ডলার সংকটের কারণে সামনে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট’
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, মে ১৫, ২০২৩ ১১:০৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, মে ১৫, ২০২৩ ১১:০৯ অপরাহ্ণ

দেশে ডলার সংকটের কারণে সামনে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট দেখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ডলার সংকটে কয়লা আমদানি করতে না পারায় দুইটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সোমবার (১৫ মে) বিকেলে বিএনপি মহাসচিব এই শঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। শুধু এটাই নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি যারা আমদানি করেন তারাও পণ্য আমদানি করতে পারছেন না ডলারের অভাবে। এটার প্রধান কারণ হচ্ছে রিজার্ভের পরিমাণ এতো কমে গেছে যে এখন আমদানি পণ্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কয়েকদিন পরে সংকট আরও বাড়বে যখন পদ্মাসেতুর টাকা পরিশোধ করা শুরু হবে। আজকেই পত্রিকায় এসেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে নতুন তৃতীয় টার্মিনাল হচ্ছে সেখানে আগামী বছর থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। সেই টাকা কোত্থেকে আসবে?’
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে সফর প্রসঙ্গ তিনি বলেন, জাতিকে তিনি (শেখ হাসিনা) ধারণা দিতে চান যে, এখানে বিকল্প কোনো নেতৃত্ব নেই। সেভাবেই এবার সফরটি করেছেন। এই সফর সম্পর্কে ধারণা দিতে চান যে, এটি সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছে। কিন্তু আমরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমে যতটুকু জানতে পেরেছি এই সফরের রেজাল্ট জিরো প্রায়। জাপানের সাথে আগে ঠিক হয়েছিল কিছু ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে.. সেটা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি গিয়েছিলেন মূলত বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫০ বছরের সম্পর্কের ওপর একটা সেমিনারে বক্তব্য রাখতে। যেটা খুব আনলাইকলি যে দেশের প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের সেমিনারে গিয়ে বক্তব্য রাখেন…। আর আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তিগুলো হয়েছে সেটা প্রত্যেকটি শর্তযুক্ত এবং কঠিন শর্ত। যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন রাজা তৃতীয় চালর্সের অভিষেক অনুষ্ঠানে। সেখানে স্বাভাবিকভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা হয়েছে, রাজার সঙ্গেও দেখা হয়েছে সেটাও স্বাভাবিক। কিন্তু বিশেষ কোনো অর্জন হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা ভালো করে জানেন, গত এক দশক ধরে এই বিদ্যুৎ খাতকে তাদের দুর্নীতির সর্বোচ্চ খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং বিদ্যুতে তারা পুরোপুরি ইনডেমনিটি দিয়েছেন। এই ইনডেমনিটির কারণে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না যে, তারা বিনা টেন্ডারে, বিনা প্রতিযোগিতায় কত টাকা দিয়ে কিনছেন বা কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টে কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, এটা সত্য, বিদ্যুৎ খাতে তারা যে দুর্নীতি করেছেন সেটা শুধুমাত্র তাদের লোকজনরা দুর্নীতি করেছেন। এখন জনগনের পকেট থেকে সেটার চার্জ হিসেবে কেটে নেয়ার সমস্ত বন্দবস্ত চলছে। ব্যবসায়ীদের সাথে যদি আপনারা কথা বলেন, তারা কত বড় বিপদে রয়েছে। তাদেরকে যে নরমাল ইনকাম ট্যাক্স দিতে হয়, সেই ইনকাম ট্যাক্সের পরেও একটা পারটিকুলার লিমিট আছে। যদি তার সম্পদ বাড়ে বা তার আয় বাড়ে তার ওপরও তাদেরকে ২০% সারচার্জ দিতে হয়। যেটা এদেশের প্রবৃদ্ধির জন্যে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বাধা হয়ে দেখা দিয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাদাতা দেশের পণ্য বর্জনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে প্রশ্নর রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা আমরাও প্রশ্ন উনি কেনো হঠাৎ করে এতোদিন পরে ওই সেনশনের ওপরে বিষোদগার করছেন। তিনি ভালো জানেন যারা সেনশন দেয় কীভাবে…. কিছুদিন আগেও কিন্তু সেনশনের কারণে রাশিয়ার একটি জাহাজ বাংলাদেশ ফেরত দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন বাংলাদেশ কি ক্রয় করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে- আমরা সব জানি, তার পরিমাণ বলুন বা তার ভলিউম বলুন। সুতরাং এটা তিনি কেন বলেছেন তা আমরা সহজে বুঝতে পারি। তিনি সম্ভবত ইরিটেডেট হয়ে আছেন। কেন ইরিটেডেট হয়ে আছেন সেটা আমার জানা নেই।’
১০ দফা আন্দোলন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ মন্ত্রী-নেতাদের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘উনার ময়ুন সিংহাসনের কথা বলেছেন। আমরা ময়ুর সিংহাসনে বসতে অভ্যস্ত নই। জনগণের কাতারে থেকে জনগণের চেয়ারে বসতে অভ্যস্ত এবং সেটা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আবদুল হাই শিকদার, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এজেড রিয়াজ উদ্দিন নসু, ইউনির্ভাসিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক আফম ইউসুফ হায়দার, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ