জাতীয় পার্টির সঙ্গে আ'লীগের সমঝোতা নিয়ে নানা গুঞ্জন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৩৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জাতীয় পার্টির সঙ্গে আ’লীগের সমঝোতা নিয়ে নানা গুঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩ ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩ ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

 

নিউজ ডেস্ক
জাতীয় পার্টির সঙ্গে একের পর এক বৈঠক করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। লক্ষ্য আগামী নির্বাচনে আসন সমঝোতা। শুরুতে এ নিয়ে দল দুটির মধ্যে লুকোচুরি থাকলেও এখন নেতারা সমঝোতার বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন। নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতা নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। কেউ বলছেন, জাতীয় পার্টি শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে এমন শঙ্কা থেকে আওয়ামী লীগ একের পর এক বৈঠক করে যাচ্ছে। আসন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হলেও নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে এ বিষয়ে কৌশল নির্ধারণ করতে সময় নেয়া হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পরিবেশ পরিস্থিতি বুঝতে জাতীয় পার্টি এমন কৌশল নিয়েছে। এ ছাড়া দলটির ওপর দেশের এবং বিদেশের নানামুখী চাপ আছে। যে কারণে দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বেশ কিছুদিন ধরে প্রকাশ্যে আসছেন না।

সূত্রের দাবি অন্তত ৩০টি আসনে সমঝোতার বিষয় সামনে নিয়ে এগোচ্ছে জাতীয় পার্টি। আগে ৫০টির বেশি আসনের দাবি থাকলেও এখন তা কমিয়ে এনেছে দলটি।

সর্বশেষ বৈঠকে ২৬টি আসনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে ঢাকায় দুটি আসনে আওয়ামী লীগের কাছে ছাড় চাইলেও একটির বেশি আসনে ছাড় না দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য আছেন ঢাকা ৪ ও ৬ আসনে। সেইসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন ঢাকা-১৭ আসন থেকে। এ ছাড়াও তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন রংপুর-৩ থেকে। দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকা-৪ আসনে ছাড় দেয়া হলে ঢাকা-৬ আসনে ছাড় নাও দেয়া হতে পারে। এ আসনে বর্তমান এমপি জাপার কো- চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। ঢাকা-১৭ আসন থেকে জিএম কাদের নির্বাচন করতে চাইলেও তাকে রংপুর-৩ আসনে ছাড় দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষ পর্যায়ে। যতটুকু জেনেছি ২৬টি আসন নিয়ে আলোচনা চলছে। আমাদের পক্ষ থেকে ঢাকার দু’টি আসনের কথা বলা হলেও এখন একটি আসনে সমঝোতার কথা বলা হচ্ছে।

ঢাকার একটি আসন জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু হোসেন বাবলার সিটটি নিয়ে সমঝোতার গুঞ্জন শোনা যায়। আবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বিশ্বস্ত এক নেতা বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ৪০ থেকে ৫০টি আসন নিয়ে যদি জাতীয় পার্টি শক্তিশালী বিরোধী দল হতো তাহলে ভালো হতো। বর্তমানে আমাদের ২৩ জন সংসদ সদস্য আছেন। যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে না সেখানে অন্তত এর দ্বিগুণ আসনে সমঝোতা হওয়া উচিত ছিল। সবশেষ ২৬টি আসন নিয়ে সমঝোতার কথা শুনেছি। তবুও স্বতন্ত্রপ্রার্থী থাকায় একটা বিপদ থেকেই যায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবিশ্বাস ও ম্যাডামের (রওশন এরশাদ) বৈঠক নিয়েও চিন্তিত আমরা। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ করণীয় কী তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন আর নির্বাচন থেকে সরে আসার সুযোগ খুব কম। নির্বাচন থেকে সরে আসলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেবে। আর জাতীয় পার্টি নির্বাচনের দৌড়ে ১০টির বেশি আসন হয়তো পাবে না। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য জাতীয় পার্টির নির্বাচনের মাঠে থাকাটাও প্রয়োজন। তাই দু’দলের সুবিধামতো দেন-দরবার চলছে। তবে আমরা আশা করেছিলাম অন্তত ৫০টি আসন।

গতকাল বনানীস্থ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে মূলত নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলছি। সমঝোতা নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে না তা নয়। আজকে (বৃহস্পতিবার) রাতেও আলোচনা হবে। আগামীকাল (শুক্রবার) হয়তো বা আরও কিছু তথ্য দিতে পারবো। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য দফায় দফায় বৈঠক চলবে। আমরা দু’দল সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভোটের অধিকার, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আলোচনা করে যাবো। আমাদের সঙ্গে আস্থার ঘাটতি আছে, এটা মনে করি নাই। আমরা আসন জনগণের কাছে চাই। আমরা বিশ্বাস করি ১৫১টির বেশি আসন পাবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান পৃষ্ঠপোষকের (বেগম রওশন এরশাদ) সঙ্গে যারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেছেন তারা দলের কেউ নন। আর উনি প্রধান পৃষ্ঠপোষক নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কেউ নন। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। সংবিধানের আলোকে নির্বাচন করতে হবে। আর না হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে বিশ্বাসী কখনই ছিলাম না। সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে ভালো নির্বাচন হওয়া সম্ভব। নির্বাচন করতে এসেছি নির্বাচন করার জন্য। পিছপা হওয়ার জন্য নয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ