চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় নাদিমকে খুন’ ৪ জন আটক - জনতার আওয়াজ
  • আজ দুপুর ১২:৫৫, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় নাদিমকে খুন’ ৪ জন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, জুন ১৬, ২০২৩ ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, জুন ১৬, ২০২৩ ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক নিউজ
জামালপুরের বকশীগঞ্জের সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল আলম বাবুর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী-সন্তানরা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানসহ এ ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে আটকদের নাম-পরিচয় জানায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সাংবাদিক নাদিম অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি উপজেলার নিলাখিয়া ইউনিয়নের গোমের চর গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে। এর আগে, গত ১১ এপ্রিলেও নাদিমের ওপর একবার হামলার ঘটনা ঘটে। সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তার ওপর ওই হামলা করা হয়েছিল।

গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে সহকর্মী আল মুজাহিদ বাবুর সঙ্গে বাড়িতে ফেরার সময় ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত সাংবাদিক নাদিমের ওপর হামলা করে। পরে পথচারীসহ মুজাহিদ তাকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখান থেকে রাতেই তাকে ২৫০ শয্যার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশঘরের সামনে মরদেহ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। এমন নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নিহতের স্ত্রী মনিরা বেগম, ডিগ্রি পড়ুয়া বড় ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাত, অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ুয়া মেয়ে রাব্বিরাতুল জান্নাত ও প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ছেলে রিশাদ আব্দুল্লাহসহ স্বজনরা। লাশঘরের সামনেই তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ।

নিহত নাদিমের মেয়ে রাব্বিরাতুল জান্নাত বলেন, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহামুদুল আলম বাবুর অপকর্ম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে সংবাদ করায় আমার বাবা ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন তিনি। এমনকি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাও করেছিলেন। কিন্তু গতকাল বুধবার ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনাল সেই মামলা খারিজ করে দেন। সংবাদের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চেয়ারম্যানসহ জড়িতদের গ্রেফতার এবং হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

তার স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, একজন সাংবাদিকের কাজ হলো সত্য প্রকাশ করা। আমার স্বামী সেটাই করেছেন। আর এজন্য আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই, আমার স্বামীকে হত্যার যেন উপযুক্ত বিচার হয়। বাবু চেয়ারম্যানসহ যারা জড়িত তাদের সবার ফাঁসি চাই। এমন কঠিন শান্তি হয় যেন আর কোনো সাংবাদিককে নির্যাতনের শিকার ও প্রাণ দিতে না হয়।

হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিক নাদিমের সহকর্মী আল মুজাহিদ বাবু বলেন, সাধুরপারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলম বাবুর করা ডিজিটাল আইনের মামলা গতকাল ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে দিয়েছেন। এ নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল। এর দুই তিন ঘণ্টা পর রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে নাদিমের ওপর হামলা হয়।

তিনি আরও বলেন, নাদিমকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গলা ধরে ফেলে দিয়ে তারপর পাশের একটি অন্ধকার গলিতে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন মাহমুদ আলম বাবুর লোকজন। ঘটনার সময় ওই গলিতে অন্ধকারে আড়ালে দাঁড়িয়েছিলেন চেয়ারম্যান মাহমুদ আলম বাবু। সেসময় তার ছেলে রিফাত, ফয়সাল, রেজাউল, মনির, সাইদসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। একপর্যায়ে রিফাত (২৭) সাংবাদিক নাদিমের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে। মারধরের সময় আমি আটকাতে গেলে আমাকেও তারা মারেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী চলে যায়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সাধুরপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আটকে বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যায় সিসিটিভির ফুটেজ দেখে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। বাকিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) নাছির উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, নিহত সাংবাদিকের ওপর হামলাকারীদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের পাঁচটি দল মাঠে কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা হবে।

নিহত সাংবাদিক নাদিমের মরদেহ গ্রহণের জন্য স্বজনেরা ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় মামলা হয়নি।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ