তাড়াতাড়ি পদত্যাগ করেন দেশের মানুষ মুক্তি পাক : দুদু
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
সোমবার, নভেম্বর ২১, ২০২২ ৮:২২ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
সোমবার, নভেম্বর ২১, ২০২২ ৮:২২ অপরাহ্ণ

সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, আপনারা (সরকার) ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে যত তাড়াতাড়ি পদত্যাগ করবেন তত তাড়াতাড়ি এদেশের মানুষ মুক্তি পাবে।
সোমবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘অর্পণ বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দুদু বলেন, আমার কাছে মনে হয় না এই সরকারের সময় খুব বেশিদিন আছে। যদি ভালই ভালই সম্মানের সাথে এই সরকার চলে যায় তাহলে ভালো। তবে তাদের একটাই পথ আছে পদত্যাগ করা,পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেওয়া। নির্বাচন কমিশন পুনরায় গঠন করা। আগে থেকেই যদি এই কাজটা করে তাহলে সম্মানজনক প্রস্থান হবে। আমরা কাউকে অসম্মান করতে চাই না। কিন্তু সরকার সম্মানিত ভাবে না; অসম্মানিতভাবে যাবে এটা তাদের চিন্তা ভাবনা করা উচিত।
তিনি বলেন, এই সরকারকে যেতেই হবে। এটা মুক্তিযুদ্ধের দেশ, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। ৩০ লক্ষ শহীদের দেশ। এখানে প্রতারণা করে গুন্ডামি করে ক্ষমতায় থাকা যাবে এটা ভাবা ঠিক হবে না।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, পৃথিবীর এমন কোন দেশ নাই যেখানে বিএনপির লোক নাই। তারেক রহমান তার জন্মদিন পালনে এই মুহূর্তে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন না। কারণ হলো দেশের মানুষ ভালো নাই। গত ৫০ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে এত খারাপ অবস্থায় কখনো এদেশের মানুষ ছিল না। একমাত্র দুর্নীতিগ্রস্ত, সরকারের বিশেষ সুবিধাভোগি ছাড়া শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ কষ্টে আছে। অর্থ সংকটে, নিরাপত্তা সংকটে, শিক্ষা সংকটে আছে মানুষ।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ শুধু যে খাবার সংকটে আছে তা নয়। নিরাপত্তা সংকটেও আছে। বাহিরে বের হলে ঘরে ফিরতে পারবে কিনা এর কোন নিশ্চয়তা নাই। শিক্ষা সংকটের কথা বলেছি এই কারণে যে বাবা মায়েরা তাদের সন্তানদেরকে যেভাবে শিক্ষিত করে তুলতে চান সেই পরিস্থিতি এখন নেই। দেশে কাগজের সংকট, শিক্ষা উপকরণের সংকট, কৃষি উপকরণের সংকট, উৎপাদিত দ্রব্যমূলক সংকট, শ্রমিকদের মিল কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাদের বেতন দিচ্ছে না ছাঁটাই করছে। যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের অবস্থাও ভালো না। এমন একটা পরিস্থিতিতে দেশ নায়ক তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করা ঠিক হবে না বলেই তিনি জাগজমক ভাবে করতে নিষেধ করেছেন। যার জনপ্রিয়তা বেগম খালেদা জিয়ার মতই আকাশচুম্বী। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে হয় বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রী হতেন। আর না হলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হতেন। এটাই বাস্তবতা। আর আওয়ামী লীগের ভাগ্যে ১০ টি সিট জুটতো এটা ভাবাও কঠিন।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, শেখ হাসিনা যদি সরকারের আসনে না থাকতো। পার্লামেন্ট যদি ভেঙে দেওয়া হতো। আর এই সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন না থাকে তাহলে এদের পরিণতি কি হবে বলা মুশকিল। কারণ তারা নিজেরাই বলে তারা যদি ক্ষমতায় না থাকতে পারে তাহলে তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন তিনিও টের পেয়েছেন আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগের আশ্রিত তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরাও এদেশে থাকতে পারবে না। কেন থাকতে পারবে না? বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ছিলেন, আওয়ামী লীগ ছিল। এখন এ প্রশ্ন উঠছে কেন? এসব তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা এত অপকর্ম করেছে যে তারা বুঝতে পেরেছে তাদের পায়ের নিচে মাটি নাই। আর পায়ের নিচে মাটি না থাকলে থাকবেন কেমনে নিচে নেমে যাবেন তো। এটাই বাস্তবতা।
তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান স্বাধীন, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ চেয়েছিলেন। এটা কি তার অপরাধ? তার বাবা স্বাধীনতার ঘোষক। এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি। রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। তার মা এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী এবং তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতার সাথে কোন মিল নেই। তিনি তারেক রহমান এদেশের মানুষের হৃদয়ে আছেন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি বিথিকা বিনতে হোসাইন এর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোঃ রহমতুল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ১নং সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, জিনাফ সভাপতি লায়ন মিয়া মোঃ আনোয়ার, সারোয়া প্রমুখ।
জনতার আওয়াজ/আ আ