ডিজিটাল বাংলাদেশ কি ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্টের পূর্বে পা বাড়ালো? - জনতার আওয়াজ
  • আজ সকাল ১১:৫২, বৃহস্পতিবার, ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

ডিজিটাল বাংলাদেশ কি ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্টের পূর্বে পা বাড়ালো?

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: শুক্রবার, মার্চ ৮, ২০২৪ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

 

বিঃদ্রঃ জনতার আওয়াজ ডটকমের উপদেষ্টা সম্পাদক সায়েক এম রহমানের লেখাটি বিগত এপ্রিল ২৫, ২০১৬ সালে তৎকালীন বহুল প্রচারিত পাঠকপ্রিয় শীর্ষ খবর ডটকমে প্রকাশিত হয়েছিল,লেখাটি পাবলিশ করার পর পাঠকদের কাছে অনেক প্ৰশংসনীয় হয়েছিল তাই পাঠকদের অনুরোধে সময়ের প্রয়োজনে গুরত্ব পূর্ন ও তথ্য বহুল গুরুত্বপূর্ণ লিখাটি আবার জনতার আওয়াজ ডটকমের সম্পাদকীয় কলামে পুনঃ প্রকাশ করা হলো ।

সায়েক এম রহমান

শতকরা ৯০জন মুসলিম অধ্যুষিত দেশ, বাংলাদেশ। যেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল। সেখানে জাতীয় শিক্ষাক্রম এর সিলেবাস থেকে ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম সংস্কৃতি বিষয়ক লিখা সমূহ সরিয়ে, হিন্দুত্ববাদের লিখা সমূহকে স্থান করে দেয়ায়, বাংলাদেশের ৯০ভাগ এর উপরে জনগোষ্ঠী আজ স্থম্ভিত। এখানে স্থম্ভিত বললে ভূল হবে। মানুষ রীতিমত গভীর চিন্তায় নিমজ্জিত। অনেক পর্যবেক্ষক ভাবছেন, তাহলে কি আমরা ৪৭ এর ১৪ আগষ্টের পূর্বে চলে যাচ্ছি।

গত ৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সংবাদ শিরোনাম ছিল, ‘‘পাঠ্য পুস্তকের মাধ্যমে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম বিরোধী বিষয়ে তথ্য শিখানো হচ্ছে’’ ।
পাঠক, নতুন সিলেবাসে সদ্য পাঠ্য বইয়ে পরিকল্পিতভাবে ইসলাম বিরোধী ও নাস্তিক লেখকদের স্থান করে দেয়া হয়েছে। লক্ষ্য করুন প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত কবিতা ও গল্পের সংখ্যা ১৯৩টি। এর মধ্যে হিন্দু ও নাস্তিকের সংখ্যা হলো ১৩৭টি। তাহলে মুসলিম লিখকদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬। অর্থাৎ, এখানে দৃশ্যায়িত মুসলিম লেখকদের আকাল পড়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, হিন্দু মুসলিম কোন ব্যাপার নয়, যার যার যোগ্য ও কোঠা অনুযায়ী কবি, লিখক ও সাহিত্যিকরা সিলেবাসে স্থান পাবেন কিন্তুু আশ্চর্য্যরে ব্যাপার শতকরা ৯০জন মুসলমানের দেশে, সাংবিধানিকভাবে একটি মুসলিম রাষ্ট্রে কি করে শতকরা ৭০জন হিন্দু ও নাস্তিক কবি সাহিত্যিক সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত হয়?
মুসলিম কবি সাহিত্যিকরা কি সব যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন বা যোগ্যতা সম্পন্ন কবি সহিত্যিক কি নাই?
একবিংশ শতাব্দিতে এসে এই আকাল? তার নাম কি ধর্ম নিরপেক্ষতা?
পরিতাপের বিষয় হলো, যেখানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সেখানে প্রথম শ্রেণীর ‘আমার বাংলা’ বইতে বাচ্চাদের অক্ষর পরিচয় শিখাতে গিয়ে, কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধে ঋষি উঝা, হিন্দুদের ঢাক ঢোল ও হিন্দুদের রথ ইত্যাদি শিখানো হচ্ছে।
এই মুহুর্তে সচেতন অভিভাকদের প্রশ্ন, আমাদের নতুন প্রজন্মকে এখন কোথায় নিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন কোথায়? আমরা কি ভূলে যাচ্ছি, ধর্ম শিক্ষা হলো, প্রতিটি মানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় শান্তি শৃঙ্খলা সুদৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম। এ জাতীয় শিক্ষা প্রত্যেক মানুষকে যে যতœবান করে তোলে এবং রাষ্ট্রিয় ও সামাজিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে।
উল্লেখ্য, এপ্রিলের ৩তারিখ ২০১৬ বাংলাদেশ শিক্ষামন্ত্রনালয়ের তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার শিক্ষানীতি ২০১০ এর সুপারিশ এর আলোকে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক শিক্ষা আইন ২০১৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়াটি মন্ত্রনালয়ে ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং তড়িঘড়ি করে নতুন আইনটি পাশ করার দিকে এগুচ্ছে সরকার।
পাঠকদের সুবিধাতে নি¤েœ সদ্য সিলেবাস থেকে বাদ দেয়া অনেকগুলির মধ্যে শুধুমাত্র কয়েকটি কবিতা ও গল্প তুলে ধরছি, সাথে সাথে তদস্তলে প্রবেশ করানো কবিতা ও গল্পগুলি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
১। পঞ্চম শ্রেণীতে বাদ দেয়া হয়েছে ‘কাজী কাদের নেওয়াজের’ লিখিত ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ নামক কবিতা। সেখানে স¤্রাট আলমগীরের মহত্ব বর্ণনা ছিল। তদস্তলে প্রবেশ করানো হয়েছে, হুমায়ূন আজাদের ‘বই’ নামক কবিতা। যে কবিতা পবিত্র কোরআন বিরুদ্ধ সমালোচনা করা হয়েছে।
২। পঞ্চম শ্রেণীতে ‘শহীদ তিতুমীর’ নামক একটি জীবন রচিত বাদ দেয়া হয়েছে। প্রবন্ধটিতে মুসলিম নেতা শহীদ তিতুমীরের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঘটনাবলী ছিল। আর সেখানে প্রবেশ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের হৃদয়’ নামক একটি কবিতা। সেখানে রয়েছে হিন্দুদের দেবী দুর্গার প্রশংসা।
৩। ষষ্ট শ্রেণীতে ড. মুহাম্মদ শহীদউল্লার ‘সততার পুরষ্কার’ নামক একটি ধর্মীয়,শিক্ষনীয় বিষয় বাদ দিয়ে প্রবেশ করানো হয়েছে, ‘লাল গরুটা’ নামক গল্প। সেখানে শিখনো হচ্ছে, গরু হলো মায়ের মতন, অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদ।
৪। সপ্তম শ্রেণী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, ‘মরু ভাস্কর’ নামক শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সঃ) সংক্ষিপ্ত জিবনী, সেখানে নিয়ে আসা হয়েছে ‘লালু’ নামক ছোট্ট গল্প। তাতে শিক্ষা দেয়া হয়েছে পাটা বলীর নিয়ম কানুন।
৫। ৮ম শ্রেণী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, ‘বাবরের মহত্ব’ নামক আরেকটি কবিতা। আর এখন প্রবেশ করানো হয়েছে, হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ ‘রামায়ন’ এর সংক্ষিপ্ত বর্ণনা।
৬। ৯ম-১০ম শ্রেণী থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, মধ্যযুগের বাংলা কবি শাহ মোহাম্মদ সগিরের ‘বন্ধনা’ নামক ইসলাম ধর্ম ভিত্তিক কবিতা। অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ভারতের পর্যটন স্থান ‘পালমৌ’ এর ভ্রমণ কাহিনী।

শুধুমাত্র উদাহরণ স্বরূপ এগুলো তুলে ধরলাম। এইভাবে অসংখ্য মুসলিম দৃষ্টিভঙ্গির কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ বাদ দিয়ে স্থান করা হয়েছে হিন্দুত্ববাদকে।
পাঠক, আমি এখানে পরিষ্কার করতে চাই যে, প্রতিটি ধর্ম সম্বন্ধে প্রতিটি মানুষেরই জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন, তাতে আমার বিন্দুমাত্র কোন দ্বিমত নাই। কিন্তু যখন পরিলক্ষিত হয় যে, একটি ইসলামী রাষ্ট্রের, ইসলামী দৃষ্টি ভঙ্গির কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধ বাদ দিয়ে অন্য ধর্মের কবিতা, গল্পকে উৎসাহিত করা হয়। তখনই প্রশ্ন জাগে এসব কার স্বার্থে এবং কিসের জন্য? একদিকে সরকার সর্বত্র হিন্দুত্ববাদকে প্রতিষ্ঠিত করছে, অপরদিকে সরকারের মন্ত্রী এমপিরা সংখ্যালঘুদেরকে নির্যাতন করছে। এ কোন তামাশা? এ কোন পরিকল্পনা?
এছাড়া লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হলো, সপ্তম শ্রেণীর ‘সপ্তবর্ণা’ বাংলা বইয়ের ৭১নং পাতায় কালিদাশ রায়ের ‘অপূর্ব প্রতিশোধ’ কবিতার তৃতীয় লাইনে অযু ও নামাজ শব্দ দুটি থাকায় তৃতীয় ও চতুর্থ লাইনদ্বয় পরিকল্পিতভাবে বাদ দেয়া হয়েছে। তৃতীয় চতুর্থ লাইনটি হবে, ‘তার তাজা খুনে অযু করে আজও নামাজ পড়িনি তাই, আত্মা তোমার ধরার স্বর্গে পাইনি ঠাঁই’। প্রশ্ন হলো, কবিতায় এই দুই শব্দ যেভাবে ছিল, ঠিক সেইভাবে বইয়ে থাকলে কি ক্ষতি হতো? এসব কারসাজিতে কি বুঝা যায়? ইসলামী সংস্কৃতিকে আড়াল করার জন্যই যত্রতত্র। এই নিকৃষ্ট মন মানসিকতা কিসের জন্য?
ওই দিকে ভারত পন্থি শ্যাম সুন্দর শিকদারকে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের সচিব আর বাংলাদেশের সরকারী ব্যাংকগুলির গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে রয়েছেন বাঘা বাঘা ভারত পন্থীরা। বাংলাদেশের সিন্ধুকের দায়িত্বে কারা আছেন একটু লক্ষ্য করুন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্ণর শিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী, ডিরেক্টর সনাতন কুমার সাহা।
এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ১। নির্মল চন্দ্র ভক্ত, ২। শুভ শংকর সাহা, ৩। বিষ্ণপদ সাহা, ৪। অশোক কুমার দে, ৫। সুধীর চন্দ্র দাস, ৬। দাস গুপ্ত অসীম কুমার, ৭। গৌরাঙ্গ চক্রবর্তী। এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলীর মহা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন, ১। অশুক কুমান দে ২। দেব প্রসাদ দেবনাথ ৩। দেবাশীষ চক্রবর্তী ৪। বিশ্বনাথ সরকার ৫। খগেশ চন্দ্র দেবনাথ ৬। সুকুমল সিংহ ৭। মিহির কান্তী চক্রবর্তী ৮। শ্যামল কুমার দাস।
এছাড়া রুপালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অমলেন্দু মুখার্জী এবং মহা ব্যবস্থাপক বিষ্ণু চন্দ্র সাহা। অগ্রণী ব্যাংক পরিচালক বলরাম পোদ্দার এবং জি এম বাবুল কুমার সাহা।
জনতা ব্যাংক পরিচালক, মানিক চন্দ্র দে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক মহা ব্যবস্থাপক, রোহিনী কুমার পাল ও উপ মহা ব্যবস্থাপক যথাক্রমে, ঠাকুর দাস কুন্ড ও গান্ধী কুমার রায়।
কর্মসংস্থাপন ব্যাংক মহা পরিচালক, গোকুল চন্দ্র রায়।
এইভাবে রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাদের নিয়োগ রয়েছে। আর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তো আছেনই। আশ্চর্য্য লাগে, যেখানে শতকরা ৯০জনের উপরে মুসলমানের বাস, এবং শতকরা ৮জনের নিচে হিন্দু বাস, তারপর সাংবিধানিক ইসলামিক রাষ্ট্র। সেখানে এ কোন ধরণের কারসাজি? সাধারণ মানুষ এখন জানতে চায়, এসব কার স্বার্থে? এসব কিসের পায়তারা?
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের গত ৭ বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকা গায়েব হওয়ার হিসাব দেখিয়েছে প্রথম শ্রেণীর একটি জাতীয় দৈনিক। এ প্রতিবেদনটি যখন প্রকাশিত হয় তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮শ কোটি টাকা অর্থ লুটের খবরে বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠে। আজ অনেকে ভাবছেন বাংলাদেশকি সেই বটমলেস বাস্কেটের দিকে চলে যাবে?
এছাড়া এখন শুনা যাচ্ছে, ভারতীয় লোকদের বাংলা আঞ্চলিক শিখিয়ে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীতে সরকার লোক নিয়োগ দিয়েছে। আর এরাই খুন ও গুমের দায়িত্ব পালন করছে। ১৩মার্চ ২০১৫ যমুনা টিভি ভূয়া ঠিকানায় পুলিশ নিয়োগের উপর এক ডকুমেন্টারী দেখিয়েছে। ইদানিং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সারা জাতি দেখছে। ঐ ডকুমেন্টারিতে দেখা গেছে. ঢাকা জেলার শুধু কেরানীগঞ্জের চরকুন্দলিয়া গ্রামে ২০০ বসতবাড়ীর মধ্যে পাশ করেন প্রায় ৫শত লোক। আর ঐ গ্রাম থেকে পুলিশে নিয়োগ পেয়েছেন ১৮৬জন তরুণ। কিন্তুু আশ্চর্য্যের ব্যাপার গ্রামের কোন মানুষই ১৮৬জন পুলিশের মধ্যে কাউকে চিনতে পারেন নাই। শেষ পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান অফিসে গিয়ে দেখা গেলো, ভোটার লিস্টেও ওদের কোন নাম নেই। অদ্ভুত কান্ড, এখন প্রশ্ন ওরা কে? ওরা কোথা থেকে আসলো? এবং ডিজিটাল বাংলাদেশে আইনশৃঙঙ্খলা বাহিনীতে ওরা কারা? সাধারণ মানুষ এখন বলছে, বাংলাদেশের পুলিশ, বিডিআর, র‌্যাব ওরা কখনও মানুষকে গুলি করেনা। যারা এসব করছে তারা সবই ভিনদেশী। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক মহল বলছেন বাংলাদেশের মাটিতে এ কোন পদধ্বনী শোনা যাচ্ছে? আমাদের সার্বভৌমত্ব আজ কার হাতে?
পাঠক, এই লিখাটি লেখার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এমাজ উদ্দিন স্যারের লেখা একটি কলাম আমার বার বার মনে হচ্ছিল। সেই কলামের একটি অংশ হবহু লিখে আমার লেখাটি শেষ করবো।

অন্নদাশংকর রায় পশ্চিম বঙ্গের একজন খ্যাতনামা লেখক ও বুদ্ধিজীবি। অখন্ড ভারতের অন্যতম প্রবক্তা, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও বাঙালী সত্তার প্রচারক। সেই বাঙালি সত্তার প্রচারককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বাঙালিদের এই রাষ্ট্রের (বাংলাদেশে) পশ্চিমবঙ্গ কেন যোগ দেয়না? তাহলে তো ২০ কোটি বাঙালি এক হয়ে যুক্তবঙ্গ রচনা করত। সেটা কি আপনারা চান না? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, যুক্তবঙ্গ যদি ভারতের বাইরে হয়, তবে পশ্চিম বঙ্গ তাতে রাজী হবেনা। কারণ, আপনারা যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন, আমরা তেমনি ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়েছি। পরে সংবিধান রচনা করি। সে সংবিধানে বিচ্ছিন্নতা নিষেধ। এরপরও তিনি বলেছেন, তা ছাড়া বাংলাদেশ এখন মুসলিম বাংলা। বিশ্ব মুসলিম সম্মিলনের (Organisation of Islamic conferenpce OIC) সদস্য তার সাথে যোগদান অসম্ভব। তিনি অবশ্য বলেন নি, ভারতের ভিতর হলে পশ্চিমবঙ্গ কি করবে? বাংলাদেশ ভারতের অন্তভুক্ত হলে নিশ্চয়ই অন্নদাশ শঙ্কর রায়ের কোন আপত্তি থাকবে না, তা ধরে নেয়া যায়। যেমন, আপত্তি নেই লালকৃষ্ণ আদভানিদের, আপত্তি নেই আর এস এস এবং শিব সেনা পরিবারের নেতৃবৃন্দের।

পাঠক, শূন্য গণতন্ত্রে দেশ আজ গভীর চক্রান্তে নিপেতিত। লিখাটি সমষ্টি করলে প্রতিয়মান হয়, বিশেষ একটি গোষ্টির বিশেষ পরিকল্পনায় বাংলাদেশ হাঁটছে। আবারও বাংলার মাটিতে জগৎশেট, উমিঁচাদ ও রাজ বল্লবের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন ভাবছে, তাহলে ডিডিজটাল বাংলাদেশ কি ৪৭ সালের ১৪ই আগষ্টের পূর্বে চলে যাচ্ছে? যেখানে থাকবেনা শুনু ইংরেজদের শাসন, থাকবে অন্য কারো শাসন ও শোষন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম। তখন আমরা পেয়েছিলাম মুসলিমদের বাসযোগ্য স্থান, যার নাম ছিল পাকিস্তান (ইষ্ট পাকিস্তান)। (৪৭এ আলাদা হওয়ার মূলে ছিল কিন্তুু দ্বিজাতীয় তত্ব। নইলে আমরা পশ্চিম বাংলার সাথে থাকতে পারতাম) । সেখানে ছিল আমাদের ধর্ম, বর্ণ, শিক্ষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি। অতঃপর অনাকাঙ্খিত পাক হানাদারদের শাসন ও শোষণ। যার ফলে ৫২এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচন, তারই ধারাবাহিকতায় ৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন স্বার্বভৌম একটি দেশ, তার নাম বাংলাদেশ। শতকরা ৯০জন এর উপরে মুসলিম বাসযোগ্য দেশ, মুসলিম জনসংখ্যার দিকে দুনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ, বাংলাদেশ। যে দেশে রাষ্ট্র ধর্ম ও ইসলাম। এত সব গৌরব ও কৃতিত্বের অধিকারী বাংলাদেশ। এতো সব অর্জন!
৪৭ থেকে এ পর্যন্ত এসব অর্জন কি বিসর্জন হতে চলেছে? তাহলে কি হাসিনা সরকার রিভার্স গিয়ারে পা দিলো?

লেখক ও কলামিস্ট
সায়েক এম রহমান
উপদেষ্টা সম্পাদক জনতার আওয়াজ ডটকম
সহসভাপতি জাতীয় মানবাধিকার সমিতি

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ