দেশে – বিদেশে বরণ্য ব্যাক্তির দৃষ্টি তে শহীদ জিয়া কেমন ছিলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
শনিবার, মে ৩০, ২০২৬ ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
শনিবার, মে ৩০, ২০২৬ ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ

ধারাবাহিক পর্ব —- ১.
নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
আজ ৩০ শে মে ২০২৬। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক , আধুনিক স্বনির্ভর বাংলাদেশের রুপকারক , বহুদলীয় গণতন্ত্রে স্থপতি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নির্বাচিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আরব জাহান সহ বিশ্বের সবচেয়ে নন্দিত রাষ্ট্র নায়ক, বাংলাদেশের কোটি কোঠি গন ও জন মানুষের হৃযের রাখাল রাজা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী। সেই মহান মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে জেট ফোর্সের অধিনায়ক ( ১ নং সেক্টরের অধিনায়ক) বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউর রহমানের টিমের তৎকালিন সেকেন্ড লেপ্টেনেন্ট মেহফুজ, ক্যাপ্টেন একরামুল করিম (বাবলু) ও তৎকালিন ই, পি, আর এর সুবেদার মুন্সি রবিউল হক সহ আরো অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা বৃন্দের সাথে শুভপুর – ছাগনাইয়া বেল্টে একজন গেরিলা সোর্সের কাজ করার সুবাদে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, জেড ফোর্সের অধিনায়ক মেজর জিয়া কে চেনা এবং জানার সৌভাগ্যে আমার হয়েছিল।
পরবর্তীতে ৭৫ পট পরিবর্তন ১৯৭৭ সালে তাঁর ঘটিত জাগ দলের সুচনা লগ্ন থেক আজ অবধি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকান্ডের প্রত্যক্ষ্য ও পরক্ষ্য ভাবে একজন কর্মি হিসাবে আমি সেই মহান নেতা – দেশের জন নন্দিত রাখাল রাজার বিদায়ী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। অন্তরের অন্তস্তল থেকে তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ , শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছরই শহীদ জিয়া কে নিয়ে স্মৃতি চারন করে আসছি। ভাবছি এবার বিন্ন আংগিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে দেশের গুনিজন, রাজনিতিকের পাশাপাশি আরব জাহান ও বিশ্বের বরণ্য রাষ্ট্র প্রধান আর সরকার প্রধান বর্গ কি স্মৃতি চারন করেছিলেন তা নিয়ে দালিলিক ভাবে বর্তমান প্রজন্মের জন্য কিছু বিষয় আমার ক্ষুদ্র প্রয়াসে তুলে ধরবো।
প্রথমে শুরু করতে চাই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রয়াত মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানীর কটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি দিয়ে শুরি করছি ——

বাংলাদেশের নিখুঁত দেশ প্রেমিক নেতাদের তালিকা তৈরী করলে সর্ব পর্থম যে নামটি আসে তা হলো মজলুম জন নেতা মরহুম আবদুল হামিদ খাঁন ভাষানীর নাম। কারন বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম তৈরীর প্রেক্ষাপটে গনতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে কৃষক শ্রমিক সহ সর্বস্তরের মেহনতি মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মওলানা ভাসানী ছিলেন এক আলোক উজ্জ্বল মহান আদর্শের প্রতিক।
১৯৭৫ সালের শরু থেকে গুরতর অসুস্থ হয়ে পি জি হাসপাতালে শয্যাশায়ী ছিলেন মজলুম জন নেতা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী। সেই সময়ে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল খুবেই টালমাটাল অবস্থায়। যার প্রেক্ষিতে দেশের রাজনীতিতে নানা পালাবদল হয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন হাত বদল হয়ে জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের অধীনে দেশের ক্ষমতায় এসেছিলেন। ঐ সময়ে মওলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী মৃত্যু শয্যায় থেকে জিয়াউর রহমান কে খোলাখুলি ভাবে সমর্থনের সাথে দেশ বাসীর নিকট জিয়াউর রহমানের জন্য দোয়া ছেয়েছিলেন। সেই সময়ে তৎকালিন “তুমুদ্ধিন মজলিসের ” কয়েকজন নেতা মওলানা ভাসানী কে দেখতে পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তিঁনাদের মাঝে ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ জনাব অধ্যাপক আবদুল গফুর। এক পর্যায়ে আবদুল গফুর বিনয়ের সাথে ভাসানী কে প্রশ্ন করলেন – হুজুর আপনি গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সংগ্রামের এক আদর্শিক হয়ে কি ভাবে একজন সামরিক শাসক কে আপনার সমর্থন দিলেন। মওলানা আবদুল হামিদ খাঁন ভাসানী মুমুর্শ অবস্থায় থেকেও চোখ খুলে তাঁর অটল দৃড়তার সাথে বলেছিলেন , শুন গফুর – আমি তোমার বাবার বয়সী। আমার জীবনের অভিজ্ঞতা ও তোমার চাইতে বহুগুণে বেশী। আমি বৃটিশ আমল দেখেছি , পাকিস্তান আমল দেখেছি , আবার বাংলাদেশের অবস্থাও দেখছি। তুমি আমাকে একটি উধাহরন দাও কোন রাজনৈতিক নেতা কি দুর্নীতি মুক্ত ছিল? কেউ কি স্বজন প্রীতি থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পেরেছে?? পৃথিবীর ইতিহাসে কোন সেনা শাসক তাঁর দেশে বহুদলীয় গনতন্ত্রের ভীত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন??? কেউ কি জিয়ার মত দেশপ্রেমিক ও স্বচ্ছ মানসিকতার ছিল????
আবদুল গফুর ভাসানীর প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নিশ্চুপ হয়ে মাথা নিচু করে বসেছিল।
হুজুর ( ভাসানী) প্রেমময়ী কন্ঠে বলেছিলেন – শুন আবদুল গফুর জিয়ার প্রতি আমার ব্যক্তিগত কোন দুর্বলতা নেই। আজ পর্যন্ত কি এমন রাষ্ট্র নায়ক পাওয়া যাবে, যে তার আত্বীয় – স্বজন কে কোন না কোন কুট কৌশলে রাজনীতি আর ব্যবসায় সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেননি?
বাবা গফুর জিয়াই একমাত্র রাষ্ট্র নায়ক যে তার সকল স্তরের তত্বীয় – স্বজনদের ওসবের বাহিরে রেখেছেন। বলতো গফুর জিয়ার ভাই ব্রাদার কয় জন? তুমি কি জিয়ার কাছের কিম্বা দুরের কোন আত্বীয় স্বজনদের নাম বলতে পারবে? আমি মৃত্যু পথের যাত্রী। জানিনা আর কতদিন বাঁচবো। আমি দেশ – জাতির কল্লানে জিয়াকে সহযোগিতা করতে পারবো কিনা। তাই বলছি তোমরা জিয়াকে সহযগিতা করে দেশ জাতি কে সুরক্ষিত রাখার জন্য সচেষ্ট হও। দোযা করি মহান রাব্বুল আল্ আমিন যেন জিয়া কে দেশ ও দেশের মানুষদের কল্যাণে এবং মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কে পরাশক্তির থাবা থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অনন্তকাল হেফাজত করেন।
চলবে—-
২য় পর্বে থাকছে — আমেরিকার তদকালিন তৎকালিন জাতিসংঘের মহাসচিব রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর মতামত ও শহীদ জিয়া কে নিয়ে তাঁর কালজয়ী প্রশংসা।
লেখক —- নজরুল ইসলাম চৌধুরী। সাবেক সভাপতি ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
জনতার আওয়াজ/আ আ