধ, ইরানকে হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১১:৫২ অপরাহ্ণ

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে মার্কিন বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের কার্যকর কোনো নৌবাহিনী নেই, যার ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ এখন মার্কিন নৌবাহিনীর হাতে রয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিট হেগসেথ বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে তিনি বেঁচে আছেন।

তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর সময় বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। সেই সময় তার ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

তেহরানকে চুক্তিতে রাজি করানোর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে প্রবেশকারী কিংবা দেশটি থেকে বেরিয়ে যাওয়া সব ধরনের জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পিট হেগসেথ আরও বলেন, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ—একটি হলো সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ ও “সোনালি সেতুবন্ধন” গ্রহণ করা, যা তিনি ইরানি জনগণের স্বার্থে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্য পথ বেছে নিলে ইরানের অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত লক্ষ্য করে হামলার মুখে পড়তে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, তেহরান যদি অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হবে।

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে উদ্দেশ করে হেগসেথ বলেন, এটি কোনো সমান শক্তির যুদ্ধ নয়। মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোন ধরনের সরঞ্জাম কোথায় সরানো হচ্ছে, তা তাদের জানা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনী যেকোনো সময় পুনরায় বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি আরও জানান, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ইরানের পতাকাবাহী কিংবা ইরানকে সহায়তা করছে—এমন যেকোনো জাহাজকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা সব জাহাজকে বাধা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

কেইন বলেন, এই অবরোধ ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা ও আন্তর্জাতিক জলসীমা—উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর থাকবে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১৩টি জাহাজ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা না করে ফিরে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজে জোরপূর্বক তল্লাশি চালানো হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ