দেশে ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে: চট্টগ্রামের ডিসি - জনতার আওয়াজ
  • আজ বিকাল ৫:৩৬, বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
  • jonotarawaz24@gmail.com
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

দেশে ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে: চট্টগ্রামের ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ২:৪০ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ: বুধবার, জুন ১০, ২০২৬ ২:৪০ অপরাহ্ণ

 

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবিঃ সংগৃহীত
দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে নগরীর পিটিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক জেলা পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

গ্রাম আদালতের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অনেক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত
ন্যায়বিচার পাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত একটি সফল উদ্যোগ। এই কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক অংশগ্রহণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বুধবার গণশুনানিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা নিয়ে আসেন। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, অনেক সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান করা সম্ভব ছিল। যদি আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব আরও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতাম, তাহলে মানুষের ভোগান্তি
অনেকাংশে কমে যেত।’

জেলা প্রশাসক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর সভা-সেমিনারে অংশ নিই, নানা পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করি। কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে- বাস্তবে আমরা কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছি? জনগণ কি আমাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে? আপনার কাছে যে নাগরিকটি সেবা নিতে আসে, সে যেন কাঙ্ক্ষিত সেবা নিয়ে ফিরে যেতে পারে। আপনার কর্মস্থলকে সেবার সুবাসে ও মানবিকতার সৌরভে ভরিয়ে তুলুন। মানুষ যেন আপনাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখতে পারে। আমরা এমন একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সবাই নিরাপদ থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি সুন্দর সমাজ পাবে। সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো নাগরিক যেন সেবাবঞ্চিত না হয়- সেটি নিশ্চিত করতে হবে।’

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ইপসা’র পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু শ্যামলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম আনোয়ার ভূঁইয়া।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প’-এর আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন। এতে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), ১৯১টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টকর্মকর্তারা অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন বলেন, গ্রাম আদালতের সেবামানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক ও সেবামুখী মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম আদালত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। যেসব ইউনিয়নে মামলার সংখ্যা শূন্য বা অত্যন্ত কম, বিশেষ করে মিরসরাইয়ের কয়েকটি ইউনিয়নের উদাহরণ তুলে ধরে সেখানে জনসচেতনতা বৃদ্ধি,আস্থা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ এবং গ্রাম আদালতের
কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মামলার নথি,রেজিস্টার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিজ দায়িত্বে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 
 
জনতার আওয়াজ/আ আ
 
 

জনপ্রিয় সংবাদ

 

সর্বোচ্চ পঠিত সংবাদ