টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান - জনতার আওয়াজ
  • আজ ভোর ৫:২০, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ৯:৫৫ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১০:২২ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ টাইম মেগাজিন

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খ্যাতনামা ম্যাগাজিন ‘টাইম’ প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় ‘লিডারস’ (নেতা) ক্যাটাগরিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ আগামীর পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

টাইম ম্যাগাজিন তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে রাষ্ট্র সংস্কারে তার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের পর মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ‘ফামার্স কার্ড’র মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র কয়েক মাস আগেও তারেক রহমান সবুজে ঘেরা লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ৫৭ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক উত্তরসূরি বিরোধী আন্দোলনের কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত হন। এই নিয়তি তিনি ফেব্রুয়ারিতে বাস্তবে রূপ দেন, ১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর নির্বাচন ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে।

এই বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান ঢাকায় ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরই মারা যান খালেদা জিয়া। জানুয়ারিতে টাইমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ও তিনি শোকাহত ছিলেন। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই শোককে কাজে লাগিয়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করে তুলবেন। বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও যুব বেকারত্বে জর্জরিত। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি।

এতে আরও বলা হয়, শূন্য দশকের দুর্নীতির অভিযোগগুলো (যদিও পরে আদালত সেগুলো খারিজ করেছে) তার সম্ভাব্য ‘হানিমুন পিরিয়ড’-কে অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে থাকার পর তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না। তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।’

এদিকে ১০০ প্রভাবশালী তালিকায় আরও আছেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, পোপ লিও চতুর্দশ, ভারতের অভিনেতা রণবীর কাপুর, অভিনেত্রী ডকোটা জনসন, ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি জিনপিং প্রমুখ।

এদিকে, বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান স্থান পাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ‘গভীর আনন্দ ও গৌরবের সঙ্গে অবহিত করছি যে, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমান ২০২৬ সালে টামসের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি-এর বর্ণাঢ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইম এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, সীমাহীন সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে অসামান্য অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি দিয়েছে। একটি কঠিন সময়ে, যখন গণতন্ত্র ছিল অবরুদ্ধ, মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, তখন তারেক রহমান দৃঢ়তা, সাহস এবং অটল বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আশা জাগিয়েছেন, মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তি দিয়েছেন, নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলেছেন।’

তিনি আরও লিখেন, ‘তার (তারেক রহমান) নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহু লড়াই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আবারও গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা আজ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃত। স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন, যেদিন ফিরেছেন সেদিনই তিনি বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমন্বিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে চমৎকারভাবে অগ্রসর হয়েছে। টাইম- এর এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াই, সংগ্রাম এবং দেশ পরিচালনার ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতার এক শক্তিশালী স্বীকৃতি। তিনি প্রমাণ করেছেন ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি, দেশ পরিচালনাকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দায়িত্ব হিসেবে। দেশের স্বার্থে কোনো বিভাজন নয়, বরং ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্যই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আজকে টাইম থেকে পাওয়া এই সম্মান আমাদের সকলের। এটি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের, যারা বিশ্বাস করে গণতন্ত্র অপরাজিত, জনতার শক্তি কখনো হার মানে। আজকের বৈশ্বিক স্বীকৃতি গণতন্ত্রের বিজয়, জনতার বিজয়, বাংলাদেশের বিজয়, আলহামদুলিল্লাহ।’

২০০০-এর দশকের দুর্নীতির অভিযোগগুলোর কারণে (যদিও পরে আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে) তাদের সুসময় হয়তো অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সংক্ষিপ্ত হবে। কিন্তু এত বছর লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর, তিনি আর সময় নষ্ট না করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রহমান বলেন, “আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার পেতে পারে।”

সূত্রঃ টাইম মেগাজিন

(কয়েক মাস আগেও তারেক রহমান দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের সবুজ-শ্যামল পরিবেশে এক নির্বাসিত ও চিন্তামুক্ত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এই ৫৭ বছর বয়সী উত্তরাধিকারীকে বিরোধী আন্দোলনকারী থেকে জাতীয় নেতার ভূমিকায় নিয়ে আসে—স্বদেশ থেকে ১৭ বছর বিচ্ছিন্ন থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে ভূমিধস নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে তিনি সেই নিয়তি পূরণ করেন।

এই বিজয়ের মাধ্যমে রহমান তাঁর মা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, যিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর ঢাকায় ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরেই প্রয়াত হন। জানুয়ারিতে যখন রহমান টাইম-এর সাথে কথা বলেন , তখনও তাঁর শোক ছিল তীব্র। তবে তিনি এই শোককে তাঁর ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে লাগানোর এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করার অঙ্গীকার করেন। বাংলাদেশ উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও যুব বেকারত্বে জর্জরিত এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সাথে সম্পর্ক এক ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সবকিছুরই দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন।)
টাইম মেগাজিন থেকে বাংলা অনুবাদ

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ