টিকার বাইরে অনেক শিশু, তাই হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ৯, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি :সংগৃহীত
দেশে গত কয়েক বছরে বিশালসংখ্যক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাওয়ায় বর্তমানে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।
শনিবার (৯ মে) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টিকার এই ঘাটতি বা ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ মে পর্যন্ত সারাদেশে ৪৫ হাজার ৪৯৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ২০৮ জনের। এই সময়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৩৩৬ জনের, যার মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা ৫৭।
আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু
ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের ৬৫ শতাংশই কোনো টিকা পায়নি এবং ২১ শতাংশ পেয়েছে মাত্র এক ডোজ।
অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ২০২০ সালের পর বড় ধরনের কোনো জাতীয় ক্যাম্পেইন না হওয়ায় টিকার বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা প্রতি বছর বেড়েছে। যখন এই সংখ্যা এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখনই হামের মতো সংক্রামক ব্যাধি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, কোভিড মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে টিকার সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ১৮টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এছাড়া ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল (আইডিএইচ) ও শিশু হাসপাতালসহ দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালেও হামের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, আমরা আইইডিসিআর-কে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করার অনুরোধ জানিয়েছি। গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সামনের দিনগুলোতে গাইডলাইন আরও উন্নত করা হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া এবং দ্রুত টিকাদান সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ