জয়পুরহাট-২: লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াতের - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ৯:৪৮, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জয়পুরহাট-২: লড়াই হবে বিএনপি-জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ ৩:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫ ৩:২৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-২ আসনে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। তফসিলের পর প্রচারে বাধা থাকলেও প্রার্থীরা গণসংযোগ ও দলীয় কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি।

অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী সাংগঠনিকভাবে ভিত মজবুত করেছেন। আর অন্য ছোট দলগুলো হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অথবা জোটের আশায় রয়েছে। ছোট দলগুলোর প্রচার খুব কম দেখা গেছে।

জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট-২ আসন। জয়পুরহাট-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৭২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৭৭ জন, নারী ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯৩ ও তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১০৪টি ও মোট ভোটকক্ষ ৭১০টি।

এ আসনে ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ, ১৯৮৮ জাতীয় পার্টির কাজী রাব্বিউল হাসান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার বিএনপি থেকে আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ সালে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন নির্বাচিত হয়ে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে যায়। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই আসনটি আবারও উদ্ধারের চেষ্টায় রয়েছে বিএনপি। জয়পুরহাট-২ আসনে হাফ ডজনের বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এর মধ্যে মনোনয়ন পান ঢাকা জেলার সাবেক ডিসি, সাবেক বিভাগীয় কমিশনার ও সরকারের সাবেক সচিব আব্দুল বারী। ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নসহ ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। বর্তমান নির্বাচনি প্রচারে বাধা থাকায় তিনি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, খালেদার জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলসহ দলীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

এদিকে হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে সাংগঠনিক ভিত বেশ মজবুত করেছে জামায়াতে ইসলামী। এই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস এম রাশেদুল ইসলাম সবুজ মানুষের মন জয় করতে নির্বাচনি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তবে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, খেলাফত মসলিসের মতো অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মাঠে দেখা গেছে অনেক কম। অনেকেই রয়েছেন জোট বা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। প্রার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

বিএনপির প্রার্থী আব্দুল বারী বলেন, ‘বিএনপি করায় আমাকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি অনেক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। আমি সরকারের দায়িত্ব পালন করার সময় কোনো দুর্নীতি করিনি, ১ টাকা ঘুষ খাইনি। চাকরি জীবনে মানুষের সেবা করেছি। এখন জীবনের বাকি সময়টুকুও মানুষের সেবা করেছি। এ জন্য বিএনপি আমাকে ধানের শীষ দিয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাকরি করার সুবাদে সরকারি অনেক দপ্তরে আমার পরিচিতি আছে। গত কয়েক মাসে আমার আসনে কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আসতে সহযোগিতা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে এই আসনের মানুষ আর অবহেলিত আর থাকবে না। এ ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, জলাবদ্ধতা, বেকারত্বের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। প্রতিটি এলাকায় জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব বলে আশা করছি।’

এদিকে জামায়াতের প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম সবুজ বলেন, ‘আমি তৃণমূলে গ্রামে-গঞ্জে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ভোটাররা বিগত দিনের সব বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায় এবং বিশ্বাস করে জামায়াতে ইসলামীকে দিয়েই এটা সম্ভব। তাই জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত জনবান্ধব প্রশাসন, মাদকমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ তৈরির জন্য কাজ করব। বেকারদের কর্মসংস্থান, নারীদের অধিকার, অমুসলিমদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নয়নে কাজ করব। কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর—এই কৃষিনির্ভর জনপদে আমি স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি শিল্পকারখানা গড়ে তুলব।’

এনসিপির প্রার্থী আবদুল ওয়াহাব দেওয়ান কাজল অসুস্থতার কারণে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি জয়লাভ করব। আমি জয়ী হলে এই আসনকে সামাজিক ও মানবিক হিসেবে গড়ে তুলব, যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি কৃষি পণ্যের বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।’

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ