তিনদিনের অবরোধে ৩৪ অগ্নিসংযোগ, চলেনি দূর পাল্লার যানবাহন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২, ২০২৩ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২, ২০২৩ ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ডাকা অবরোধ কর্মসূচির তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীতে দুটি বাসসহ
বিএনপি ও জামায়াতের তিনদিনের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সারাদেশে ৩৪টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর। এদিকে অবরোধ চলাকালে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো থেকে দূর পাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।
আজ সকালে উত্তরার আজমপুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে এবং ভোরে মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তরা আজমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিস্থান পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে কে বা কারা। সকাল ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থান বাসে যাত্রীবেশে উঠে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ সময় গাড়িতে ১২ থেকে ১৪ জন যাত্রী ছিল। আগুন লাগিয়ে পেছনের জানালা দিয়ে পালিয়ে যায় কয়েক যুবক।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ডিউটি অফিসার জানান, সকাল ৭টায় ওই গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে ভোর পৌনে ৫টার দিকে মোহাম্মদপুরে মৌমিতা পরিবহনের দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দেয় কে বা কারা।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ ভাঙা মসজিদ এলাকায় মৌমিতা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড়ানো ছিল। এ সময় দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন দেয়। পরে সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত আগুন নেভান।
বৃহস্পতিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ৩১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা থেকে ২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩ দিন উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক মোট ৩৪টি আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এরমধ্যে ঢাকা সিটিতে ১২টি।
এতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিভাগে (গাজীপুর, কালিয়াকৈর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ) ৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে (সীতাকুণ্ড, কর্ণফুলি, রাঙ্গুনিয়া, ফেনী, চাঁদপুর, বায়েজিদ) ৮টি, রাজশাহী বিভাগে (বগুড়া, রায়গঞ্জ) ৪টি, রংপুর বিভাগে (পার্বতীপুর) ১টি, বরিশাল বিভাগে (চরফ্যাশন) ১টি, ময়মনসিংহ বিভাগ (কেন্দুয়া) ১টি ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনায় ১৮টি বাস, ৪টি কাভার্ড ভ্যান, ৫টি ট্রাক, ১টি প্রাইভেটকার, ৩টি মোটরসাইকেল, ২টি বাণিজ্যিক পণ্যের শো রুম, ১টি পুলিশ বক্স পুড়ে যায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিনের বেলা থেকে রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এই তিন দিনে মোট ৩৪টি আগুনের মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত ১৯টি আগুনের ঘটনা ঘটে এবং বাকি ১৫টি দিনের অন্যান্য সময় সংঘটিত হয়েছে।
পর্যালোচনায় আরো দেখা গেছে, দিনের বেলা সংঘটিত আগুনের মধ্যে দিনের শুরুতে অগ্নিকাণ্ড বেশি সংঘটিত হয়েছে। দিনের ১৫টি আগুনের ঘটনার মধ্যে সকাল ৬টা থেকে সকাল ১১টার মধ্যে ৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এদিকে ১ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে ২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮টি আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে ৪টি, ময়মনসিংহ বিভাগে (কেন্দুয়া) ১টি, চট্টগ্রাম বিভাগে (রাঙ্গুনিয়া, ফেনী) ২টি, ঢাকা বিভাগে (নারায়ণগঞ্জ) ১টি আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৫টি বাস, ১টি প্রাইভেটকার, ১টি ট্রাক পুড়ে যায়।
অপরদিকে ২৮ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত (৫ দিন) উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক মোট ৮২টি আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এরমধ্যে ২৮ অক্টোবর ২৯টি, ২৯ অক্টোবর ১৯টি, ৩০ অক্টোবর ১টি, ৩১ অক্টোবর ১১টি, ১ নভেম্বর ১৪টি, ২ নভেম্বর ৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।
যাত্রীশূন্য বাস টার্মিনাল, চলেনি দূরপাল্লার বাস
অবরোধের তৃতীয় দিনে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস চলাচল করেনি।
দেখা গেছে বুধবারের মতো ফাঁকা ছিল গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকা। সড়কে দু’একটি গণপরিবহন চলাচল করলেও কোনো দূরপাল্লার বাসের দেখা মেলেনি। বাস টার্মিনাল থেকেও কোনো বাস ছাড়া হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবরোধ আতঙ্ক ও যাত্রীশূন্যতায় মালিকরা বাস ছাড়েনি। বাস বন্ধের প্রভাবে জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে আগ্রহী যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। টার্মিনালে এসে বাস না পাওয়ায় অনেকে বিকল্প উপায়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ