তারেক রহমান: রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথপরিক্রমা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ এবার অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এবারের নির্বাচনে এককভাবে ২১১ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। শুরু হয়েছে নতুন সরকারের যাত্রা।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে তার রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন এবং কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। নির্বাসনে থেকেও তিনি দল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আর ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য বিরামহীন সংগ্রাম করেছেন।
তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর। তিনি এমন এক পারিবারিক পরিবেশে বড় হয়েছেন, যেখানে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা হতো।
তিনি ১৯৮৮ সালে গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করেন। গাবতলী উপজেলা হলো তার পিতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান, যা উত্তরবঙ্গের বগুড়া জেলায় অবস্থিত।
তারেক রহমান ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন। এর আগে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তার দলের পক্ষে জনমত গঠনের সুযোগ পান। বেগম খালেদা জিয়া যে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, দলের ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজি কমিটি’র সদস্য হিসেবে তারেক রহমান সেসব আসনের নির্বাচনি প্রচারের সমন্বয় করেন। ওই পাঁচ আসনে তার মায়ের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করে, তিনি একজন দক্ষ সংগঠক এবং ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্বে আসার যোগ্য হয়ে উঠছেন। তিনি বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আদর্শ রাজনৈতিক মূল্যবোধ অর্জন করেন।
তারেক রহমান ২০০১ সালের নির্বাচনেও প্রচারের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আবারও তার দক্ষ নেতৃত্বের প্রমাণ দেন। বিএনপি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সেই নির্বাচনে জয়লাভ করে। বিজয়ের পর ২০০২ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করে।
রাজনীতিতে তারেক রহমান যখন বিকশিত হচ্ছিলেন, তখন আসে কুখ্যাত সেনা-সমর্থিত অবৈধ ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ১/১১ সরকার নিষ্ঠুর, কূটকৌশল ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
রাজনীতি থেকে তারেক রহমানকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
নির্মম নির্যাতনে মেরুদণ্ডের গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং বাধ্য হয়ে নির্বাসনে থাকার পথ বেছে নেন। কিন্তু অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে অনলাইনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।
নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
হাসিনার শাসনকালে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে তার অনুপস্থিতিতে ১৭টি মিথ্যা মামলা করা হয়। তিনি ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অপপ্রচারের পরও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
তারেক রহমান জনগণের নেতা হিসেবে রাজনৈতিক ময়দানে অবিচল ছিলেন। তিনি বাবার প্রতিষ্ঠিত দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন এবং তার নেতৃত্বে জনসমর্থনের মাধ্যমে দলের তৃণমূলভিত্তি ক্রমাগত বিস্তৃত ও সুদৃঢ় হয়েছে।
২০১৮ সালে মা বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা অভিযোগে কারাগারে বন্দি হন। তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। তখন থেকেই তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।
নির্বাসনে থাকলেও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তারেক রহমান থেমে থাকেননি। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার পথ সুগম হয়। এরপর আসে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বরের সেই ঐতিহাসিক দিন। সেদিন তিনি বীরের বেশে দেশের মাটিতে পা রাখেন। বিশাল জনসমুদ্রে তার প্রাণবন্ত কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অ্যান্ড ফর দ্য কান্ট্রি।’
প্রায় ১৭ বছর পর তাকে ফিরে পেয়ে পুরো জাতি যখন বিজয়ের আনন্দে ভাসছিল, তখন বাংলাদেশ আরেকটি দুঃসংবাদ পেল। তার দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পর মা বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমান দলের চেয়ারম্যান হন, যা অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে অনিবার্য ছিল।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থান উত্তরাধিকার সূত্রে হয়নি, বরং তিনি তার নেতৃত্ব গুণ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, অন্তর্দৃষ্টি, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার কারণে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষে উঠে এসেছেন। কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা ও ধৈর্যের সমন্বয়ে তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতিকে অপশাসন, অরাজকতা, নিপীড়ন, জোর-জবরদস্তি ও দমনপীড়নের অচলাবস্থা থেকে বের করে আনবেন। তিনি জনগণকে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেবেন। তার সেই প্রতিশ্রুতি মানুষের হৃদয় জয় করেছে এবং এর ফলে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিশাল জয় পেয়েছে।
মঙ্গলবার তিনি বাংলাদেশের ১৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের নেতা বেছে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুরু হয়েছে তারেক রহমানের পথ চলা।
সূত্র: বাসস
জনতার আওয়াজ/আ আ