চুমুক রেস্তোরাঁয় আগে দুর্ঘটনা ঘটলেও, জানেনা মালিক সমিতি - জনতার আওয়াজ
  • আজ সন্ধ্যা ৭:০৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চুমুক রেস্তোরাঁয় আগে দুর্ঘটনা ঘটলেও, জানেনা মালিক সমিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ৫, ২০২৪ ২:৫০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: মঙ্গলবার, মার্চ ৫, ২০২৪ ২:৫০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বেইলি রোডের গ্রিন কোজি ভবনের অগ্নিকান্ডের ঘটনার ৪-৫ দিন আগেও চুমুক রেস্তোরাঁয় একটু ছোট দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তবে সেই ঘটনা ভবন মালিক, রেস্তোরা মালিক বা সংশ্লিষ্ট কাউকেই জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাজধানীর বিজয়নগরের আল-রাজী কমপ্লেক্সে সংগঠনটির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

গ্রিনকোজিতে আগ্নিকান্ডের ঘটনায় রেস্তোরা মালিক, ভবন মালিকসহ সকল সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সবাই দায়ী উল্লেখ করে ইমরান হাসান বলেন, এই অবস্থা এখানে একদিনে গড়ে উঠেনি। সেই চুমুক রেস্তোরায় চার-পাচ দিন আগেও একটা ছোট দুর্ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু ভবন বা রেস্তোরা মালিক সেটা কাউকে জানানো হয়নি। আমি স্বীকার করি এইটা অবহেলাজনিত দুর্ঘটনা।

রেস্তোরাঁ শিল্পকে নিরাপদ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়। সরকারের অথরিটিগুলো যাবে ম্যানেজ হয়ে ফিরে আসবে। অথবা এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে আমরা লাইসেন্সই পাবো না। লাইন্সেন্স না পেলে আমরা আন্ডার টেবিল তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করবো। সেটাই এতোদিন হয়ে আসছে। এতোবছর ধরে এতোগুলো দিনের পর দিন চলছে, প্রশাসন কেন ঘুমিয়ে ছিল?

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরে ৫০০ এর বেশি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু সেগুলোর কোন সাড়া পাইনি। তারমানে সরকারও উদাসীন ছিল। এ সময় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানান তিনি। তিনি টাস্কফোর্সের শর্ত পূরণ করতে পারলেই শুধুমাত্র রেস্তোরাঁর অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানান।

সরকার ও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতার দায় মালিকপক্ষের উপর চাপানো হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ মালিকদের উপর চরম জুলুম হচ্ছে। সারা ঢাকা শহরে তান্ডব চলবে। আমরা সিলিন্ডার বানিয়েছি? বলছে সিলিন্ডারের লাইন্সেন্স লাগবে। এতো জনকে গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু পুলিশ বলছে তারা মামলা দেয়নি। কিন্তু তাদের তো জামিন হলো না।

তিনি বলেন, আমাদের যে পরিমাণ হয়রানি করা হচ্ছে তা কোন সভ্য দেশে হতে পারে না। তারা হায়েনাদের মতো ঝাপিয়ে পড়েছে। এই দূর্নীতিবাজ অফিসাররা কেন এতোদিন ঘুমিয়ে ছিল?

কিছু পুঁজিপতির কাছে সমস্ত ব্যবসা চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে সমস্ত ব্যবসা কিছু কর্পোরেটের হাতে। বেকারি ব্যবসা চার-পাঁচ জনের হাতে চলে গেছে। তাদের নজর এখন আঠারো কোটির মার্কেট। কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে চ্যানেল আছে, মিডিয়া আছে। তারা তাদের মতো আইন করে, তাদের মতো বাস্তবায়ন করেন।

ইমরান হাসান বলেন, বহুজাতিক কোম্পানির হাতে ব্যবসা তুলে দেয়ার জন্যই এখন প্রচেষ্টা চলছে। ফ্রোজেন ফুডের মাধ্যমে ২০-২৫ দিনের বাসী খাবার মানুষকে খাওয়ানোর জন্য তারা চেষ্টা চালাচ্ছে। সব সেক্টরেই ত্রুটি বিচ্যুতি আছে। কিন্তু বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। এখন অভিযান লোকদেখানো। যাদের দায়িত্ব এসব দেখভাল করার তাদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই এখন অভিযান চালানো হচ্ছে। এতদিন তারা কোথায় ছিলেন?

তিনি বলেন, আমাদের সবধরণের লাইসেন্স আছে। বিল্ডিং এর সমস্যা হলে যে বিল্ডিং মালিক আমাদের ভাড়া দিলো তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই? কোন অবৈধ রেস্তোরাঁ নাই। ট্রেড, ট্যাক্স, ফায়ার, টিআইএনসহ ১২ ধরণের লাইসেন্স আছে।

তিনি অভিমান করে বলেন, সমস্যা হচ্ছে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এখানে বাঁচতে দেওয়া হবে না। বেকারির মতো রেস্তোরাঁ শিল্পও কিছুদিনের মধ্যেই শিল্পপতিদের কাছে চলে যাবে। এটা নিয়ে একটা গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, হাইকোর্ট কি দেখতে পাচ্ছে না, আমাদের উপর জুলুম হচ্ছে? আমি মনে করি, বিচারহীনতার সমাজ এটা। আজকে আমরা নিরীহ বলে মোবাইল কোর্ট, মামলা সব আমাদের উপরে। যারা দায়িত্বে অবহেলা করলো তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেন তো।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মো. আন্দালিব, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ