ডিক্লিয়ার দিয়েছি বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করব - জনতার আওয়াজ
  • আজ রাত ১০:১৯, শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ডিক্লিয়ার দিয়েছি বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করব

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২ ৭:২৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২ ৭:২৯ অপরাহ্ণ

 

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণ তাদের গণতন্ত্র ফিরে চায়। তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। বাঁচবার অধিকার ফিরে পেতে চায়। এ আন্দোলন সমগ্র জনগণের মুক্তির আন্দোলন।

বুধবার নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘‘দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, চাল, ডাল, পানি, গ্যাসসহ সকল জিনিসপত্র ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। জ্বালানির তেল, পেট্রোলের দাম হুঁ হুঁ করে বাড়ছে। এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তখন গণতন্ত্রকামী মানুষরা, ছাত্ররা, যুবকরা অকাতরে প্রাণ দিচ্ছে। আমরা বিভাগীয় কোন সমাবেশ করছি। হঠাৎ করেই সরকার এতটা ভীতসন্তুষ্ট হয়েছে। বিভাগীয় সমাবেশগুলোকে বন্ধ করার জন্য, আন্দোলনকে দমন করার জন্য তারা মরিয়া হয়ে গেছে। আক্রমণ করছে, গায়েবী মামলা দিচ্ছে, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, ঘরে ঘরে গিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করছে।’’

গত সাত দিনে ১৬৯ মামলা হয়েছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, এ মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে ছয় হাজার ৬২৩ জনকে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১৫ হাজারের উপরে। তিনি বলেন, কোর্টে হাজিরা দিতে গিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এটা কোন নিয়ম? সংবিধানে এমন কোন নিয়ম নেই। অথচ পুলিশ গ্রেফতার করছে। পুলিশ ও ডিবি তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

২০১৩-১৪ ও ১৫ সালের উদাহরণ টেনে ফখরুল বলেন, সেই সময় তারা জনগণের আন্দোলন স্তব্ধ করতে চেয়েছিল। সেই ভঙ্গিমায় একইভাবে, একই কায়দায় সেই ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।

আজ মানুষ জেগে উঠেছে; প্রতিটি বিভাগে গণসমাবেশ হচ্ছে জানিয়ে মহাসচিব বলেন, গাড়ি বন্ধ করে, গুলি করে হত্যা করছে তবুও মানুষ সমাবেশে এসেছে। সরকারকে ধরেছে উমা; কথা তাদের কানে যায় না। এরা বুঝতে চায় না। এরা চেহারার ভাষা বুঝতে জানেনা। চোখের ভাষা বুঝতে জানেনা। তারা (সরকার) একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

‘আমি পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই আমরা একমাস আগে পার্টির তরফ থেকে বলে দিয়েছি যে আমরা নয়াপল্টনে বিভাগীয় সমাবেশ করতে চাই। এর আগেও আটটি সমাবেশ হয়েছে, মহাসমাবেশ হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখানে সমাবেশ করেছেন। কোনদিন সমস্যা হয়নি। সুতরাং ডিক্লিয়ার দিয়েছি সমাবেশ করব। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, সে দায়িত্ব আপনাদের।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আবার পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা জনগণকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করব। তাদের ভাত ও ভোটের অধিকার ফেরত দিতে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করছি। যে আন্দোলনে আপনারা অযথা যেভাবে অন্যায় অত্যাচার করছে। সেই কাজগুলো গণতন্ত্রের জন্য ভালো না। আপনাদের জন্য ভালো না, রাষ্ট্রের জন্য ভালো না।

‘আপনারা (সরকার) পথ খোলা রাখবেন না। আবারও বলছি, টেকনিকেই ব্যবস্থা করুন। তা না হলে এদেশের ইতিহাস আপনাদের জানার কথা। এ দেশে ৫২ সালে পারেনি, ৫৯ সালে পারেনি, ৬৯ সালে পারেনি, ৭১ সালে পাকিস্তানিরা পারেনি। এমনকি ৯০ সালে এরশাদ পারেনি। যতই ষড়যন্ত্র করেন না কেন পারবেন না।

জনগণ জেগে উঠেছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, এখন এই আন্দোলন শুধু বিএনপির আন্দোলন না। এই আন্দোলন শুধু খালেদা জিয়ার আন্দোলন না। তারেক জিয়ার আন্দোলন না। এটি সমগ্র জনগণের আন্দোলন জনগণের মুক্তির আন্দোলন। জনগণ তাদের গণতন্ত্র ফিরে চাই। তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চাই বাঁচবার অধিকার ফিরে পেতে চায়।

গত কয়েক মাসে শীতলক্ষ্যা বুড়িগঙ্গায় একশ’র বেশি মরদেহ পাওয়া গেছে জানিয়ে মহাসচিব বলেন, এরা (সরকার) বলে দেশ নাকি ভালো চলছে! কি করেছেন দেশের অবস্থা! ব্যাংক খালি করেছেন। সব লুটপাট করেছেন। দেশটাকে ফোঁকলা বানিয়েছেন। বিদেশের সেনশনে বিপদে পড়েছেন। যদি জনগণের সেনশন আসে তখন কিন্তু আরো বড় বিপদে পড়তে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেটে রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ