জামালপুর-২ আসন: প্রার্থিতা নিয়ে বিভক্ত বিএনপি, সুযোগ নিতে চায় জামায়াত - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৪:৫২, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

জামালপুর-২ আসন: প্রার্থিতা নিয়ে বিভক্ত বিএনপি, সুযোগ নিতে চায় জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ ৫:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ ৫:০৯ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুর জেলায় পাঁচটি সংসদীয় আসন রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ জেলায় ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করে। প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যে। দীর্ঘ দেড় দশক পর পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন ভোটাররা।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ১৩৯ (জামালপুর-২)। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে বিভক্ত দলটির নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী থাকায় তারা বেশ নির্ভার। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা করছে।

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলবেষ্টিত ইসলামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-২ আসন। ২০০৮ সাল থেকে পরের সবগুলো নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য ছিলেন। এই আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি থেকে প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাবু। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে টানা পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হয়ে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু শুধু ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দল এবারও তাকে বেছে নেওয়ায় সুলতান মাহমুদ বাবুর কর্মী-সমর্থকরা বেশ উচ্ছ্বসিত।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ এস এম আব্দুল হালিম। কিন্তু দল তাকে মূল্যায়ন করেনি। মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় তার কর্মী-সমর্থকরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বেশ সোচ্চার। ইতোমধ্যে এই আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করে এ এস এম আব্দুল হালিমকে দলীয় প্রার্থী মনোনীত করতে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছেন তার কর্মী-সমর্থকরা।

এসব কর্মসূচি দিয়ে তাকে চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দলের নীতিনির্ধারকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন উপজেলা বিএনপির একটি অংশের নেতা-কর্মীরা। এ এস এম আব্দুল হালিম এখনো আশাবাদী— এই আসনে চূড়ান্তভাবে তাকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে।

দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশন থেকে তফসিল ঘোষণা করলেও এখনো এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ এস এম আব্দুল হালিম চূড়ান্ত মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন কি না সে বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট ঘোষণা দেননি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপির গৃহবিবাদ মেটাতে হবে। তা না হলে নির্বাচনের মাঠে বেকায়দায় পড়বেন বিএনপিদলীয় প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. ছামিউল হক ফারুকী এই আসনের একক প্রার্থী। তিনি ভোটের মাঠে সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হতে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি বিভিন্ন সভা করছেন। নিজ দলের একক প্রার্থী ও প্রতিপক্ষ বিএনপিতে দলীয় প্রার্থী নিয়ে কোন্দল থাকায় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা অনেকটাই নির্ভার। তাই বিএনপির কোন্দলকে কাজে লাগিয়ে ভোটের মাঠে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে মরিয়া জামায়াত। তবে এই আসনে ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলটির জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা সুলতান মাহমুদ সিরাজী। দলের সাংগঠনিক অবস্থার কারণে নির্বাচনের মাঠে বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন তিনি। নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কারও মাঠে সরব ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। গণঅধিকার পরিষদ ও আমার বাংলাদেশ- এবি পার্টি এখনো এই আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি।

এদিকে, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মঞ্জুরুল আহসান খান ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ এই আসন থেকে বিগত নির্বাচনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে এসব দলের পক্ষ থেকে কারও কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

ভোটার ও প্রার্থীদের প্রত্যাশা, তফসিল অনুযায়ী যথাসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দলের প্রার্থী ও সমর্থকরা নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলবেন। নির্বাচনি প্রচার নিয়ে যেন কোনো সংঘাত বা সহিংসতা না হয়, সে জন্য প্রশাসনসহ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোতে যেন নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকে— এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ ভোটারসহ সবার।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ