জাকসু নির্বাচন নিয়ে ১২ অভিযোগ ছাত্রদলের, পুনর্নির্বাচনের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫ ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

জাবি প্রতিনিধি
ছবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১২টি অভিযোগ উত্থাপন করেছে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল। এসব অভিযোগের তদন্ত সাপেক্ষে নেপথ্যের সত্য উন্মোচন এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান।
অভিযোগে বলা হয়, ছবিসহ ভোটার তালিকা, অমোচনীয় কালি ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের ব্যবস্থা না থাকায় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদের ব্যালটে ক্রমিক নম্বর ও মুড়ি না থাকা, নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স পাঠানো এবং ভোটারের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যালট পেপার পাঠানো ছিল ইচ্ছাকৃত অনিয়ম। এমনকি অখ্যাত একটি প্রাইভেট কোম্পানির মাধ্যমে ব্যালট পেপার ও ওএমআর মেশিন কেনা হয়, যেখানে অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর অভিযোগও রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন হলে প্রকাশ্যে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। প্রভোস্টরা নির্দিষ্ট একটি প্যানেলের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছেন। নারী সাংবাদিক ও প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রথম কয়েক ঘণ্টা প্রার্থীদের এজেন্ট ছাড়া ভোট গ্রহণ করা হয়, পরে তাদের ঢুকতে দেওয়া হলেও হয়রানি করা হয়। ভোট গণনায়ও অসঙ্গতি দেখা গেছে—কোথাও প্রদত্ত ভোটের চেয়ে ঘোষিত ভোট বেশি, কোথাও আবার প্রার্থীর নাম ব্যালটে ছিল না। এছাড়া ভোটের আগের দিন থেকেই বহিরাগতদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যারা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কয়েকটি হলে নির্ধারিত সময়ের বাইরে ভোট গ্রহণও হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রফিক জব্বার হলের এক শিক্ষার্থী ভোট দিতে গিয়ে দেখেন তার ভোট আগেই অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচন শেষে প্রশাসনের কাছে ভোটার তালিকা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চাইলে তা সরবরাহ করা হয়নি, বরং কালক্ষেপণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শেখ সাদী হাসান বলেন, জাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণের যে প্রত্যাশা ছিল, সার্বিক কারচুপি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সেই প্রত্যাশার অকাল মৃত্যু ঘটেছে। ফ্যাসিস্ট সময়ের নির্বাচন নামের প্রহসনকে বিলুপ্ত করে একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচনী ব্যবস্থার যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, সেটিও ভেঙে গেছে। তারপরও আমরা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবগত করেছি। এখন আমরা এসব অনিয়মের তদন্ত ও নেপথ্যের সত্য উন্মোচনের পাশাপাশি পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।
জনতার আওয়াজ/আ আ