ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত জাবি শিক্ষার্থী, প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ২:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ২:২৯ অপরাহ্ণ

জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হল গেইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ছিনতাইকারী ছুরিকাঘাতে এক শিক্ষার্থীর আহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শুরু হয়ে নতুন প্রশাসনিক ভবনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয় মিছিলটি।
এসময় শিক্ষার্থীদের ’ক্যাম্পাস গেইটে ছিনতাই কেন? প্রশাসন জবাব চাই’, ’এম এইচ গেইটে নিরাপত্তা নিশ্চিত কর’, ’সিএন্ডবি থেকে ডেইরি গেইটে পুলিশি টহল জোরদার কর’সহ নানা ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল ইসলাম বলেন, ’ক্যাম্পাস সংলগ্ন গেইটে নিয়মিত ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের সাইকেল চুরি হয়, মোবাইল ছিনতাই হয় অথচ প্রশাসন দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। গতকাল ক্যাম্পাসের একজন শিক্ষার্থী ছুড়িকাঘাতের শিকার হয়েছে। আমরা হুঁশিয়ারি করে দিতে চাই, ক্যাম্পাস সংলগ্ন গেইটে আর কোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ’গতকাল যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মর্মাহত। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এম এইচ গেইটে পুলিশ বক্স স্থাপনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এর আগে গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৮ টার দিকে কলমা এলাকা থেকে টিউশন শেষে হলে ফিরছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের (৫০তম) ব্যাচের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল। পরে সিঅ্যান্ডবি থেকে গাড়ি না থাকায় হেঁটেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল গেইটের দিকে আসছিলেন তিনি। হলের গেটে পৌঁছার মাত্র কয়েক গজ দূরে ছিনতাইকারীরা তার পথরোধ করে দাঁড়ায়। তার সঙ্গে থাকা টিউশনির ৯ হাজার টাকা এবং কিছুদিন আগে কেনা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে পালিয়ে যায়। ১৫ মিনিটের মতো সেখানে অপেক্ষা করে কাউকে না পেয়ে তিনি নিজেই রিকশাযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন। তিনি কোমরের ডান পাশে গুরুতর আঘাত পান।
ভুক্তভোগী রাসেল জানান, টিউশনির টাকা দিয়ে নিজের খরচ চালান তিনি। টিউশনির একসঙ্গে পাওয়া দুই মাসের বেতন নিয়ে আসছিলেন তিনি।
তিনি আরো জানান, ছিনতাইকারীরা ছিল অল্পবয়সী, সংখ্যায় ছিল তিনজন। তারা প্রথমে এসে গলায় শক্ত করে ছুরি ধরেন। এতে তার শ্বাস একেবারে বন্ধ হয়ে আসছিল। ভয়ে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সব দিয়ে দেন। তিনি যাতে আর কাউকে ডেকে আনতে না পারেন, সে জন্য ছিনতাইকারীরা যাওয়ার সময় তার কোমরে একটা কোপ দিয়ে যায়।
জনতার আওয়াজ/আ আ