দেশের মানুষ ৭১ সালেই তাদেরকে দেখেছে: জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক, জনতার আওয়াজ ডটকম
প্রকাশের তারিখ:
রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫ ৯:০৪ অপরাহ্ণ পরিবর্তনের তারিখ:
রবিবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২৫ ৯:০৪ অপরাহ্ণ

জনতার আওয়াজ ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘কিছু কিছু মানুষ বা কোনো কোনো গোষ্ঠীকে ইদানিং বলতে শুনছি—অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, এবার অমুককে দেখুন। তাদেরকে তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। ১৯৭১ সালে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কীভাবে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে—দেশবাসী তা দেখেছে। ঠিক যেভাবে স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে ক্ষমতা ধরে রাখতে হাজারো মানুষকে হত্যা করেছিল। যাদেরকে আজ কেউ কেউ আবার দেখতে বলছে, তাদেরকে দেশের মানুষ ৭১ সালেই দেখেছে। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তারা শুধু মানুষ হত্যা করেনি, তাদের সহকর্মীরা মা–বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুণ্ঠন করেছে— এ কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে।’
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে বিজয়ের মাস উপলক্ষে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘শুনছি কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভিন্ন জিনিসের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন কিছুর কনফার্মেশন দিচ্ছে। কিন্তু দোযখ বা বেহেশত—দুনিয়ার সবকিছুর মালিক আল্লাহ। এগুলো একমাত্র আল্লাহই বলতে পারেন। তোমাদের ঘরে ঘরে গিয়ে বলতে হবে—যারা এসব কথা বলে তারা শিরক করছে। আর তাদের কথা শুনলে আপনিও শিরকের পর্যায়ে পড়ে যাবেন। কে কোথায় যাবে, কার ইহকালে ও পরকালে কী হবে—এ সিদ্ধান্ত একমাত্র আল্লাহর।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার যেমন বিএনপিকে নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাতো, এখন দেখছি কিছু ব্যক্তি বা দল ঠিক একই সুরে কথা বলার চেষ্টা করছে। সেই সময় সরকারের সঙ্গে থাকা দু’জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি—যারা এখন আর বেঁচে নেই—তারা শেষ দিন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই সরকারের অংশ ছিলেন। খালেদা জিয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন বলেই তারা শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন।’
২০০১–২০০৬ সালের বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি রোধে সক্ষম একমাত্র বিএনপি। অতীতে আমরা করেছি, ভবিষ্যতেও তা করতে পারব ইনশাআল্লাহ। বিএনপি সরকার বিভিন্ন বাহিনী গঠন করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়েছিল। পরে স্বৈরাচার সেগুলো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে।’
আগামী সময়কে কঠিন বলে উল্লেখ করে তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে পারে কেবল জনগণ—জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি। ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে গণতন্ত্র। জনগণের মতামত প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।”
তিনি বলেন, ‘আমরা দুই মাস পর একটি নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। আমরা জনগণের কাছে যাব, তাদের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেব। আমাদের লক্ষ্য–উদ্দেশ্য জনগণের সামনে তুলে ধরব।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে হবে। কিন্তু দুইটি বিষয় চিহ্নিত না করতে পারলে দেশ সংকটে পড়বে—এক, দুর্নীতি; দুই, আইনশৃঙ্খলা। যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির লাগাম টানতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। না হলে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে। সরকার গঠন করতে পারলে প্রথমেই এ দুই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কানাডা বা যুক্তরাষ্ট্র বানাতে চায় না। আমরা চাই একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ— যেখানে মানুষের কর্মসংস্থান থাকবে, মানুষ শান্তিতে থাকবে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। দুর্নীতির লাগাম কষে আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ধর্মের নামে দেশে বিভাজনের চেষ্টা চলছে। আমরা ধর্মবিশ্বাসী হলেও ধর্মকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র বা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করার বিরোধিতা করি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি ছিল— সবার বাংলাদেশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপিই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবে।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ‘দেশ গড়া পরিকল্পনা’ কমিটির আহ্বায়ক রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।
জনতার আওয়াজ/আ আ