ড. ইউনূসকে নিয়ে ৪০ বিশ্বনেতার চিঠির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ৩:৫১, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ড. ইউনূসকে নিয়ে ৪০ বিশ্বনেতার চিঠির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ৩১, ২০২৩ ১০:১৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ৩১, ২০২৩ ১০:১৭ অপরাহ্ণ

 

দারিদ্র বিমোচনে প্রফেসর ইউনূসের ভূমিকা অনন্য: মুখপাত্র ভেদান্ত

ডেস্ক নিউজ
শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আওয়ামী লীগ সরকারের আচরণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে ৪০ বিশ্বনেতা যে খোলা চিঠি লিখেছেন সে বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে বলে মন্তব্য করেছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপাল ডেপুটি মুখপাত্র ভেদান্ত প্যাটেল।

বৃহস্পতিবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফ্রিংয়ে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি সরকারের বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রিফ্রিংয়ে ৪০ বিশ্ব নেতা ইউনূসের প্রতি সরকারের অন্যায় আক্রমণের নিয়ে লেখা খোলা চিঠি প্রসঙ্গে স্টেট ডিপার্টমেন্ট সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, “শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আচরণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন ৪০ বিশ্বনেতা। সম্প্রতি তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি খোলাচিঠি লিখেছেন। এ চিঠিটি ওয়াশিংটন পোস্টে ছাপা হয়েছে। ৪০ বিশ্বনেতার মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন। সরকার ইউনূসের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ দেখাচ্ছে, যেটা একের পর এক তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে বুঝা যায়। এবিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?”

জবাবে প্যাটেল বলেন, “সম্প্রতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস কে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্টে যে খোলা চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা অবগত। বিশ্ব নেতারা ইউনূসের বিষয়ে যে মতামত জানিয়েছেন তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরা বলতে চাই বিশ্বে দারিদ্র দূরীকরণে ভূমিকা রেখেছেন প্রফেসর ইউনূস। শান্তিতে নোবেল জয়সহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হওয়াটা তার সে অবদানের স্বীকৃতি।”

উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আচরণের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ৪০ বিশ্বনেতা। এ বিষয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি খোলাচিঠি লিখেন তারা। চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় পূর্ণ পাতাজুড়ে বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশিত হয়।

চিঠিতে বলা হয়, “ড. ইউনূসের ভালো থাকা, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মানবিক উন্নয়নে তিনি যে অবদান রেখে চলছেন, তা অব্যাহত রাখতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আমাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। আমরা নিশ্চিত, আপনি জানেন যে বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের অবদান, বিশেষ করে অতিদরিদ্র ও সবচেয়ে বিপদাপন্ন মানুষের জন্য তার অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও সম্মানিত।”

ইউনূস সরকারের অন্যায় আক্রমণের শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে চিঠিতে বিশ্ব নেতারা বলেন, “মুহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন অনবদ্য পরিশুদ্ধ মানুষ ও তার কার্যক্রমগুলো আপনার সরকারের অন্যায় আক্রমণের শিকার হচ্ছে। বারবার হয়রানি ও তদন্তের মধ্যে পড়ছে। এমনটা দেখতে পাওয়া বেদনাদায়ক।”

স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফ্রিংয়ে প্রথম আলো সাংবাদিককে তুলে নেয়া, সম্পাদকের মামলা ও জুলকারনাইনের ভাইয়ের ওপর হামলা প্রসঙ্গ

বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের যেনো কোনো ধরনের হুমকি প্রদান, হামলা এবং নির্যাতন না করা হয় সেই আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফ্রিংয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন সরকার কর্তৃক অব্যাহত সাংবাদিক নিপীড়ন প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপমুখপাত্র ভেদান্ত প্যাটেল।

এর পাশাপাশি, আওয়ামী লীগ সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের যে অপব্যবহার করছে সেটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলেও জানান তিনি।

ব্রিফ্রিংয়ে অংশ নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট সংবাদদাতা মুশফিকুল ফজল আনসারী সরকারের নির্দেশে সাম্প্রতিক সাংবাদিকদের ধরপাকড় এবং হামলার বিবরণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরে জানতে চান, ” বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের উপর কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। তারা এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়েরের ঘটনায় ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১২ টি দেশ গণমাধ্যম নিয়ে সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে। গতকালই দেশের অন্যতম শীর্ষ পত্রিকা প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে সাদা পোশাকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে এসেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তারা প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে। এর আগে মার্চের প্রথম দিকে আল জাজিরায় কাজ করা ইউরোপ প্রবাসী অনুসন্ধানীসাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামির ভাই মাহিনুর আহমেদ খানের ওপর হামলা চালিয়েছে দুবৃর্ত্তরা। গণমাধ্যমের ওপর সরকারের এই কড়াকড়ি এবং আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?”

জবাবে প্যাটেল বলেন, “সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের যে অপব্যবহার করছে সেটা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সাংবাদিকদের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চয়তা গণতন্ত্রের জন্য জরুরি বিষয়। বিশেষ করে নির্বাচনের এ বছরটাতে এ বিষয়টা খুবি গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো সাংবাদিক যেনো হুমকি, হয়রানি, হামলা কিংবা গ্রেফতারের শিকার না হন।”

উল্লেখ্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ২৬ মার্চ একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান। সাধারণ মানুষ কতটা কষ্ট দিন কাটাচ্ছে সেবিষয়টিই তুলে ধরেছিলেন জনগণের সামনে। স্বাধীনতা দিবসে তাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে দিনমজুর জাকির হোসেন বলেন, ‘পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব।’ তার এ বক্তব্য ছিলো দেশের চলমান দুর্দশার বাস্তব এক চিত্র। সাধারণ মানুষ তার বক্তব্যকে সমর্থন করে এবং খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়। আর তাতেই শাসক গোষ্ঠীর চক্ষুশূল হতে হয়েছে সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে। ২৯ মার্চ ভোর রাতে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে গোয়েন্দা বাহিনী।সেই সঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয় প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধেও।

এদিকে, গত ১৭ই মার্চ আল জাজিরায় কাজ করা বৃটেন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামির ভাই মাহিনুর আহমেদ খানের ওপর উপর্যপুরি হামলা চালিয়েছে সরকার সমর্থকরা। ‘নতুন সাংবাদিক হয়েছ, দেশ নিয়ে লেখো’-এই কথা বলে তারা মারধর করতে থাকেন মাহিনুরকে।

জুলকারনাইন অভিযোগ করেছেন, মাহিনুরকে মারধর করার সময় তার (জুলকারনাইন) সাংবাদিকতা করা ও সরকারবিরোধী কথা বলার বিষয় হামলাকারীরা উল্লেখ করেছেন।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ