জনসভায় জাপা নেতা‘শেখ হাসিনাকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনবো - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২৩, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জনসভায় জাপা নেতা‘শেখ হাসিনাকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনবো

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৭:০৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ ৭:০৮ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরী। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া সকল মামলা প্রত্যাহার করার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের নির্বাচনী জনসভায় এ বক্তব্য দেন মোকাম্মেল হক চৌধুরী। সেখানে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থীসহ বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনসভায় মোকাম্মেল হক বলেন, ‘আমাদের নেতা জি এম কাদের বুক ফুলিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলেছেন। জাতীয় পার্টিই একমাত্র দল, যারা সত্য কথা বলেছে। ক্ষমতায় যেতে পারলে আওয়ামী লীগের সকল মামলা আমরা প্রত্যাহার করে দেব। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, ভয় পাইয়েন না। সকাল আটটার মধ্যে নির্বাচনের মাঠে থাকবেন, ভোট দিয়ে বাড়িতে যাবেন। লাঙ্গল মার্কা জয়যুক্ত হবে, আনিছুল ইসলাম মন্ডল ভাই জয়যুক্ত হবে। মিছিল নিয়ে আমরা বের হব। কোন শক্তি আপনাদের ক্ষতি করে সেটাই আমরা দেখব।’

জাপা নেতা বলেন, ‘আজকে বড় দুঃখ লাগে, ভোট হচ্ছে। ভোটের মাঠে আমরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছি। অথচ স্বাধীনতার পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া দলটিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সমর্থনের ভাইয়েরা ঘরে বসে থাইকেন না। তাহলে আপনাদেরই বেশি ক্ষতি হবে। ওই স্বাধীনতাবিরোধীরা যদি কোনোদিন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে, তখন সবচেয়ে বড় ক্ষতি করবে আওয়ামী লীগের।’

একমাত্র জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা আওয়ামী লীগের পক্ষে আছি, তারা জেল-জুলুমকে ভয় করি না। আমরা বলতে চাই, নিরীহ আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর কোনো অত্যাচার-নির্যাতন হতে দেব না।’

এ বিষয়ে জানতে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোকাম্মেল হক চৌধুরীর ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে এই ঘটনায় উপজেলা জাতীয় পার্টি নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মো. মোস্তাকুর রহমান একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মোকাম্মেল চৌধুরীর বক্তব্যে শেখ হাসিনা সংক্রান্ত যে কথা বলেছেন সেটা ভুলবশত হয়েছে এবং সেটি তার ব্যক্তিগত মতামত।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসির কালবেলাকে বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে কেন আমরা ফিরিয়ে আনবো? এ ধরনের কথা আমরা বলিনা। আমরা ওই নেতাকে শোকজ করব।’

এদিকে জাপা নেতার দেওয়া এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী অন্যান্য রাজনৈতিক দল।

বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. কামরুজ্জামান কবির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের দোসর জাতীয় পার্টি কাজ করছে। খুনি হাসিনাকে যারা ফিরিয়ে আনতে চায় তাদেরকে জনগণ দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।’

উল্লেখ্য, মোকাম্মেল হক চৌধুরীর চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডিউক চৌধুরী এবং আওয়ামী সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরী তার চাচা।

অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা তথ্য ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য ‘হটস্পট’ এলাকা চিহ্নিত করে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। হটস্পট এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, নিবিড় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সহিংসতা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় শ্রমিক অসন্তোষ, নাশকতা বা কৌশলগত স্থাপনায় যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে জন্য শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, যোগাযোগ অবকাঠামো ও সরকারি স্থাপনাগুলোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর সব আইটি সিস্টেম, নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল অবকাঠামো যাতে কোনও ধরনের সাইবার আক্রমণের শিকার না হয়, সে জন্য আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনী তার দায়িত্বপূর্ণ সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষিত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।

সেনা সদরের সামরিক অপারেশন্স পরিদফতরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মো. মনজুর হোসেন বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আগে থেকেই পূর্ণাঙ্গ থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট বা ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছি। সেনাবাহিনীর যেকোনও মোতায়েন বা অপারেশনের আগে এটি আমাদের প্রাথমিক কাজ। সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই কোথায় কত সদস্য মোতায়েন হবে, কোথায় টহল জোরদার করতে হবে এবং কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে— সব কিছু পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের আগে ও পরে সম্ভাব্য যেকোনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।’’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ