তেলের দীর্ঘ লাইন উধাও, কয়েকটি কারণের কথা বলছেন পাম্পমালিকেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ২, ২০২৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ২, ২০২৬ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশি ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের দীর্ঘ লাইন কমে যাওয়ার মূল কারণগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
তেলের লাইন উধাও হওয়ার প্রধান কারণসমূহ
- সরবরাহ বৃদ্ধি: গত ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে গত ১০ দিনে চাহিদার তুলনায় অকটেন ৫০% এবং পেট্রোল ১৫% বেশি সরবরাহ করা হয়েছে।
- মূল্যবৃদ্ধি: ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে অবৈধ মজুতদারদের প্রবণতা কমেছে এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে রাখার আতঙ্ক দূর হয়েছে।
- ভীতি ও অনিশ্চয়তা হ্রাস: ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতির ফলে প্রশমিত হয়েছে। ফলে মানুষের মধ্যে তেলের সংকট নিয়ে ভীতি কেটে গেছে।
- সরকারি নজরদারি ও ‘ফুয়েল পাস’: ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করায় একই গাড়ির বারবার তেল নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। এছাড়া অবৈধ মজুত রোধে সরকারের নিয়মিত অভিযানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমান মজুত পরিস্থিতি (২৮ এপ্রিল পর্যন্ত)
| জ্বালানির ধরন | বর্তমান মজুত | মে মাসের সম্ভাব্য চাহিদা |
| ডিজেল | ১,৮১,০০০ টন | ৩,৭০,০০০ টন |
| অকটেন | ৪২,৯৩৩ টন | ৩৭,০০০ টন |
| পেট্রোল | ১৭,৬৪০ টন |
বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানের মতে, “জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য তেল কেনার দরপত্র ইতিমধ্যে আহ্বান করা হয়েছে।”
পাম্প মালিকদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এবং আতঙ্ক কেটে যাওয়ায় গ্রাহকরা এখন স্বাভাবিক সময়ের মতোই তেল সংগ্রহ করছেন।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট ও বর্তমান স্থিতিশীলতা: একটি পর্যালোচনা
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছিল, মে মাসের শুরুতেই সেই চিত্র বদলে গেছে। বর্তমানে রাজধানীসহ সারা দেশের পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এবং গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি উধাও হয়েছে। এই নাটকীয় পরিবর্তনের নেপথ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করেছে।
১. সরবরাহ বৃদ্ধি ও রেশনিং ব্যবস্থার অবসান
পাম্প মালিকদের মতে, গত ২০ এপ্রিল থেকে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় অকটেন ৫০% এবং পেট্রোল ১৫% বেশি সরবরাহ করা হয়েছে। এর আগে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে কিছুটা রেশনিং বা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করায় সেই আতঙ্ক কেটে গেছে।
২. মূল্যবৃদ্ধি ও অবৈধ মজুত হ্রাস
গত ১৮ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা করা হয়। দাম বেড়ে যাওয়ায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ মজুত করার প্রবণতা কমেছে। এছাড়া সাধারণ গ্রাহকরাও এখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে রাখছেন না, যা বাজারে তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করেছে।
৩. বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতির প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানকেন্দ্রিক উত্তোজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশেও। তবে সম্প্রতি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হয়েছে। এতে আমদানির পথ সুগম হয়েছে এবং মানুষের মনে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার যে ভীতি ছিল তা দূর হয়েছে।
৪. ফুয়েল পাস ও সরকারি নজরদারি
পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট গাড়ি দিনে কতবার তেল নিচ্ছে তা ট্র্যাকিং করা সহজ হয়েছে, যা একই গাড়ির বারবার তেল নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও তেলের মজুত নিয়ে গুজব ঠেকানোর প্রচারণাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
৫. বর্তমান মজুত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। বিপিসি-র তথ্য অনুযায়ী:
- ডিজেল: মজুত আছে ১,৮১,০০০ টন (মে মাসে চাহিদা ৩.৭ লাখ টন)।
- অকটেন: মজুত আছে ৪২,৯৩৩ টন (মে মাসে চাহিদা ৩৭ হাজার টন)।
- পেট্রোল: মজুত আছে ১৭,৬৪০ টন (যা নিয়মিত দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়)।
জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য তেল কেনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে সামনের দিনগুলোতেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
Source: প্রথম আলো
জনতার আওয়াজ/আ আ