ছাত্র সংসদ নির্বাচন:ছাত্র রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসুক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৯, ২০২৫ ৯:৪১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৯, ২০২৫ ৯:৪১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফেরার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারই সুবাতাস বইতে শুরু করেছে আমাদের শিক্ষাঙ্গনে। বড় বিদ্যাপীঠ ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী মাসের প্রথম পক্ষে। জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের এ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আয়োজন আমাদের সামগ্রিক রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।
শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী জমানার সাড়ে ১৫ বছরে দেশ থেকে গণতন্ত্রকে নির্বাসন দেয়া হয়। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের অপকর্ম সংঘটনের আখড়ায় পরিণত হয়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হেন কোনো অপরাধ নেই যা করেনি। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জেঁকে বসা ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুমে’র মতো অপসংস্কৃতির ইতোমধ্যে অবসান হয়েছে। এখন আলোচনা হচ্ছে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি কেমন হবে, এর আওতা কতটা থাকবে এসব বিষয়ে।
ক্যাম্পাসের পাশাপাশি আবাসিক হলে ছাত্র রাজনীতির ‘স্বরূপ’ কেমন হবে, এ নিয়েও নানা বিতর্ক চলছে। অবশ্য, চব্বিশের অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে ছাত্রসমাজের মাঝে একটি প্রত্যাশা প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে যে, ছাত্র রাজনীতি দলীয় লেজুরবৃত্তির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আবার গঠনমূলক ধারায় ফিরবে। ঢাকা, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে, এমন প্রত্যাশা সাধারণ শিক্ষার্থীদের। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব রাখবে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। এর কারণ, সাবেক পূর্ববাংলা অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতা-উত্তর রাজনীতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে আবর্তিত হয়ে আসছে। কিন্তু ঐতিহ্য ভেঙে ফেলেন দেশের স্বৈরশাসকরা। সেজন্য স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে স্বৈরশাসকরা ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হতে দেননি। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, নব্বইয়ের অভুত্থান-পরবর্তী দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এলেও প্রায় তিন দশক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো নির্বাচিত ছাত্র সংসদ ছিল না। এতে করে ছাত্রসমাজ তাদের অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রবল চাপে ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর এবার মুক্ত-স্বাধীন পরিবেশে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে।
ছাত্র রাজনীতির নামে ক্যাম্পাসে, হলে কারো দখলদারিত্ব চলুক, এটি শিক্ষার্থীরা চান না। ছাত্রলীগ (এখন নিষিদ্ধ) যেভাবে ‘গেস্টরুম কালচার’ নামে হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালাত, মিছিলে যেতে বাধ্য করত, সেই সংস্কৃতি আর কেউ চান না। প্রকৃত বাস্তবতা হলো, প্রচলিত ও গতানুগতিক ছাত্র রাজনীতির পরিবর্তন চান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। স্বায়ত্তশাসিত এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের চাওয়া, ছাত্র রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসুক। ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
আমাদের প্রত্যাশা, দেশের শিক্ষাঙ্গনে দলমুক্ত, শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু হবে। গণ-অভ্যুত্থানের পর এ সুযোগ এসেছে। এবারের ডাকসু, রাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে পরিবর্তনের সূচনা হোক। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ গঠিত হোক। এর মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ একঝাঁক যোগ্য দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব পাবে এটিই সবার চাওয়া।
জনতার আওয়াজ/আ আ