ছায়ানটের নববর্ষের বার্তা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ সেই মাতৃভূমির প্রত্যাশা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১:০৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১:০৭ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি সংগৃহীত
পয়লা বৈশাখকে বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিসত্তা উন্মোচনের বিশেষ দিন হিসেবে উল্লেখ করে গত বছরের নানা নেতিবাচক ঘটনার প্রেক্ষাপটে নির্ভয় ও শঙ্কামুক্ত এক মাতৃভূমির স্বপ্ন জানিয়েছেন ছায়ানট সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী।
১৪৩৩ বঙ্গাব্দের নববর্ষের বাণীতে তিনি বিগত বছরের গ্লানি মুছে ফেলে একটি শান্তিময় ও বৈষম্যহীন আগামীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে রাজধানীর রমনা উদ্যানের বটমূলে নববর্ষ কথনে সারওয়ার আলী এসব কথা বলেন৷
সারওয়ার আলী তার বক্তব্যে গত বছরের কিছু দুঃসহ স্মৃতির অবতারণা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন- রমনার বটমূলে গত বছর নববর্ষের অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে হলেও বছর শেষে সংস্কৃতি অঙ্গনে আঘাত আসে। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের মাত্র দুদিন পরেই গভীর রাতে ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় হারমোনিয়াম, তবলা, তানপুরা ভাঙচুর এবং নালন্দার শিশুদের পাঠ্যপুস্তক ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করার মতো বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে।
একই রাতে দুটি শীর্ষ সংবাদপত্রের ভবনে অগ্নিসংযোগ এবং পরবর্তী দিন উদীচীর ওপর হামলার ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন।
সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছায়ানট সভাপতি বলেন, বাউল শিল্পীদের অপদস্থ করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তিনি ২০০১ সালে রমনার বটমূলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অঘটনকেও বর্তমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে স্মরণে আনেন।
তার মতে, একটি অপশক্তি সাধারণ মানুষকে বাঙালির আজন্ম সঙ্গী সংগীত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়। তিনি বলেন, “তারা আবহমান বাংলা গানকে তার সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার থেকে শেকড়বিচ্ছিন্ন করতে উদ্যত।
বাণীতে কেবল দেশীয় প্রেক্ষাপট নয়, বরং বৈশ্বিক অস্থিরতা নিয়েও কথা বলেন তিনি।
ইসরায়েলি নিগ্রহে পারস্য সভ্যতার বিপর্যয় এবং বিশ্ববাসীর আতঙ্কিত অবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি।নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে তিনি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বশান্তির প্রার্থনা জানান।
বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অন্যতম হাতিয়ার সংগীতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ডা. সারওয়ার আলী সমাজে অভয়বাণী শোনার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন।
তিনি প্রত্যাশা করেন- সংবাদকর্মীরা যেন নির্ভয়ে সত্য ও মত প্রকাশ করতে পারেন। শিল্পী ও সাধারণ মানুষ যেন কোনো শঙ্কা ছাড়াই গান গাইতে পারেন। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড যেন হয় নির্বিঘ্ন ও সাবলীল।
পরিশেষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে তিনি এমন এক মাতৃভূমির স্বপ্ন দেখেন যেখানে ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ